উপ সম্পাদকীয়

আমাদের সন্তানরা কোন্ পথে যাচ্ছে

মো. জহিরুল আলম-শাহীন প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-১০-২০১৯ ইং ০০:০৭:৫০ | সংবাদটি ৯০ বার পঠিত

বাংলাদেশ উন্নতির পথে বেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জনসাধারণও নিত্য নতুন তথ্য প্রযুক্তি পেয়ে অনেক আরাম আয়েশে বসবাস করছে। কিন্তু তার সাথে পাল্লা দিয়ে নীতি-নৈতিকতার পরিবেশ সমাজ থেকে উঠে গিয়ে অবক্ষয়ের কবলে পড়েছে। দেশে অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। শুধু তাই নয়, অপরাধ প্রবণতার ধরণও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি দেশের জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার পাতায় দেখছি শহর ও গ্রাম অঞ্চলে শিশু-কিশোরদের নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সংবাদ। সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, সমাজের কিশোররা জোট গঠনের মাধ্যমে সমাজে নানা ধরনের অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। এরা ‘কিশোর গ্যাং’ নামে পরিচিত। ওদের কাজ কর্মের খোঁজ খবর নিতে গিয়ে জানা যায়, পাড়া মহল্লায় এলাকা ভিত্তিক কিছু কিশোর দল গঠন করে আর তাদের দেখা শুনার জন্য একদল নেতা বা বড় ভাই থাকে। যার পরামর্শে তারা চাঁদাবাজি, জায়গা দখল, টেন্ডারবাজি, জুয়াখেলা, রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে স্কুল কলেজের মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, ছিনতাই, খুন-খারাবিও করে যাচ্ছে। এসব কিশোররা নিজেদের এলাকায় নিজেরাই রাজা বা স¤্রাট। ওদের বয়সটা বেশি নয়। ওদের সবার বয়স ১২ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। এই উঠতি বয়সের কিশোররা যে সব কর্মকান্ড করছে তা দেখলে রীতিমতো শিউরে উঠতে হয়। এসব কিশোররা ভয়ংকর সব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। সামান্য বা তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মেরে ফেলছে তারই সহপাঠি বা পুরানো বন্ধুকে। সেবন করছে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল ও হেরোইন এবং মরণঘাতী ইয়াবা। ওরা পাড়ার মোড়ে মোড়ে দল বেঁধে আড্ডা দেয়, মেয়েদের ইভটিজিং করে, বড়দের সামনে প্রকাশ্যেই সিগারেট টানে। সমাজের উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নি¤œবিত্ত সকল শ্রেণির কিশোরই সঙ্গ দোষে এমন সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে যা বিশ্বাস করাটা কষ্টকর।
বিভিন্ন গ্রুপের এ কিশোর গ্যাং স্টারদের আবার বড় অপরাধী ও এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ক্যাডারদের সাথেও লিয়াজোঁ রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশ। সমাজের কিছু লোক রাজনৈতিক দলের নাম করে নিজের স্বার্থ ও ফায়দা লুটার জন্য এসব দল গঠন করে আমাদের সন্তানদেরকে বিপথগামী করছে। কেউ কেউ বলছে উপর থেকে আশ্রয় প্রশ্রয় না পেলে এদের এত সাহস করে অপকর্ম করার কথা নয়। এদের অনেকেই নামি-দামি স্কুলের ছাত্র কেউ আবার ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। লেখাপড়া না করে বা লেখাপড়ায় কম সময় দিয়ে বা অমনোযোগী হয়ে অপরাধমূলক কাজে পা বাড়িয়ে হাঁটছে।
আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ জনসম্পদের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যা দেশ ও জাতির জন্য অশনি সংকেত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এসব কিশোররা শিক্ষা গ্রহণের শুরুতে এ পথে যাচ্ছে কেন বা লেখাপড়ায় অমনযোগী হচ্ছে কেন? আমাদের শিক্ষাদানের কোথাও না কোথাও একটা শূন্যতা রয়েছে। যে শূন্যতার কারণে আমরা শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আঙ্গিনায় ধরে রাখতে পারছি না। আসলে কিশোর অপরাধটা এখন একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিচ্ছে।
এ নিয়ে আমাদের সকলকে ভাবতে হবে। ভাবতে হবে ওদের ভবিষ্যত নিয়ে। দেখাতে হবে আলোর পথ। খোঁজতে হবে মূল কারণগুলো। সমাধান করতে হবে নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বার্থে। এসব কিশোররাই আমাদের ভবিষ্যৎ একথা আমাদের সকলকে বুঝতে হবে। শিক্ষার পথে শিশু-কিশোরদের ধরে রাখতে হবে। এ জন্য শিক্ষকরা গুরু দায়িত্ব পালন করতে হবে। মায়া মমতা দিয়ে ওদেরকে শিক্ষা দিতে হবে। তার সাথে ভক্তি, সম্মান, নীতি-নৈতিকতা শিক্ষা দিতে হবে। একজন শিক্ষকের শিক্ষা যেভাবে একজন শিক্ষার্থী-সহজে গ্রহণ করবে তত তাড়াতাড়ি অন্য কারো শিক্ষা গ্রহণ করবে না। একজন শিক্ষকই শিক্ষার্থীর খুব কাছের মানুষ। যার অবদান শিক্ষার্থীর ওপর সবচেয়ে বেশি। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষককে ঋৎরবহফ, চযরষড়ংড়ঢ়যবৎ ধহফ মঁরফব হিসেবে বিবেচনা হয়। শিক্ষক শিক্ষার্থীর পরম বন্ধু। শিক্ষাবিদরা বলছেন, আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা দিতে হবে। আর শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করার জন্য প্রয়োজন খেলাধুলা, শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড এবং ছবির মাধ্যমে শিক্ষাদান। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীকে অমানবিক বা দৈহিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষেধ আছে। কোনো স্কুলের শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর কোনো প্রকারের দৈহিক শাস্তি প্রদান করে তাহলে সেটি সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়ে ওঠে। শুধু কি তাই? দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়। খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের দৈহিক শাস্তি প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছেন। সুতরাং আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষাদান করে শিক্ষার্থীকে কৌতুলী করে তুলতে হবে। যাতে ওরা প্রকৃত মানুষ রূপে দেশের বড় সম্পদ হয়ে ওঠতে পারে। আসলে শিক্ষার ভিতর লুকিয়ে আছে আনন্দ। আর জানা ও জ্ঞানার্জনের জন্য লুকিয়ে থাকা আনন্দকে বের করে শিক্ষা প্রদান করতে পারলেই শিক্ষা হবে সার্থক আর আনন্দের উৎস।
বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘অলৌকিক আনন্দের ভার বিধাতা যাহারে দেয়। তার বক্ষে বেদনা অপার।’ এ বেদনা অনেক কিছুর সাথেই জড়িত। সব কিছুই কি আমরা বুঝি, বা জানি অথচ জানার আছে অনেক। শিক্ষা নিয়ে আমরা অনেক এগিয়েছি। শিক্ষা নিয়ে সৃজনশীলতার জানাজানির কমতি নেই। তবুও যত দিন যাচ্ছে ততই যেন শিক্ষাকে বিসর্জন দিয়ে আমাদের সোনার ছেলে মেয়েরা অশিক্ষা কিংবা কুশিক্ষার পথে পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়ই আমাদের সমাজের কিশোররা গ্যাং স্টারিজমে জড়িয়ে পড়ছে। ওরা যে দিনে দিনে ঘোর অন্ধকারে ধাবিত হচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যতটুকু জানা গেছে কিশোররা পর্দার আড়ালে থাকা বড় ভাই বা দলীয় নামধারী লিডার তাদের দেখভাল করে। এই গডফাদাররা তাদের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে এসব কিশোরদের ব্যবহার করে। আসলে কুচক্রী কিছু লোক নিজেদের স্বার্থ হাসিলের কারণে আমাদের সোনার ছেলেরা অন্ধকার রাজ্যে পা বাড়াচ্ছে। শিখে নিচ্ছে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। কেড়ে নিচ্ছে বড় ভাইয়েরা সমাজ উন্নয়নের যুব শক্তিকে। ফুলের মতো পবিত্র শিশু-কিশোররা যে বয়সে থাকার কথা লাজ, বিন¤্র, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাবনত ও শিক্ষার সম্পদ আহরণে মুখরিত, হাতে থাকার কথা বই খাতা-কলম আর দিনের বেলায় বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় আনাগোনা এবং পাঠগ্রহণের ব্যস্ততা। সেই সোনালী সময়ে আজ সমাজের কিশোররা বহন করছে মাদকদ্রব্য, মারণাস্ত্র। সামান্য কারণেই হয়ে উঠছে ভয়ঙ্কর ঘাতক। অল্প বয়সেই ওদের গ্রাস করে নিচ্ছে সর্বনাশা মাদক। এখন সবচেয়ে বড় কাজ হবে এ চলার কারণ খোঁজে বের করা।
আমার মনে নানা প্রশ্নও উঁকি দিচ্ছে। গ্যাং স্টারদের সদস্যরা কি দলীয় আনুগত্য পরিবর্তন করে? করলে কেন করে? দলীয় নামধারী নেতারা কেন লালিত পালিত করে? তাদের পিতা-মাতা ও পরিবারের সদস্যদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার বৈশিষ্ট্যইবা কী? অতিরিক্ত আদর বা অতিরিক্ত বঞ্চনা বা অতিরিক্ত টাকা পয়সা প্রদান কোনটি তাদেরকে কুপথে যেতে প্রেরণা যোগাচ্ছে। তাদের মধ্যে যদি লোভ লালসার মানসিকতা প্রবল হয়ে থাকে তাহলে এ প্রবণতা কেন জন্ম নিল তা খতিয়ে দেখা দরকার। তাদের সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। এসব প্রশ্নের জবাব না খুঁজে বিষয়টিকে নিছক আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে গণ্য করা হলে সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে বলে আমার মনে হয় না।
আসলে একটি দেশের, সমাজের, পরিবারের সমৃদ্ধ ও সুন্দর ভবিষ্যত নির্ভর করে দেশের দক্ষ-সুশিক্ষিত জনসম্পদ ও যোগ্য নেতৃত্বের উপর। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মানহীনতা, সামাজিক অস্থিরতা, লোভ-লালসার কবলে পড়ে নতুন প্রজন্মের উঠতি বয়সের তরুণরা ক্রমবর্ধমান হারে বিপথগামিতা ও ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় দেশের সমাজ সচেতনকারী ও চিন্তক ব্যক্তিরা এবং সাধারণ অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে।
আমাদের সমাজে আগে যে অপরাধ গঠিত হত না তা কিন্তু নয়। তবে তা ঘটত প্রাপ্ত বয়স্ক সন্ত্রাসীদের মাঝে। বিশেষ করে শহর অঞ্চলে এমন সংবাদ শুনতাম গ্রাম অঞ্চলে নয়। পরিবর্তনের ছোঁয়ায় আজ গ্রামও যেন শহরের সমান। গ্রামের সরল সহজ কিশোররা অতি সহজে অপরাধ জগতে ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের দৌরাত্ম যেন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। ভাবনার বিষয় আমাদের সমাজের নতুন প্রজন্ম যদি এভাবে অপরাধের দিকে ধাবিত হতে থাকে। তাহলে ওদের ভবিষ্যত কী হবে? ওরা যদি শিক্ষার পথ থেকে হারিয়ে যায় তাহলে প্রকৃত মানুষ হবে কারা। সমাজ উন্নয়নের কাজ করবে কারা। তারাইতো জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। এই কিশোররাই এক সময় সমাজ গড়বে দেশ-গড়বে। বিশ্বের দরবারে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। বর্তমানে আমরা তাই দেখছি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সোনার ছেলে-মেয়েরা সুনাম বৃদ্ধি করছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নাসায়’ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কদমরসুল গ্রামের সৈয়দ এনামুল হকের মেয়ে নাসায় কর্মরত একমাত্র বাংলাদেশি নারী। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। আমার লিখার উদ্দেশ্য হলো আমরা যদি আমাদের সন্তানদের গড়ে তুলতে পারি। তাহলে আমাদের বড় সম্পদ হয়ে ওঠবে। এমন আরেকটি উদাহরণ গত ১৫ জুন ২০১৯ তারিখে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ সুপারক্রাফট কেক এক্সপোতে বাংলাদেশের ঢাকার মেয়ে তাসনুতা আলম ১০০ নম্বরের মধ্যে ১০০ নম্বর পেয়ে স্বর্ণপদক পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তাই সমাজের শিশু-কিশোরদের নিয়ে গভীরভাবে ভাবা দরকার।
আমরা যখন আগামী দশকের শেষে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি এর মাঝে আমাদের ভবিষ্যৎ রচনাকারী কিশোররা যে ভয়ঙ্কর সব অপরাধের কারণে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনছে তা মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। তারা আজ সামাজিক অবক্ষয়ের অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে পারে। তাদেরকে তলানি থেকে টেনে তুলতে আমাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে। ওদের দেখাশুনার দায়িত্ব সমাজের সকলের। আমরা সবাই এ ব্যাপারে সতর্ক হই। আসলে এটি দীর্ঘদিনের সামাজিক অবক্ষয়, দুর্নীতির ব্যাপকতা, আর বিচারহীনতা সংস্কৃতির ফল। শিশু-কিশোরদের নীতি ও নৈতিকতার শিক্ষার অভাব, বিজাতীয়, অপসংস্কৃতির করাল গ্রাস, অভিভাবকদের উদাসিনতা, পারিবারিক শিক্ষার অভাব ইত্যাদি কারণে কিশোররা বিপথগামী হচ্ছে। তাছাড়া আরো নানা কারণে আমাদের সন্তানরা বিপথে ধাবিত হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো ঃ অভিভাবকের অবহেলা ও উদাসীনতা, পিতা-মাতা সন্তানদের খোঁজ খবর না রাখা। কিশোরদের ইচ্ছা মাফিক চলাফেরা। অনেক সময় নিজের আদরের সন্তানটি সঙ্গ দোষেও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই পিতামাতাকে অবশ্যই সন্তানের চলাফেরা, কোথায় যায়, কাদের সাথে আড্ডা দেয় ইত্যাদির খোঁজ খবর রাখা দরকার। সমাজের বাস্তব চিত্রে দেখা যায় নি¤œ, মধ্য ও উচ্চবিত্তের সব শ্রেণির পরিবারের সন্তানরা অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তানরা শিশুকাল থেকে মা-বাবার আদর-সোহাগ না পাওয়ায় নিজের খেয়াল খুশিতেই ভালো-মন্দের মাধ্যমেই বড় হতে থাকে। ফলে এ উঠতি বয়সে ভালো বা মন্দ পথ খুঁজে নেওয়ার ক্ষমতা তাদের থাকে না। যা করে তাই তাদের নিকট ভালো লাগে। মন্দ কাজই কিশোরদের আকৃষ্ট করে বেশি। তাই সমাজের চিন্তাশীলরা বলছেন এ কিশোররা মন্দ পথে পা বাড়াচ্ছে বেশি। এ ব্যাপারে সমাজ সচেতন চিকিৎসক ডাঃ বাশির আহমদের সাথে আলাপচারিতায় জানান যে, পিতামাতার অবহেলায় এবং কর্মক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা, হতাশা, দারিদ্র্যতার কষাঘাত, অতি আদর ও অভিভাবকের বেশি বেশি অর্থ প্রদান ইত্যাদির কারণে আমাদের আদরের সন্তানটি নিজের অজান্তেই অপরাধমূলক কাজ আয়ত্ব করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কিশোর বয়সের ছেলেরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নেতিবাচক দিকটি গ্রহণ করে নষ্ট হচ্ছে। এজন্য আমাদের সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার জন্য এ চিকিৎসক আহবান জানান।
লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT