ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন

আতিকুর রহমান প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-১০-২০১৯ ইং ০১:১০:৫৬ | সংবাদটি ১০৮ বার পঠিত


[পূর্ব প্রকাশের পর]
(তাং সোমবার, ১১ পৌষ ১৪০৭ বাংলা, ২০ ডিসেম্বর ২০০০ খ্রি., দৈনিক গিরিদর্পণ, রাঙ্গামাটি।)
মাননীয় বন ভান্তে সাধনানন্দ মহাথেরো এ বছর কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে স্বীয় আস্তানা রাঙ্গামাটি শহরের রাজবন বিহারে লক্ষ ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ভক্ত অনুরাগীদের উপস্থিতিতে অতি মূল্যবান একটি দেশনা উপস্থাপন করেছেন। তাতে এক পর্যায়ে তিনি বলেছেন, যে হত্যা হানাহানি ও হিংসায় নিয়োজিত সে সাধু নয়। যে ব্যাভিচার ও পরস্ত্রী গমনে অভ্যস্ত সে সাধু নয়। যে পর ধন হরণ ও দুর্নীতিতে আবদ্ধ সে সাধু নয়। নেশাসক্ত ব্যক্তিরা সাধু নয়। মিথ্যাচারে অভ্যস্ত ব্যক্তিরা সাধু নয়। এদের কোন নির্বান নেই।
এই দেশনা সূত্রে স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু সংঘের পক্ষে তিনি শান্তিপূর্ণ অপরাধমূক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাজকতা কেবল ধর্মীয় দেশনা যুক্ত ব্যাপার নয়, অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন ও শান্তি চর্চার এক মহান আন্দোলনও বটে। এটিকে তীব্র আন্দোলনে উন্নীত করা গেলে, ক্ষুদ্র সন্ত্রাসী হিংসাবাদীরা কোণঠাসা হতে বাধ্য।
ইসলামী ধর্মগুরুদের অনুরূপভাবে শান্তি সংহতি ও অপরাধ মুক্তির আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়া হলো নৈতিক দায়িত্ব। এ কাজে অন্যান্য ধর্মগুরুদের সাথে তাদেরও একাত্ম হওয়া আবশ্যক। সমাজে শান্তি স্থাপন ও অপরাধ মুক্তি হলো নৈতিক দায়িত্ব যা বৌদ্ধ আর ইসলাম ধর্মের লক্ষ্য। পুণ্যবান মানুষ গড়ায় অবদান রাখতে পারাই সৎ ধর্ম পালন। হিংসাশ্রয়ী ধর্মান্ধদের সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করা থেকেও রোখতে হবে। এটা উত্তম মানব সেবা।
স্থানীয় বৌদ্ধ গুরু সংঘ আর ইসলামী আলিম সংঘের একটি সমন্বিত সামাজিক কর্মক্ষেত্র বা প্লেটফর্ম রচনা দরকার, যার কাজ হবে ধর্মীয় বিতর্ক অনুষ্ঠান নয়, নিজ নিজ ধর্মীয় অনুসারীদের অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করা এবং স্বধর্মের আচার অনুষ্ঠান সাধুতা ন্যায় নীতি ও সৃষ্টিকর্তার আরাধনাসহ মানবিক গুণাবলী চর্চায় সংশ্লিষ্ট করা।
সাধু সৎ হিতাকাঙ্খী ধর্ম ভীরুরাই পুণ্যবান লোক। অসাধু, দুর্নীতিবাজ, অহিতৈষী লোকেরা ধর্ম ও মানবতার শত্রু। মুর্তিমান শয়তান বা রীপু হলো এরা। এরা লোকজনকে কুকর্মে প্ররোচিত করে। এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত সৈনিক হলেন সৎ সাধু পুণ্যবান লোকেরা, যাদের নেতৃ পুরুষ হলেন জ্ঞানী গুণী, আলিম ও গুরু সঙ্গের সদস্যবৃন্দ। রাষ্ট্রীয় পরিপোষণে এদের সংঘবদ্ধ করে, দুষ্ট দুর্মতিদের বিরুদ্ধে সক্রিয় ও সরব করা দরকার। এরা নৈতিকতার পক্ষে আত্মনিবেদিত স্বতঃস্ফূর্ত শক্তি। নীতিগত ভাবে রাষ্ট্রের ও লক্ষ্য, অপরাধমুক্ত দেশ ও জাতি গঠন, এবং সুখী ও শান্ত পরিবেশ রচনা। সুতরাং এই দুই শক্তিকে এক প্লেট ফর্মে আনা মানে সদাচার ও কল্যাণের পক্ষে বৃহত্তর ঐক্য সমন্বয় ও সমাবেশ সাধন। ধর্ম কর্মের আচার অভ্যাস আলো সাধুতারই চর্চা। তবে সংস্কার ও ধর্মান্ধতা পরিহার আবশ্যক।
দুষ্কর্মের বিরুদ্ধে ধর্মনীতি ও ধর্মীয় গুরুদের একই প্লেট ফর্মে তৎপর করা গেলে, পারস্পরিক সহনশীলতা ও মৈত্রী জোরদার হবে এবং শান্তি হবে আরো বাস্তব, এটা দৃঢ় আশাবাদের বিষয়। তপ্ত বিদ্বেষপূর্ণ পরিবেশে মানুষে মানুষে মৈত্রী ও ভালবাসা রচনা হলো মহৎ কাজ। ধর্মের নামে প্রচলিত কুসংস্কার অতিভক্তি ও বাড়াবাড়ি ক্ষতিকর। এ জন্যই ধর্ম অনেকের নিকট মাদক তুল্য। কিন্তু আসলে ধর্ম নৈতিকতা, কল্যাণ ও সদচিন্তার উৎস। অতি প্রগতিবাদীদের দ্বারা ধর্ম যতই সমালোচিত হোক, আসলে ধর্মই কল্যাণ ও সদচিন্তার উৎস। উন্নত মনন ও কল্যাণকর চিন্তা চেতনার সূচনা ধর্ম থেকেই ঘটেছে। আদিম মানব গোষ্ঠী উন্নত চিন্তা চেতনায় সমৃদ্ধ ছিলো না। তাদের জ্ঞান ও চেতনা ছিলো সীমাবদ্ধ ও স্থূল। ধর্মই তাদের সে জ্ঞানগত দৈন্য ঘোচাতে ও যুগোপযোগী ধারণা দিতে এগিয়ে আসে। রুচিকর খাওয়া পরা, আবাসন, আত্মরক্ষা সুখ স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন যাপন ও সৃষ্টিকর্তার উপাসনা এবং উন্নত জীবনের কলা কৌশলের জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ প্রথমতঃ ধর্মই দান করেছে। তাই ধর্মই হলো ঐশ্বরিক জীবন বিধান। কালের প্রভাবে অপচর্চা, বিস্মৃতি, সংস্কার, সংযোজন ও অতি ভক্তিবাদ ইত্যাদি মূল ধর্ম সংস্কৃতিতে আবর্জনা, বিচ্যুতি ও পরগাছা যুক্ত করে, ধর্মান্ধতার জন্মদান করেছে। প্রাগৈতিহাসিক কালের প্রাচীন ধর্মাদি তাই আদি অক্ষত রূপে সংরক্ষিত থাকতে পারেনি।এ কারণে প্রাচীন ধর্মীয় অনেক আচার আচরণ ও অনুষ্ঠানকে এখন আর যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না, এবং সেগুলোর অনেকটা বিজ্ঞানসম্মতও নয়। আধুনিক বিজ্ঞান ধর্মী ও যুক্তিবাদী অনেকের কাছে পৈতৃক প্রাচীন ধর্ম হুবহু মান্য হয় না। তাদের কাছে স্বধর্মীয় অনেক কিছুই প্রশ্ন সাপেক্ষ। এতদসত্ত্বেও ধর্ম বৃহৎ সংখ্যক জনগোষ্ঠীর কাছে পুণ্য কর্ম রূপে পালনীয়। ধর্মীয় আবর্জনাকে বর্জন করে, কেবল সদাচার গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে, সবার পক্ষে নৈতিকতা চর্চায় মনযোগী হওয়া দরকার।
[চলবে]

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ বছর
  • চৌধূরী শব্দ ও প্রথার ইতিবৃত্ত
  • ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ
  • ১৩৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী সিলেট স্টেশন ক্লাব
  • একাত্তরের শরণার্থী জীবন
  • সিলেটে উর্দু চর্চা
  • মণিপুরী সম্প্রদায় ও তাদের সংস্কৃতি
  • সিলেটে উর্দু চর্চা
  • মোকাম বাড়ি ও হযরত ইসমাইল শাহ (রহ.)
  • সিলেটে উর্দু চর্চা
  • হবিগঞ্জের লোকসাহিত্যে অধুয়া সুন্দরীর উপখ্যান
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • ঢাকা উত্তর মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়
  • সিলেটে ফারসি চর্চা
  • সিলেটের গণভোটের অগ্রনায়ক মৌলানা ছহুল উসমানী
  • আদিত্যপুরের গণহত্যা
  • জালালাবাদের ইতিহাস ঐতিহ্য
  • বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ
  • সিলেটে আরবি ভাষাচর্চা
  • গৌড়-বঙ্গে মুসলিম বিজয় এবং সুফি-সাধকদের কথা
  • Developed by: Sparkle IT