স্বাস্থ্য কুশল

পিত্তথলির পাথর

মো. ফজলুল কবির পাভেল প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-১০-২০১৯ ইং ০১:২০:৩৮ | সংবাদটি ১২৮ বার পঠিত

পিত্তথলি আমাদের লিভার বা যকৃতের নিচের দিকে থাকে। যেখানে লিভার থেকে বাইল বা পিত্ত এসে জমা থাকে এবং পিত্তথলিতে পিত্তরস ঘন হয়। আমরা যখন চর্বি জাতীয় খাবার খাই তখন হজমের জন্য পিত্তথলি থেকে বাইল বেরিয়ে আমাদের খাদ্যনালিতে চলে আসে এবং হজমে সহায়তা করে। এই পিত্তরসের বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি হয় পিত্তথলির পাথর। কোলেস্টেরল স্টোন, পিগমেন্ট আর মিশ্র এই তিন ধরনের পাথর শরীরে দেখা দেয়। তবে এদের মধ্যে কোলেস্টেরল স্টোন বেশি হয়।
পিত্তথলিতে পাথর হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো উপসর্গ থাকে না। প্রায় ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে বিভিন্ন চেকআপের সময়। আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় পিত্তথলির পাথর ধরা পড়ে। পিত্তথলির পাথর থাকলে অনেক সময় পেটের ডান দিকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এ ব্যথার স্থায়িত্বকাল কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। ব্যথা ধীরে ধীরে ডান কাঁধ বরাবর ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হালকা জ্বরও থাকতে পারে, বমি বা বমির ভাব থাকে। পাথর যদি পিত্তনালিতে চলে আসে তখন দেখা দেয় জন্ডিস।
পিত্তথলির পাথর চিকিৎসার প্রধান উপায় হলো অপারেশন। দুইভাবে অপারেশন করা যায়। পেট কেটে আবার লেপারস্কোপিক মেশিনের সাহায্যে। তবে লেপারস্কোপিক মেশিনের সাহায্যে অপারেশন করা সুবিধাজনক। রক্তপাত কম হয়, দাগ থাকে না এবং এক দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। সব সময় আবার লেপারস্কোপিক অপারেশন করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে কেটে অপারেশন করতে হয়।
পাথর থাকা সত্ত্বেও অপারেশন করা না হলে পিত্তথলির প্রদাহ হতে পারে। এর ফলে পেটের ডান দিকে তীব্র ব্যথাসহ জ্বর আসতে পারে এবং বমিও হতে পারে। এ ব্যথা কাঁধ পর্যন্ত ছাড়াতে পারে। পিত্তথলির পাথর মূল পিত্তনালিতে এসে জমা হতে পারে। তখন বাইল শরীর থেকে বের না হতে পেরে শরীর বেড়ে যায়। দেখা দেয় জন্ডিস। এছাড়া অপারেশন না করলে প্যানক্রিয়েটাইটিস বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ হতে পারে। পিত্তথলির পাথর মূল পিত্তনালি থেকে নেমে অগ্ন্যাশয়ের নালিতে আটকে গিয়ে একিউট প্যানক্রিয়েটাইটিস বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এক্ষেত্রে হঠাৎ পেটের মাঝখানে তীব্র ব্যথাসহ প্রচুর বমি হতে পারে। ব্যথা পিঠেও ছড়িয়ে যেতে পারে। ব্যথা এতই তীব্র হয় যে, রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর না করলে রোগীর মৃত্যু হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। অনেক দিন পাথর থাকার জন্য পিত্তথলির ক্যান্সারও হতে পারে।
তাই পিত্তথলির পাথর থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অবহেলা করা যাবে না। অবহেলা করলে বিপদের আশঙ্কা অনেক বেশি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT