উপ সম্পাদকীয়

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাই বদলে দেবে বাংলাদেশ

এএইচএম ফিরোজ আলী প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-১০-২০১৯ ইং ০১:১৪:৩৬ | সংবাদটি ৩৩৬ বার পঠিত
Image

বিবেক-জ্ঞান-বুদ্ধি ও মনুষ্যত্বের কারণে মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব বলা হয়। সততা-নীতি-নৈতিকতা, দেশপ্রেম, পরোপকার এবং আদর্শ চরিত্রবান মানুষ হওয়ার মূল ভিত্তি সুশিক্ষা। উন্নত জাতি গঠন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব সর্বাধিক। অন্য দিকে বলা যায়, সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার বীজ হল প্রথমিক শিক্ষা। বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ও মানবিক গুণ সম্পন্ন একজন আদর্শবান মানুষ হওয়ার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে প্রাথমিক শিক্ষা। প্রতিটি শিশু জন্ম লাভের পর বিদ্যালয়ে ভর্তির আগ পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ করে তার মা-বাবা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে। মা-বাবা যে ভাষায় কথা বলেন, সেই ভাষা বা ইশারা-ইঙ্গিত বুঝে শিশুরা। তারা বই পুস্তক ছাড়া অনেক কিছু শিখে দেখে ও শুনে। এক সময় আমাদের দেশে শতকরা ৬০ ভাগ নারী পরিবারের গৃহস্থালীর কাজ আর শিশু লালন-পালন করা ছিল তাদের প্রধান কাজ। পাশাপাশি দাদা-দাদি, ফুফু, খালা, নানি শিশুদের লালন পালনে মূখ্য ভুমিকা পালন করতেন। সে যুগে শিক্ষিত নারীর সংখ্যা ছিল একবারে নগণ্য। সময় এখন বদলে গেছে। নারী শিক্ষার হার বেড়েছে, বিভিন্ন পেশায় নারীরা জড়িয়ে পড়েছেন।
ইচ্ছা থাকা সত্বেও অধিকাংশ কর্মজীবি মা তাদের সন্তানকে প্রাথমিক অক্ষর জ্ঞান পাঠটুকুও সময়ের অভাবে শিক্ষা দিতে পারছেন না। এমন বাস্তব অবস্থায় প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা বর্তমান সরকারের বাস্তবমুখি একটি যুগান্তকারি পদক্ষেপ। শিশুদের সাথে শিক্ষকদের আন্তরিক আচরণ, ¯েœহ মায়া মমতা, আনন্দঘন পাঠদান শিশুদের বিদ্যালয়ে হাজির হওয়ার প্রেরণা যোগায়। শিক্ষকদের পাঠদানে শিখন-শেখানোর কৌশল শিশুদের মনযোগী করে তুলতে পারে। তাদের প্রতি বিরক্ত হওয়া যাবেনা। শিশুদের আনন্দের সুযোগ দিতে হবে। প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী দেশের সব শিশুকে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে স্কুলমিল নীতির আওতায় আনতে অতিসম্প্রতি ‘জাতীয় স্কুলমিল নীতি ২০১৯ এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রীসভা। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের রান্না করা খাবার, বিস্কুট ডিম অথবা কলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা রেখে এই নীতির খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনা হয়েছে। সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে যুক্ত করলে ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী মিডডের আওতায় আসবে। এ কার্যক্রমের ফলে শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় আগমনে উৎসাহ পাবে, ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে, গ্রাম-শহর, ধনী-গরিবের ব্যবধানের মনোভাব কমে যাবে।
স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ধবংসস্তুপের মধ্যে দাঁড়িয়ে যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কোন টাকা জমা ছিলনা, তখন প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে ১৯৭৩ সালে ৩০ হাজার ১৬৫টি প্রথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রার শুভ সূচনা করে ছিলেন। পিতার পথ অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরনকরে এক ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করেন। দেশ স্বাধীন পর এ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সরকার ব্যতীত কোন সরকার শিক্ষার মুল ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। শেখ হাসিনা ও তার সরকারের নানামুখী সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে গত ১০ বছর সময় ধরে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার বেশ উন্নতি ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ভাঙ্গাচুরা-বাঁশ বেতের তৈরী বিদ্যালয়গুলো অধিকাংশ দু’তলা দালান নির্মাণ করা হয়েছে। শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করণ, বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে রঙ্গিন বই তুলে দেয়া, উপবৃত্তি কার্যক্রম, সরকারি বিদ্যালয়ের দফতরি কাম প্রহরি নিয়োগ, স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠন, শিশুদের মানসিক বিকাশ ও খেলা ধূলার প্রতি আকৃষ্ট করতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্ণামেন্ট সহ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। প্রাক প্রাথমিক শ্রেণী চালু, পুল শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষকদের নতুন পদ সৃষ্টি, বিপুল সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ, প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ডিজিটালাইজেশন শেখ হাসিনা সরকারের বাস্তবমুখি এক একটি পদক্ষেপ।
ঐতিহাসিকভাবে এ কথাটি সত্য যে, আমাদের দেশে দরিদ্রতা ছিল বড় একটি অভিশাপ। কৃষি প্রধান এ দেশে একসময় আমাদের বাপ দাদার সংসারে অভাব অনটনের কারণে সন্তানদের লেখা পড়া শেখানোর প্রতি তেমন মনযোগি হননি। আর হলেই বা কি হতো, বৃটিশ-পাকিস্তান কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেনি। যে পরিবারে নুন আনতে পান্তা পুরায়, সেই পরিবারের শিশুরা বিদ্যালয়ে যাওয়ারও স্বপ্ন দেখেনি। পেটে ক্ষুধা নিয়ে কোন মানব শিশু কখনও পড়া শোনায় মনযোগ দিতে পারেনা। শেখ হাসিনা স্কুলমিল চালু করে আরেকটি বাস্তবিক ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। কেউ কোনদিন চিন্তা করেনি যে, সরকার শিক্ষার্থীদের বই দেবে, খাবার দেবে নগদ টাকাও দেবে। আগামি জানুয়ারি থেকে বইয়ের সাথে শিশুদের পোষাকের জন্য নগদ ২ হাজার টাকা করে দেয়ার ঘোষণা হয়েছে এবং ২০২০ সাল থেকে সরকার তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাথীদের কোন পরীক্ষাও নেবেনা। বর্তমানে দেশের ১০৪টি উপজেলায় ১৫ হাজার ৩৪৯টি বিদ্যালয়ে খাবার দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৩টি উপজেলায় রান্না করা খাবার দেয়ায় স্কুলে ১১ শতাংশ এবং যেসব স্কুলে শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে, সেখানে ৬ শতাংশ শিশুর উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ঝরে পড়া শিশুর হার কমেছে ৬.৬ শতাংশ। ২০০৫ সালে ঝরে পড়ার হার ছিল ৪৭.২শতাংশ, ২০০৬ সালে ৫০.৫ শতাংশ, ২০১০ সালে ৩৯.৮ শতাংশ, ২০১২ সালে ২৬.২ শতাংশ সর্বশেষ ২০১৮ সালে ১৮.৬ শতাংশে এসে দাঁড়ায়। এসব জরিপের তথ্য থেকে দেখা যায় গত ১০ বছরে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার অর্ধেকের বেশি কমেছে। কিন্তু সরকার ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চান। এক সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা ছিলেন সমাজের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি। সেই অবস্থা এখন আর নেই।
অধিকাংশ শিক্ষকা বিদ্যালয়ে আসা যাওয়াকে কর্তব্য মনে করেন। ১১টায় এসে ১টার মধ্যে চলে যান। বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সস্কার কাজ, বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (স্লিপ), রুটিন মেইনটেন্যান্স, প্রাক প্রাথমিকের ক্লাস সজ্জিত করণ, ওয়াশব্লক, রক্ষনা বেক্ষণ, বই বিতরন, শোক দিবস পালন, বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান সহ আনুষাঙ্গিক খ্যাতে প্রতি বছর অর্থ বরাদ্দ হয়। শুধু স্লিপের জন্য শিক্ষার্থীভেদে বৎসরে প্রতি স্কুলে ৪০ হাজার থেকে ১লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ভুয়া বিল ভাউচার তৈরী করে এসব অর্থ আতœসাতের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। প্রধান শিক্ষক, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সহ শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা এসব ঘটনায় জড়িত। ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে ৩র্য় শ্রেণীর ৬৫ শতাংশ শিশু বাংলা রিডিং পড়তে পারেনা। বিশ্ব ব্যাংকের সর্বশেষ ‘লার্নিং টু রিয়ালাইজ এডুকেশন প্রমিজ ২০১৮, শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ১০০ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ২৫ জন নিজ পাঠ্যপুস্তকের সাধারণ গণিত সমাধান বা অংক করতে পারে। ৭৫ জন অংক করতে পারেনা ও বুঝেওনা। ফলে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও পুষ্টির বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।
ইতিমধ্যে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা ¯œাতক হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু শুধুমাত্র সভাপতি শিক্ষিত হলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে কি? যদি কেউ নিজের দায়িত্ববোধ থেকে শিশুদের মেধার বিকাশে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তাহলেই সরকারের পদক্ষেপ সফল হতে পারে। প্রাথমিক শিক্ষায় দুনীতি একেবারেই কম নয়। দায়িত্ব অবহেলা বড় একটি দুর্নীতি। এই ব্যাধিটি দুর হলেই প্রাথমিক শিক্ষার অনেক উন্নতি হতে পারে।
জাপান খুববেশি উন্নত ও সমৃদ্ধ। দেশটিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন স্কুল থাকলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জনপ্রিয়তা ও মান খুব বেশি। আমাদের দেশের চিত্র পূরোটাই উল্টো। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখা পড়া হয়না। প্রাইভেট স্কুল গুলো হচ্ছে ভরসা এবং কিছুটা হলেও মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। জাপান প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করেছে। জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থায় মিশে আছে নৈতিক শিক্ষা। তাদের বিশ্বাস আগে নীতি-নৈতিকতা, পরে পাঠ্যশিক্ষা। তারা শিশুদের ১০ বছর পর্যন্ত কোন পরীক্ষা নেয়না। প্রথম ৩ বছর মেধা যাচাইয়ের জন্য নয় বরং ভদ্রতা, ন¤্রতা, শিষ্টাচার, দেশপ্রেম, পরোকারিতা, ন্যায় পরায়নতা শেখানো হয়। যে কারণে জাপানিরা আজঅবদি ন¤্রতা, ভদ্রতা বা নীতি নৈতিকতায় খ্যাত। সে দেশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক মিলে স্কুল ঝাড়– দেয়, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কাজ নিজেরাই করে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী বাধ্যতামুলক ভাবে মাসে একবার বেসিন ও টয়লেট পরিস্কার করে। স্কুলের প্রতিটি ক্লাসের শেষ বা পেছনের সারিতে অভিভাবক বা ভিজিটারের বসার জন্য আলাদা জায়গা রাখা হয়। তারা যেন ক্লাস পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং রেজিষ্টারে মন্তব্য লেখতে পারে। বিদ্যালয়ে রান্না করা খাবার শিশুদের খাওয়ানো হয়। খাবারের মান নিশ্চিত করণের জন্য সেখানে রয়েছেন একজন ডায়েটিশিয়ান। বিদ্যালয়ে শিশুদের উচ্চতা ও ওজন পরিমাপ করা হয়। কোন বাচ্চা নিজস্ব গাড়িতে করে সরাসরি স্কুলের কাছে এসে নামবেনা। গাড়ি দুরে রেখে পায়ে হেঁটে স্কুলে যায়। কারণ যে সব বাচ্চাদের গাড়ি নেই তাদের মনে যাহাতে কোন বিরুপ প্রভাব না পড়ে। এমন চিন্তা চেতনাই জাপানিদের সাফল্য এনে দিয়েছে। জাপানিরা তাদের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর খুব বেশি আস্থাশীল। শিক্ষকরা সকল শিশুদের জাতীয় সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রাণপণ চেষ্টা করেন। আমেরিকার রোড আইল্যান্ডে শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষা দেয়া হয়। জীবনমুখী এবং বাস্তবমুখী শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণের ক্ষেত্রে ফিনল্যান্ড দক্ষিণ কুরিয়া হংকং সিঙ্গাপুর অনুসরণ করে থাকে। তারা আমাদরে মত শিশুদের পরীক্ষায় বসিয়ে গতানুগতিক পদ্ধতিতে মেধা যাচাই করেনা। আমাদের দেশে এমন ধারণা এখন কল্পনা মাত্র। আমাদের মানসম্পুন্ন প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি নৈতিকতার উপর জোর দেয়া জরুরী। জাপান, আইল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়ার মত রাতারাতি শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো না হলেও তাদের অনুসরণ করা জরুরী।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রার (এসডিজি) ৪নং অভিষ্ট হলো ‘সবার জন্য অন্তর্ভুক্তি ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষালাভের সুযোগ সৃষ্টি,। যার ৯.২ নম্বর লক্ষ্যমাত্রা হল ২০২০ সালের মধ্যে দেশে প্রাথমিক শিক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা সহ শৈশবের একেবারে গুড়া থেকে মানসম্মত বিকাশ ও পরিচর্চার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠার নিশ্চয়তা বিধান করা। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ৩.১৮ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে ‘বাংলাদেশকে সম্পুর্ণভাবে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা। প্রাথমিক ঝরে পড়া শূন্যে নামিয়ে আনা। সার্বজনীন ও গুণগত প্রাথমকি শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। ২০৪১ সালের মধ্যে সুখি সমৃদ্ধশালি সোনার বাংলা নির্মাণে দেশে মানব সম্পদের ব্যাপক উন্নতি ঘটাতে হবে। আর মানব সম্পদ রুপান্তরের একমাত্র পথ প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করা। ইতিহাস পর্যলোচনা করলে দেখা যায় যুগে যুগে দেশে দেশে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে এর মূলে রয়েছে শিক্ষা। শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি করতে পারেনা। প্রাথমিক শিক্ষা জাতি গঠনের মূল স্তম্ভ। জাতির মেধা-মনন জাগ্রত ও সভ্য জাতি গঠনে প্রাথমিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর এ শিক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষকরা পারেন একটি অন্ধকার সমাজকে-জাতিকে আলোকিত এবং মানুষ্যতের বিকাশ ঘটাতে। শিশুরা যেন দেশের সম্পদ হয় সেই আদর্শিক-বাস্তবিক প্রাথমিক শিক্ষা অপরিহার্য। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতির মাধ্যমে শিশুরা দেশের সম্পদে পরিণত হলে বদলে যাবে মাতৃভূমি বাংলাদেশ।
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • করোনাকালের ঈদোৎসব
  • মহাপূণ্য ও করুণার রাত শবে-কদর
  • মাহে রামাজান: যাকাত আদায়ের উত্তম সময়
  • দারিদ্র দূরীকরণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
  • চীন-আমেরিকার শীতল যুদ্ধ
  • চাই আশার বাণী
  • কোভিড-১৯:সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • বিদ্যুৎসাশ্রয় এবং আমাদের করণীয়
  • বেঁচে থাকি প্রাণশক্তির জোরে
  • Image

    Developed by:Sparkle IT