স্বাস্থ্য কুশল

শিশুর ডায়রিয়া হলে

আবদুল্লাহ শাহরিয়ার প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-১০-২০১৯ ইং ০১:২০:০৩ | সংবাদটি ৯৯ বার পঠিত

অক্টোবর মাস চলে এলেও তেমন তাপদাহ কমেনি। আর এরকম ভ্যাপসা আবহাওয়া হলো জীবাণু বিস্তারের উপযুক্ত পরিবেশ। এ সময় ছোট-বড় সবাই পেটের সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং পানিশূন্যতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। গ্রামের শিশুদের তুলনায় শহরের শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
ডায়রিয়া একটি খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ। অর্থাৎ রোগজীবাণু খাদ্য ও পানির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। দুই বছরের নিচে শিশুর ডায়রিয়ার প্রধান কারণ হলো রোটা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এই ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া সাধারণত তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। ডায়রিয়ার সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো পানিশূন্যতা। পানিশূন্যতা দেখা দিলে শিশু দুর্বল হয়ে পড়ে। শিশুর প্রস্রাব কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়, এমনকি শিশুর প্রাণহানি হতে পারে।
শিশুর পানিশূন্যতা বোঝার উপায় : অস্থির ভাব। খিটখিটে মেজাজ বা নিস্তেজ হয়ে যাওয়া। চোখ গর্তে ঢুকে যাওয়া। তৃষ্ণার্ত ভাব বা একেবারেই খেতে না পারা। বারবার বমি হওয়া ষ চামড়া ঢিলা হয়ে যাওয়া। পানিশূন্যতার মাত্রা ভেদে শিশুর চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। উপরে উল্লিখিত লক্ষণগুলোর যে কোনো একটি থাকলেই শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে।
পানিশূন্যতা রোধে যা করতে হবে : শিশুকে বেশি করে খাওয়ার স্যালাইন ও তরল খাবার- যেমন ভাতের মাড়, চিড়ার পানি, ডাবের পানি, টক দই, ঘোল, ফলের রস ও লবণ-গুড়ের শরবত খেতে দিন। অনেকে মনে করেন, স্যালাইন খাওয়ালেই ডায়রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে, এমন ধারণা সত্যি নয়। ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে যে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়, স্যালাইন তা পূরণ করে মাত্র। সম্পূর্ণ এক প্যাকেট ছাড়া গোলাবেন না- এতে লবণের মাত্রা কমবেশি হতে পারে এবং শিশুদের মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রতিবার পায়খানার পর ১০ থেকে ১৫ চামচ স্যালাইন শিশুকে খেতে দিন। স্যালাইন খাওয়াতে হবে ধীরে ধীরে। একবারে বেশি দিলে শিশুর বমি হতে পারে বা পায়খানা বেড়ে যাবে।
শিশুকে পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার দিন : শিশুর বয়স যদি ছয় মাসের কম হয়, তাহলে তাকে বারবার মায়ের দুধ খেতে দিন। শিশুর বয়স ছয় মাসের বেশি হলে বুকের দুধের পাশাপাশি পরিবারের খাবার অবশ্যই দিতে হবে। অনেক পরিবার শিশুর ডায়রিয়া হলে শিশুকে মাছ, মাংস, ডাল, কলা, শাকসবজি খেতে দেন না; শুধু চালের গুঁড়া, বার্লি বা জাউভাত খেতে দেন। অসুস্থ অবস্থায় শিশুকে স্বাভাবিক খাবার খেতে না দিলে পরে শিশুর অপুষ্টি দেখা দিতে পারে।
কাঁচকলা সিদ্ধ করে নরম ভাতের সঙ্গে চটকে দিন বা খিচুড়ির সঙ্গে কাঁচকলা দিন। প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিন তৈরি করুন। সারাদিন কমপক্ষে ছয়বার, অর্থাৎ তিন-চার ঘণ্টা পরপর শিশুকে খাবার দিন। অল্প করে দিলে শিশুর পক্ষে খাবার হজম করা সহজ হবে। ১৫ দিনের জন্য জিংক সিরাপ বা বড়ি খেতে দিন।
কখন শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে : পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে। স্যালাইন বা অন্যান্য খাবার খেতে না পারলে। অতিরিক্ত তৃষ্ণাভাব থাকলে। খুব বেশি পরিমাণ পানির মতো পায়খানা হলে। বারবার বমি হলে বা তীব্র জ্বর থাকলে। পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে। ১৪ দিনের বেশি ডায়রিয়া থাকলে।
মনে রাখবেন : জন্মের পরপরই শিশুকে শাল দুধ দিন এবং ছয় মাস পর্যন্ত বুকের দুধ খেতে দিন। শিশুকে বোতল দিয়ে দুধ এমনকি মায়ের দুধও খাওয়াবেন না। চালের গুঁড়া খাওয়াবেন না। শিশুকে নিয়মিত টিকা দিন। খাবার ও পানি ঢেকে রাখুন বাইরের খাবার শিশুকে খাওয়াবেন না। বাসি খাবারও দেবেন না। পানি কমপক্ষে আধা ঘণ্টা ফুটিয়ে শিশুকে খাওয়ান। ফোটানো পানি দিয়ে শিশুর হাত, মুখ ধোয়াবেন, গোসল করাবেন, বাটি, চামচ ধুয়ে নিন। ব্রাশ করার পর ফোটানো পানি ব্যবহার করুন। শিশুকে মৌসুমি ফল খেতে দিন। ডায়রিয়া শুরু হলেই অ্যান্টিবায়োটিক বা মেট্রোনিডাজল-জাতীয় ওষুধ খাওয়াবেন না। পায়খানা বন্ধ করার কোনো ওষুধ নেই। শিশুর যতœ নিন, ধৈর্য ধরুন। সম্ভব হলে শিশুর বয়স ছয় মাসের কম হলে রোটা ভাইরাসের টিকা দিন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT