মহিলা সমাজ

‘পড়ন্ত বিকেলের ভাবনা’

জেবা আমাতুল হান্না প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-১০-২০১৯ ইং ০১:০৯:২২ | সংবাদটি ১১২ বার পঠিত

পড়ন্ত বিকেলের ভাবনা একটি গল্প সংকলন। লেখকের নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনার কিছুটা প্রতিফলন কোনো কোনো গল্পে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়। সে ঘটনায় থাকে নিজের জীবনে বাস্তবে ঘটতে না পারা কিছু আশার বাস্তবায়ন।
‘পড়ন্ত বিকেলের ভাবনা’ সংকলনে রয়েছে পনেরোটি গল্প, ‘¯েœহের বাঁধন, ভালোবাসার অন্তরালে, তিন বোন, মনের অজান্তে, মল্লিকা, নির্মম বাস্তবতা, পড়ন্ত বিকেলের ভাবনা, জীবনের খেলা, অসমাপ্ত পরিণতি, ফুলভানু, যাত্রা, আকাশের অনুভূতি, ঝরে যাওয়া, অতলান্ত, দাগ’।
নিজের জীবন ও লেখালেখি নিয়ে লেখকের নিজস্ব যে অভিমত, তাতে তাঁর চিন্তা চেতনা ও জীবন দর্শন স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। স্কুল জীবনে প্রথম মিষ্টি স্কুল ম্যাগাজিনে। এরপর আলপনা নামক একটি সংকলনে আমার প্রথম লিখা প্রকাশিত হয়। লেখালেখিতে আমার অভ্যাস না থাকলেও ইচ্ছে ছিলো, মনের তাগিদ ছিলো লিখতে। কিন্তু লেখার চাইতে ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক ছিলো বেশি। সময় ও সুযোগ পেলে ছবি আঁকার পেছনে সারাদিন কাটিয়ে দিতাম। অনেক ছবি এঁকেছি, এখনো মাঝে মধ্যে মন চাইলে আঁকি, তবে তা নিজের জন্য। পরিবারের সবাই ও আত্মীয় স্বজন আমার ছবি আঁকার প্রশংসা করতেন এবং উৎসাহ দিতেন। আমাকে বলা হয়েছিলো ছবির প্রদর্শনী করতে কিন্তু আমি করিনি।
সিলেট ফরেস্টহিল কিন্ডার গার্টেনে আমি বহু বছর যাবৎ শিক্ষিকা পদে নিয়োজিত আছি। ঐ স্কুলে সবাই আমার ছবি আঁকার প্রশংসা করে। অভিভাবক ও বাচ্চারা আমার ছবি আঁকায় মুগ্ধ সব সময়। ছোটবেলায় দেখতাম আমার মেজ ভাইকে মাঝে মধ্যে ছবি আঁকতে, উনার ছবি আঁকার হাত ছিলো খুব ভালো। সুন্দর করে আঁকতেন। আমি পাশে বসে উনার ছবি আঁকা দেখতাম। মেজ ভাই আমাকে উৎসাহ দিতেন ছবি আঁকতে। সে থেকে ছবি আঁকতে আমি আকৃষ্ট হই।
আমাদের পরিবারে আমার বড় ভাই কবি ও ছড়াকার মঈনুল ইসলাম চৌধুরী সব সময় লিখতেন। উনার লেখা ছড়া, কবিতাগুলো আমাকে খুব আকৃষ্ট করতো, আর সেখান থেকেই আমি প্রেরণা পাই লিখতে। তবে আমার লেখার পেছনে অকৃত্রিম ভালোবাসা উৎসাহ উদ্দীপনা এবং অফুরন্ত অবদান যার, তিনি হচ্ছন আমার পরম প্রিয় শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক সুহৃদ মায়া ওয়াহেদ। তিনি ছিলেন শিশুতোষ ত্রৈমাসিক শিশু পত্রিকার সম্পাদক। উনার সাথে আমি দীর্ঘ পাঁচ বছর ঐ পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক পদে নিয়োজিত থেকে ঐ পত্রিকাতেও নিয়মিত লিখেছি। সে থেকে উনার প্রবল ইচ্ছে শক্তির বদৌলতে আজ আমি এ পর্যন্ত এসেছি এবং তার প্রতিফলন আজ আমার প্রকাশিত ছোট গল্পের বই ‘পড়ন্ত বিকেলের ভাবনা’।
পরিবারে আমার ভাই বোন ও আমার প্রিয় শুভাকাক্সক্ষীদের কাছ থেকেও অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা ও প্রেরণা পেয়েছি লিখতে। এ পর্যন্ত তাই ভালোমন্দ মিলিয়ে লিখার জগতে আছি।
সিলেটের বহুল প্রচারিত ‘দৈনিক সিলেটের ডাক’ পত্রিকায় নিয়মিত লিখছি। এছাড়াও সিলেট লেখিকা সংঘের সাথে বহুদিন থেকে জড়িত আছি এবং লিখছি। এ সংঘের একজন নিয়মিত সদস্য হিসেবে আছি। এ বইয়ে আমার পছন্দের গল্পগুলো হলো ‘পড়ন্ত বিকেলের ভাবনা, ঝরে যাওয়া, মনের অজান্তে, যাত্রা, তিন বোন’।
আশাকরি পাঠক বইটি পড়বেন। পরিশেষে গ্রন্থটির বহুল প্রচার ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT