সাহিত্য

ফররুখ আহমদের গল্প

মুকুল চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-১০-২০১৯ ইং ০০:১৩:৪৪ | সংবাদটি ১১০ বার পঠিত

কবি ফররুখ আহমদের পাঁচটি গল্প নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয় আবদুল মান্নান সৈয়দের সম্পাদনায়, জানুয়ারি ১৯৯০ সালে। গল্পগ্রন্থটি প্রকাশ করে সৃজন প্রকাশনী লিমিটেড।
‘ফররুখ আহমদের গল্প’- শিরোনামের গ্রন্থ দেখে স্বভাবতই আমরা পুলকিত হই। শিহরিত হই। অনেকে আবার বিস্মিত হই। যদিও ফররুখের পাঠক হিসেবে তাঁর সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা সম্পর্কে আমরা জ্ঞাত আছি। সংগীত- অনুবাদ-প্রবন্ধ-শিশুসাহিত্য,Ñ কবিতার পাশাপাশি ফররুখ আহমদ এসবেও নিবিষ্ট ছিলেন। কিন্তু গল্প? ফররুখ আহমদ গল্পও লিখেছেন! এ আশ্চর্যবোধক প্রশ্নটির জন্য পাঠককে দায়ী করা চলে না। বড় লেখকরা এভাবেই বিলম্বে আবিষ্কৃত হন। আবিষ্কৃত হয় তাঁদের বহুমাত্রিকতা। উদ্ভাসিত হন নতুন শিল্প নৈপুণ্যের সমুজ্জ্বলতায়। যেমন ‘সমালোচনা সমগ্র জীবনানন্দ দাশ’ (আবদুল মান্নান সৈয়দ সম্পাদিত, দ্বিতীয় সংস্করণ: ২২ অক্টোবর ১৯৮৬, রূপম প্রকাশনী, ঢাকা) কিংবা ‘জীবনানন্দ দাশের গল্প’ (সুকুমার ঘোষ ও সুবিনয় মুস্তাফী সম্পাদিত, প্রকাশকাল ১৯৭২) কিংবা ‘মানিক বন্দোপাধ্যায়ের কবিতা’ (যুগান্তর চক্রবর্তী সম্পাদিত, ১৯৭১) পড়ে আমরা অবহিত হই জীবনানন্দ দাশ এবং মানিক বন্দোপাধ্যায় শুধুমাত্র কবি এবং কথাশিল্পীই নন। এঁরা স্ব-স্ব ক্ষেত্রের বাইরেও সাহিত্যে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছেন। নতুন পরিচয়ে চমকিত করেছেন মৃত্যু-পরবর্তী পাঠককে। শক্তি এবং স্বাতন্ত্র্যের মাত্রা যুক্ত করে নতুন পাঠকের কাছে নবরূপে উদ্ভাসিত হয়েছেন।
তবে এ সবের জন্য পাঠককে অপেক্ষা করতে হয় এক- একজন আবিষ্কারক-গবেষকের জন্য। ফররুখ আহমদের ক্ষেত্রে এ ভূমিকায় অগ্রণী ছিলেন কবি ও গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দ। কবি ফররুখ আহমদ ইন্তেকাল করেন ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর। তার মৃত্যু-পরবর্তী প্রথম স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয় ২৩ অক্টোবর ১৯৭৪ তারিখে বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে। ঐ স্মরণসভায় ‘ফররুখ আহমদ ঃ কবি’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন আবদুল মান্নান সৈয়দ, যার মধ্য দিয়ে তার ফররুখ-চর্চার শুরু। এরপর দীর্ঘ তিন-চার দশকে ফররুখ আহমদের উপর যে কাজ হয়েছে তার অধিকাংশই সম্পাদিত হয়েছে তার হাত দিয়ে। কবির মৃত্যুর অব্যাবহিত পরে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ (প্রকাশক: ফররুখ স্মৃতি তহবিলের পক্ষে মুহম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রকাশকাল : ১০ জুন ১৯৭৫)। পরবর্তীতে মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহর সংগে যৌথভাবে ‘ফররুখ রচনাবলি’র প্রথম খ- সম্পাদনা করেন (প্রকাশক: বাংলা একাডেমির পক্ষে আহমদ পাবলিশিং হাউজ, প্রকাশকাল : অক্টোবর ১৯৭৯)। আরও পরে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় তার ‘ফররুখ আহমদ’ (জীবনী-গ্রন্থ) এবং ‘ফররুখ আহমদ ঃ জীবন ও সাহিত্য’ (প্রকাশকাল : জুন ১৯৯৩)। বাংলা একাডেমি থেকে চার খ-ে প্রকাশিতব্য ‘ফররুখ আহমদের রচনাবলি’-এর দুই খ- ইতিমধ্যে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে (প্রথম খ-ের প্রকাশকাল জুন ১৯৯৫)। এর আগে ফররুখ আহমদের প্রেমের কবিতা ‘দিলরুবা’র (প্রকাশক: চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্র, প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪) ভূমিকা লেখে আবদুল মান্নান সৈয়দ ‘ফররুখ-কাব্যের আরেকটি মধুময় কক্ষ’ আমাদের সামনে উদঘাটন করেন।
আলোচ্য-গ্রন্থের মাধ্যমে আবদুল মান্নান সৈয়দ অন্য এক ফররুখ আহমদকে আবিষ্কার করলেন আমাদের সামনে। তার ভাষায়, এ আবিষ্কার ‘একটি সাহিত্যিক ঘটনা’। ‘সাহিত্যিক ঘটনা’ তো বটেই। কাব্য-পৃথিবীর বাইরে ফররুখ আহমদের পৃথিবী বলে আমরা জানতাম তার গান, শিশুসাহিত্য, অনুবাদ কবিতা এবং গুটিকয়েক অথচ অতিচেতন জাগ্রত প্রবন্ধকে। এ গ্রন্থ অন্য আরেক পৃথিবীর ফররুখকে উদ্ঘাটন করেছে। যার সাথে তাঁর চেনা পৃথিবীর কোন মিল নেই। আবদুল মান্নান সৈয়দের ভাষায় ঃ ‘যে-জগৎ এখানে রূপায়িত হয়েছে, তার সঙ্গে ফররুখের কাব্য পৃথিবীর কোন মিল নেই। ব্যঙ্গবিদ্রƒপময় ফররুখের পরবর্তী তিক্ত কবিতাগুচ্ছের সঙ্গে এর একটুখানি সমান্তরালতা আছে হয়তো কিংবা ‘রাজরাজড়া’ নামের ব্যঙ্গাত্মক গদ্য নাটকের সঙ্গেও হয়তোÑ তবু, শেষ পর্যন্ত, সে-সব তির্যক দর্পণ। তাঁর গল্পগুচ্ছে, ঐএকবারই, ফররুখ বাস্তবকে সরাসরি মোকাবিলা করেছেন।’ (ভূমিকা দ্রষ্টব্য)
গ্রন্থভুক্ত গল্পের সংখ্যা পাঁচটি। মৃত-বসুধা, বিবর্ণ, অন্তর্লীন, যে পুতুল ডলির মা এবং প্রচ্ছন্ন নায়িকা। পাঁচটি গল্পই ফররুখ আহমদের প্রথম জীবনের রচনা। ফররুখ আহমদের (জন্ম : ১৯১৮, মৃত্যু : ১৯৭৪) সাহিত্যিক জীবনের শুরু ১৯৩৭ সালে। এবং মৃত্যুর অব্যবহিত পূর্বেও তিনি লিখেছেন। যদিও আর্থিক, শারীরিক এবং মানসিক যন্ত্রণায় তখন তিনি ছিলেন লৌহবিদ্ধ। ১৯৩৭ থেকে ১৯৭৪ Ñতার এ দীর্ঘ ৩৮ বছরের সাহিত্যিক জীবন আবার দু’পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্ব ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭৪। প্রথম পর্ব কেটেছে কলকাতায়, দ্বিতীয় পর্ব বাংলা সাহিত্যের নতুন রাজধানী ঢাকায়। আলোচ্য গল্পগুলো তাঁর প্রথম পর্বের লেখা। এবং একই সময়ে তিনি কবিতাও লিখছেন। অনেকেই যেমন গল্প দিয়ে শুরু করেন, স্থিত হন কবিতায়; কিংবা কবিতা দিয়ে শুরু করে স্থিত হন গল্পে বা প্রবন্ধে। ফররুখ আহমদের ক্ষেত্রে সে রকম কিছু না। তিনি কবিতা দিয়েই শুরু করেছেন। আবদুল মান্নান সৈয়দের অনুসন্ধান অনুযায়ী তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩৪৪, খ্রিষ্টীয় ১৯৩৭ সালে। ‘বুলবুল’-এ প্রকাশিত (শ্রাবণ ১৩৪৪) ‘রাত্রি’ সনেটটিই তার প্রথম প্রকাশিত কবিতা। এবং তার পরের মাস অর্থাৎ ভাদ্র ১৩৪৪- এ মাসিক মোহাম্মদীতে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গল্প ‘অন্তর্লীন’। ‘বিবর্ণ’, মৃত বসুধা ও প্রচ্ছন্ন নায়িকাও প্রকাশিত হয় মাসিক মোহাম্মদীতে। ‘যে পুতুল ডলির মা’ প্রকাশিত হয় হাবীবুল্লাহ বাহার ও শামসুননাহার সম্পাদিত ‘বুলবুল’ (বৈশাখ ১৩৪৫) পত্রিকায়। গল্প পাঁচটির প্রকাশকাল বাংলা ১৩৪৪ থেকে ১৩৪৬, খ্রিষ্টীয় ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯। একই সময়ে তিনি কবিতাও লিখেছেন। ‘বুলবুল’, ‘মোহাম্মদী’ ও ‘সওগাত’ পত্রিকায় প্রকাশিত তার ঐ সময়কার (১৩৪৪-১৩৪৬) ষোলটি কবিতার একটি তালিকা আবদুল মান্নান সৈয়দ তার ভূমিকার পরিশিষ্টে সন্নিবেশিত করেছেন। সুতরাং ফররুখ আহমদ কবিতার অবসরে কিংবা রুচি পরিবর্তনের লক্ষ্যে গল্পগুলো লিখেননি। লিখেছেন সাহিত্যিক তাগিদ থেকে। আবদুল মান্নান সৈয়দের ভূমিকা থেকে আরও জানা যায়, ফররুখ আহমদ একটি উপন্যাসও লেখা শুরু করেছিলেন ঃ ‘মৃত্তিকা’ (সম্পাদক: কাজি আফসার উদ্দিন আহমদ) পত্রিকায় ‘সিকান্দার শা-র ঘোড়া’ নামে ফররুখের একটি অসম্পূর্ণ কথাসাহিত্যিক গদ্য প্রকাশিত হয়েছিল( আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৫৩)। রচনাটির শেষে লেখা ছিল ‘ক্রমশ:’, পত্রিকায় আর বেরোয়নি।” আবদুল মান্নান সৈয়দ আরও জানাচ্ছেন ঃ ‘ফররুখ পরবর্তীকালে কথাসাহিত্য মাধ্যমটিই বর্জন করেন, এবং পুরো আতœনিয়োগ করেন কবিতা চর্চায়।’ ফররুখ আহমদ কেন আর গল্পচর্চা করেননি সেটি এক রহস্যই বটে। তবে, অনুমান করা যায়, ক্রমশ আদর্শবাদীতায় নিমজ্জিত ফররুখ তার আদর্শ উজ্জীবনের জন্য গল্প-উপন্যাসের চেয়ে হয়তো বা কবিতাকেই শ্রেষ্ট মাধ্যম বিবেচনা করায় কবিতাতেই সম্পূর্ণ আত্মমগ্ন হয়ে যান।
মাত্র পাঁচটি গল্প (এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত) লিখেই ফররুখ সমকালে পাঠক-সমালোচকের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। ‘আশ্চর্যজনক এই সংবাদ যে ফররুখ আহমদ সম্পর্কে প্রথম যে-মন্তব্য আমরা পাই, তা তাঁর কবিতা সম্পর্কে নয়-গল্প সম্বন্ধেই। তা থেকে মনে হয়, অল্প কয়েকটি গল্প লিখেই ফররুখ সমকালীন পাঠক-সমালোচকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।’ (আব্দুল মান্নান সৈয়দ,ভূমিকা দ্রষ্টব্য)
তাই স্বভাবতই তাঁর এ পাঁচটি গল্প নিয়ে আমাদেরও কৌতুহল উদ্রেক হয়। কি সেই গল্পের বিষয়? আবদুল মান্নান সৈয়দের বিশ্লেষণ ঃ “ ‘মৃত বসুধা’ গল্পের পটভূমি গ্রাম; বাকি গল্পগুলির পটভূমি নগর-কলকাতা। --- গল্পগুলিতে একটি শ^াসরোধী আবহাওয়া আছে। ---‘মৃত বসুধা’ গল্পটি সমতল, বর্ণনাত্মক একলক্ষ্য সুপ্রচুর উপমার পর উপমার মালা গাঁথা হয়েছে। --- ‘বিবর্ণ’ গল্পটি একেবারে তুচ্ছ, সামান্য একটি বিষয় নিয়ে। গল্পে উপমা- উৎপ্রেক্ষার প্রাচুর্য। প্রকৃতির প্রতীক পুনঃপুনঃ প্রযুক্ত হয়েছে। ---‘অন্তর্লীন’ও হতাশার গল্প। ---‘যে পুতুল ডলির মা’ একটু যেন সাংকেতিক রেখায় আঁকা। --- ‘প্রছন্ন নায়িকা’ ফররুখ আহমদের সবচেয়ে পরিণত ও শ্রেষ্ঠ গল্প। ভাষার বুনোটের দিক থেকে পাকা অনেক চরিত্রায়নের দিক থেকেও পাকা হাতের পরিচয় মেলে। প্রধান তিন চরিত্র- হারুণ, ওয়াজেদ ও সালমা- কে খুব স্বচ্ছ স্পষ্টভাবেই চেনা যায়। নায়ক হারুণ আদর্শবাদী, একটু বাম-ঘেঁষা, আবেগী আবার কঠোর। --- ওয়াজেদ শাহেব আদর্শনিষ্ঠ, আত্মবিশ^াসী, সর্বত্যাগী কর্মী। গল্পের নায়িকা সালেমা বেগম সন্তান পিপাসায় কাতর।