সম্পাদকীয়

দারিদ্র্য নিরসন দিবস আজ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-১০-২০১৯ ইং ০০:০৯:৪৭ | সংবাদটি ৯৬ বার পঠিত

দারিদ্র্য নিরসনে চলছে নানা কর্মযজ্ঞ। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজিত এইসব উদ্যোগের সফলতা আসছে বলেই দাবি করছে সরকারসহ বুদ্ধিজীবী মহল। এই অবস্থায় আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব দারিদ্র্য নিরসন দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। যেহেতু বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একট উন্নয়নশীল দেশ, তাই এখানে দিবসটি পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। এদেশের আশি ভাগ মানুষের বসবাস দারিদ্র্যের মধ্যে। অবশ্য শুধু যে আমরাই দারিদ্র্যের কষাঘাতে নিষ্পেষিত, এমন নয়, সারা বিশ্বেই চলছে দারিদ্র্য নিয়ে তোলপাড়। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দিন দিন দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে। এখন বিশ্বের অনেক দেশে প্রধান সমস্যা হচ্ছে দারিদ্র্য। দারিদ্র্য দূরীকরণ নিয়ে এদেশে অনেক কথাই হয় সারা বছর। কিন্তু দারিদ্র্য দূর হয় না।
দারিদ্র্য বিমোচনে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। অতীতেও নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে যেটা হচ্ছে তা শুধু লোক দেখানো আর লুটপাটের। এ খাতে বরাদ্দ কোটি কোটি টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে বরাবরই একটি মহল। সত্যি বলতে কি আমাদের জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই বেকার। হাতে গোনা কিছু লোক আছে স্বাচ্ছন্দ্যে। এর বাইরে বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে বেকারত্ব। সেই সঙ্গে আছে অশিক্ষা, পুষ্টিহীনতা, চিকিৎসাহীনতা, খাদ্যের অভাব, বাসস্থানের অভাব ইত্যাদি। তার পাশাপাশি রয়েছে বন্যা, খরা, নদী ভাঙ্গনসহ ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। রয়েছে জনশক্তি রপ্তানিতে ভাটা। এসব কারণে দারিদ্র্য বিমোচনে যতোই উদ্যোগ নেয়া হোক না কেন, তার সবই হচ্ছে বাধাগ্রস্ত। এই অবস্থা থেকে যে হুট করে মুক্তি পাওয়া যাবে, সেটা আশা করা যায় না। তবে এক্ষেত্রে সাম্প্রতিককালে কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। অন্তত দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপে এ ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্য বিমোচনের প্রতি সর্বোচ্চ মনযোগী হওয়া এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নত করতে হবে। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের সীমিত আয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় এমনভাবে বেড়ে চলেছে যে, কল্পনাই করা যাচ্ছে না। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে এদেশে। অপরদিকে বাড়ছে জনসংখ্যা। কমছে কৃষিজমি। বাড়ছে খাদ্য চাহিদা। শিল্প উৎপাদনেও তেমন অগ্রগতি হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে বেকারত্ব আর হতদরিদ্রের সংখ্যা। আর এজন্য কর্মক্ষম বেকারদের কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। তবে সামগ্রিকভাবে শিল্প বিনিয়োগ না বাড়লে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবেনা, কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে না। আর দারিদ্র্য বিমোচনে কর্মসংস্থান একটি অন্যতম শর্ত।
দারিদ্র্য বিমোচনে আমাদের নির্ধারণ করতে হবে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই জোর দিতে হবে দেশে সম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের আয় উপার্জন ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতির ওপর। পাশাপাশি প্রয়োজন দেশে শিল্প বাণিজ্যের প্রসার এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষে কম অর্থ ব্যয় হয়নি। কিন্তু এর সফলতা নেই। শুধু মুখে বড় কথা বলে সাধারণ মানুষের বাহবা কুড়াতে আমরা দেখেছি অতীতে। কাজের কাজ তেমন একটা হয়নি। এই ভাওতাবাজীর রাজনীতির অবসান হোক। আশার কথা হচ্ছে সাম্প্রতিককালে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে গ্রামীণ হতদরিদ্র্যের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। তবে এইসব কর্মসূচিতে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে অভীষ্ট লক্ষ অর্জন বিঘিœত হচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচনে বরাদ্দ অর্থ লুটপাটকারীদের মূলোৎপাটন হোক। বিশ্ব দারিদ্র্য বিমোচন দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT