শেষের পাতা মৌলভীবাজারে ৬ উপজেলা ও ১ পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলন

শুদ্ধি অভিযানের প্রভাব পড়বে কাউন্সিলে

মৌলভীবাজার থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-১০-২০১৯ ইং ০৩:১৫:৩৯ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত

মৌলভীবাজারের ৬ উপজেলা ও ১ পৌর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে ঘিরে জেলায় ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা চলছে। ২/১টি উপজেলায় দীর্ঘ ২ যুগ, আবার ৪ উপজেলায় ১৫ বছর পর কাউন্সিল হচ্ছে। অথচ দলীয় সংবিধানে ৩ বছর পর পর কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জেলার একটি উপজেলায়ও এ চর্চা হয়নি। দীর্ঘদিনের এই সিন্ডিকেট ভেঙে নতুন নেতৃত্বের আশা করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এক্ষেত্রে চলমান শুদ্ধি অভিযানের প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ কাউন্সিলে কতটুকু দলীয় সংবিধান মানা হবে এনিয়ে সংশয় কাজ করছে নেতা-কর্মীদের মধ্যে।
উপজেলা সম্মেলনকে ঘিরে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। পদ-পদবী নিজেদের দখলে নিতে স্থানীয় নেতারা কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূলের কাউন্সিলরদের দ্বারে দ্বারে ধর্না দিচ্ছেন। সম্মেলনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা। কারা প্রার্থী হচ্ছেন, এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলছেন, এ যাবৎ যারা দলের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করেছেন তাদেরকে দলীয় পদে নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হবে না। তাদের বেলায় দল কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যারা দলের দুর্দিনে মাঠে ছিলেন তাদেরকেই অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
এদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিছবাহুদ্দোজাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এনিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে আলোচনা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল ১২ অক্টোবর জুড়ী উপজেলা সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে এবং আজ ১৩ অক্টোবর শ্রীমঙ্গল উপজেলা সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। উভয় সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি ও আগামী মাসে মৌলভীবাজার পৌরসভা, কমলগঞ্জ সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার সম্মেলন সম্পন্ন হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি। চলমান কমিটি দীর্ঘদিন থাকার পরও দলকে গোছাতে পারেনি। ৩ বছর পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কোন সম্মেলন হয়নি, এমনকি এই সময়ের মধ্যে উপজেলার কোন ইউনিয়নেও কমিটি গঠন হয়নি। বরং দলের ভেতরে ভেতরে একাধিক গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নানা অজুহাতে অনেক নেতৃস্থানীয় নেতাদেরকে অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায়। দলের এই অবস্থার পরিবর্তন চাচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। ২০০৪ সালে সম্মেলন ও কাউন্সিল হয়েছিল। সেই সম্মেলনে মো. আব্দুল মতিনকে সভাপতি ও রফিকুল ইসলাম রেনুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ সদস্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ৩ বছর মেয়াদী এই কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বহু আগেই। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ার কারণে বর্তমান উপজেলা কমিটির অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ অনুপস্থিত রয়েছেন। ইতিমধ্যে কমিটির ১৩ জন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন, ৪ জন স্থায়ীভাবে প্রবাসে বসবাস করছেন, বার্ধক্যজনিত কারণে অনেকেই রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। ফলে নানা কারণে দলটিতে বিরাজ করছে স্থবিরতা। সবমিলিয়ে আসন্ন কাউন্সিলকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তবে এক কেন্দ্রীক রাজনীতি থেকে মুক্তি পাবেন কি না এনিয়ে তৃণমূলে সংশয় বিরাজ করছে।
অপরদিকে রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের আগে হঠাৎ করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মিছবাহুদ্দোজাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এনিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে আলোচনা। প্রায় ২৫ বছর ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি। রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, গত উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬ জনের নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রে একটি তালিকা পাঠানো হয়। কেন্দ্র থেকে দলীয় ‘নৌকা’ প্রতীকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আছকির খানকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মিছবাহুদ্দোজা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছাতির মিয়া ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহজাহান খান। ভোটের দিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মো. আছকির খান।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সম্মেলনের তারিখ দিলেও বর্ধিত সভা আহ্বান করতে গিয়ে বিপত্তি দেখা দেয়। সাধারণ সম্পাদক মো. আছকির খান উপজেলা সভাপতির সঙ্গে বসতে অস্বীকার করেন এবং উপজেলা সভাপতি নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নেত্রীর কাছে করা ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন- উল্লেখ করে দলীয় কোনো সভায় তার সঙ্গে বসবেন না বলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বরাবর অভিযোগ দেন।
অপরদিকে গত ২৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আহমদ হোসেন উপজেলা নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে জেলা আওয়ামী লীগকে নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার আলোকে জেলা আওয়ামী লীগ গত ২৭ আগস্ট এক পত্রের মাধ্যমে উপজেলা সভাপতি আলহাজ্ব মিছবাহুদ্দোজাকে অব্যাহতি দেয়। এছাড়াও নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কেউ যাতে কোন পদে না আসেন- এ ব্যাপারেও দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিছবাহুর রহমান বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাজনগর উপজেলা সভাপতির ন্যায় অন্যদের বেলায়ও পর্যায়ক্রমে দল ব্যবস্থা নেবে। সম্মেলনের ক্ষেত্রে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করবো না। সম্মেলনে আগত কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতেই পদ পূরণ করা হবে।

 

 

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্বে নির্মল-বাবু
  • কর্মচারীদের দাবি শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে ---- বিভাগীয় কমিশনার
  • সিলেটে তিনদিনে কর আদায় ১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা
  • সিলেটে ডিজেল সংকট
  • তাদের ভালোবাসা দিন, অসাধারণ সাফল্যে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে
  • টাইগারদের লজ্জাজনক হার
  • যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরাইলী বোমা
  • ১৬ কোটি মানুষের দেশে ২৫ ভাগ গাছ কীভাবে রক্ষা হবে-----পরিবেশমন্ত্রী
  • ছবি
  • জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তীব্র গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে --------চরমোনাই পীর
  • ব্রিটিশ বাংলাদেশি হুজহু’র ১২তম প্রকাশনা ও এওয়ার্ড প্রদান
  • এমপি মানিকের বিরুদ্ধে বক্তব্যের প্রতিবাদে ছাতকে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ
  • স্বামী বিবেকানন্দের ভাবধারায় উজ্জীবিত হোক যুব সম্প্রদায় ------- এল কৃষ্ণমূর্তি
  • অবৈধপথে আসা ভারতীয় পেঁয়াজসহ দুইজন আটক
  • ফেসবুকের কাছে ১২৩ জনের তথ্য চেয়েছে সরকার
  • ভারতের ‘রান পাহাড়ে’ কোনঠাসা টাইগাররা
  • ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ হারালেন নির্মাণ শ্রমিক
  • সিলেটে কর মেলায় দুই দিনে আদায় ৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা
  • ‘বিশ্বের মুসলিমরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও বাবরী মসজিদ রক্ষা করবে’
  • সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সভা আজ
  • Developed by: Sparkle IT