--- গল্পের শেষটি একেবারে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায়-যন্ত্রণায় দীর্ণ কিন্তু তারই মধ্যে হারুণ আবার সঞ্জীবিত- উজ্জীবিত হয়ে উঠবে, এ রকম একটি ইঙ্গিত আছে মনে হয়।”
“পাঁচটি গল্পেই অবক্ষয়, শীত , নাস্তির একচ্ছত্র রাজত্ব। ফররুখ যদি শুধু এই পাঁচটি গল্প লিখতেন তা’হলে তাঁকে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা যেতো একজন শূন্যতাবাদী ও অবক্ষয়ী লেখক হিসেবে। কিন্তু তারপরেও নিবিড় পাঠে দেখা যাবে (‘মৃত বসুধা’ ও ‘প্রচ্ছন্ন নায়িকা’ গল্পদ্বয় বিশেষভাবে স্মরণীয়) ফররুখ নিবির্চার ভোগবাদকে সমর্থন করেননি বরং তার বিরোধিতাই করেছেন। সমকালীন জীবনের ছাপ এইসব গল্পে প্রবল-প্রচুর। কলকাতা মহানগরী নানাভাবেই উপস্থিত।” (ভূমিকা দ্রষ্টব্য)
ফররুখ আহমদের গল্প-ভাষা কি কবিতাক্রান্ত? এর জবাবও আবদুল মান্নান সৈয়দ তার ভূমিকায় প্রযুক্ত করেছেনঃ “এই গল্পগুলি যখন লিখছেন ফররুখ, তখনো তিনি তো কবিতা লিখছেন। সুতরাং কবির রচনা যখন, তখন কাব্যকুশলতা তো প্রযুক্ত হবেই। হয়েছেও। এবং দেখা গেছে, ফররুখের এইসব কাব্যকুশলতা গদ্যকর্মেরই সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।”
ফররুখ আহমদের গল্পের পটভূমি মুসলিম জনজীবন। গল্পে যৌনতাও এসেছে (যা ফররুখের কবিতার আদর্শ-বিরুদ্ধ)। কিন্তু এ যৌনতা ভোগবাদের সমর্থক না হয়ে বিরুদ্ধতা হিসেবে আত্মপ্রকাশিত হয়েছে। আবদুল মান্নান সৈয়দের ভাষায়ঃ “ফররুখ তাঁর স্বভাবী বলিষ্ঠতায় এখানে যৌনতাকেও ব্যবহার করেছেন, কিন্তু কোনো মর্বিড়িটির আশ্রয় নেননি। যৌনতাকে তিনি অকপটে উন্মোচন করেছেন। --- এখানে যে সাহস ফররুখ দেখিয়েছেন, তা শিল্পীর সাহস ঃ অর্ধনগ্নতা একে কদর্য করে দিতো।”
ফররুখ আহমদের এ গল্পগুচ্ছ তাঁর বহুমাত্রিকতা, বহুবিধতা, বহুচারণতার প্রতীক। এবং আমাদের সাহিত্যের এক নতুন অনুসঙ্গ। ফররুখ আহমদকে জানার, তাঁর সাহিত্য-পৃথিবীকে উপলব্ধির আরেক সমুজ্জ্বল মাত্রা। তাঁর পরিচয়ের পরিধিতে সম্প্রসারিত অন্য এক নতুন অথচ অচেনা ভুবন। যেখানে কবি ফররুখ আহমদের সংগে কথাশিল্পী ফররুখ আহমদের পার্থক্য সুচিহ্নিত। আবদুল মান্নান সৈয়দ যথার্থই মন্তব্য করেছেনঃ “ফররুখ আহমদের সমগ্র সাহিত্যকর্মে একটি অভিনব, এতোকাল-অভাবিত, বাস্তব অথচ দিব্য মাত্রা যোজনা করছে এই একগুচ্ছ গল্প।”
আর এর জন্য ধন্যবাদের হৃদয়-মাল্য আবদুল মান্নান সৈয়দেরও প্রাপ্য। সৈয়দের ফররুখ চর্চায়ও এ এক ভিন্নতর ব্যঞ্জনা এনে দিয়েছে। এনেছে স্বনিযুক্তির মহার্ঘ আত্মতৃপ্তি। তাঁর ভূমিকাতেই এ প্রমাণ প্রকট। শুধু সম্পাদনা করেই তিনি ক্ষান্ত হননি। গল্পগুলোকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে একে তরল করে মেলে ধরেছেন পাঠকের হৃদয়লোকেও।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT