প্রথম পাতা সরেজমিনে দিরাইয়ের কাজিউড়া

গ্রাম্য ‘কোন্দল’র শেষ বলি তুহিন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-১০-২০১৯ ইং ০৩:০২:১৮ | সংবাদটি ১৯৩ বার পঠিত


হাবিবুর রহমান তালুকদার, দিরাই (সুনামগঞ্জ) থেকে ঃ বর্বরোচিতভাবে পাঁচ বছরের শিশু তুহিনকে হত্যার ঘটনায় শোকে স্তব্ধ আর ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা। খুনিদের পাশবিকতা হার মানিয়েছে মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে। খুনিদের ধিক্কার জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূল শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী। সবার একটাই প্রশ্ন গ্রামে বিরোধ রয়েছে বড়দের মধ্যে, শিশু বাচ্চার কি অপরাধ। এর সাথে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার পেছনে কি রহস্য রয়েছে জানতে চান এলাকাবাসী।
গতকাল বুধবার সরজমিন কাজাউড়া গ্রামে তুহিনের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় সুনশান নীরবতা বিরাজ করছে। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়া তুহিনের চাচা নাছিরের ঘরে তালা ঝুলছে। নিহত তুহিনের ঘরের দরজা খোলা থাকলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পাশের ঘরে চাচা আব্দুল মোছাব্বিরের (ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার) ঘরে রয়েছেন তার সদ্য সন্তান প্রসবা স্ত্রী জরিনা বেগম ও তার মা। অন্য চাচাদের ঘরেও কেউ নেই। বাড়ীতে নেই কোন পুরুষ সদস্য।
সদ্য সন্তান প্রসব চাচি জরিনা বেগম বলেন, নবজাতক সন্তানের কারণে রাতের অধিকাংশ সময় আমাকে নির্ঘুম থাকতে হয়। ঐ রাতে তুহিনদের ঘরে সুরগোল শোনে বাচ্চার বাবা (স্বামী আব্দুল মোছাব্বির) কে ঘুম থেকে ডেকে তুলি। পরিবারের সবাই কান্নাকাটি করে তুহিনকে খুঁজতে থাকেন। তুহিন হত্যাকান্ডের ঘটনায় পরিবারের লোকজন জড়িত তিনি বিশ্বাস করেন না। নিহত তুহিনের মামা নুরুজ্জামানের মোবাইলে ফোন দিয়ে তুহিনের মায়ের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, তার মা অসুস্থ কথা বলতে পারছেননা।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাজাউড়া গ্রামের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার মিয়া, অপর পক্ষে নিহত তুহিনের স্বজনরা। গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও সরকারী ডোবা লিজ দেওয়াকে কেন্দ্র করে একাধিক হত্যা মামলাসহ ১০-১২টি মামলা রয়েছে। ২০০১ সালের জুন মাসে রাতের আধারে খুন হয় পার্শ্ববর্তী মধুপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে মুজিবুর রহমান। পরদিন সকালে কেজাউড়া গ্রামের পাশে তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মুজিবের পিতা বাদি হয়ে আনোয়ার মিয়া ও নিহত তুহিনের বাবা আব্দুল বাছিরসহ ১৪জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলা থেকে আনোয়ার মিয়ার ভাতিজা এলাইছ মিয়া, তার ভগ্নিপতি কনরুল ও আব্দুল বাছির ছাড়া সবাইকে পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদনে অব্যাহতি দেয়া হয়। ২০১০ সালে আনোয়ার মিয়ার পক্ষের জবর আলী নামক ব্যক্তি মারা গেলে এলাইছ মিয়াসহ ৪জনকে আসামী করে জবর আলীর স্ত্রী বাদি হয়ে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ময়না তদন্তে হত্যার আলামত না পাওয়ায় আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে পুলিশ আদালতে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
২০১৫ সালে গ্রামের পঞ্চায়েতি ডোবা ইজারা প্রদান নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব বিষয়াদিকে সামাজিকভাবে সমাধানের জন্য এলাকার পঞ্চায়েতের লোকজন চেষ্টা চালায়। এরই মধ্যে ১৫ সালের ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্বামী গিয়াস উদ্দিনের সাথে বাবার বাড়ী আসার পথে পশ্চিম পাড়া মসজিদের পাশে নিলুফা ও তার স্বামীর উপর হামলা চালায় আনোয়ার মিয়ার পক্ষের লোকজন। এতে নিলুফা ও তার স্বামী গুরুতর আহত হয়। এর দুদিনপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী হামপাতালে মৃত্যুবরণ করে নিলুফার । এ ঘটনায় নিলুফার বাবা জবর আলী বাদী হয়ে আনোয়ার মিয়াসহ ১৬জনকে আসামী করে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আনোয়ার মিয়াসহ আসামী সবাই জেল খেটে জামিনে রয়েছেন। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সম্প্রতি এ মামলাটি আপোস মীমাংসার জন্য চেষ্টা চালান এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এরই মধ্যে তুহিন হত্যাকান্ডের কয়েকদিন পূর্বে অন্য একটি কোম্পানির চেক ডিজনার মামলায় এক বছর সাজাভোগ করে বাড়ী ফিরেন আনোয়ার মিয়া।
এলাকাবাসী মনে করছেন তুহিন হত্যাকান্ডের মাধ্যমে গ্রামের দীর্ঘদিনের বিরোধ নিস্পত্তির বিষয়টি ভেস্তে গেল। এলাকাবাসী মনে করছেন গ্রামে কোন্দল রাখতেই বারবার এমন ঘটনার জন্ম দেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কাজাউড়া গ্রামের আব্দুল বাছিরের ছেলে তুহিন মিয়া (৫) কে রাতের আঁধারে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘাতকরা তার লাশটি রাস্তার পাশের একটি গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখে লিঙ্গ কেটে নিয়ে গেছে, দুটি কান কেটে একটি রাস্তায় ফেলে যায়। এ ঘটনায় ঐদিনই তুহিনের পিতা আব্দুল বাছিরসহ চার চাচা, এক চাচি, ১চাচাতো বোন ও ১ চাচাতো ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। রাতে তুহিনের মা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০-১২জনকে আসামী করে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরদিন তুহিনের চাচা নাছির ও চাচাতো ভাই আদালতে ১৬৪ধারায় জবানবন্দি প্রদান করার পর বাবা আব্দুল বাছির, চাচা জমসেদ মিয়া ও আব্দুল মোছাব্বির মিয়াকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। এদের ৩জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু তাহের মোল্লা। আদালত ৩জনকে ৩দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে। বর্তমানে তারা রিমান্ডে দিরাই থানায় রয়েছে। নিহত তুহিনের পরিবারের প্রতিপক্ষ আনোয়ার মিয়ার বক্তব্য নেয়ার জন্য তার বাড়ীতে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের লোকজন জানান, তিনি অসুস্থ চিকিৎসার জন্য দিরাই গেছেন।

 

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • অসাবধানতাবশত পুলিশের মিসফায়ারে নারীসহ আহত ২
  • সিলেটে ৪৫ টাকা মূল্যে টিসিবি’র পেঁয়াজ বিক্রি শুরু
  • আকাশছোঁয়া পেঁয়াজের দাম দ্রুত কমছে
  • কর্নেল অলির এলডিপি ভাঙলো
  • শাকিব খানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা
  • সড়ক আইনের প্রতিবাদে ১০ জেলায় বাস বন্ধ
  • পেঁয়াজ : ২৫০০ ‘অসাধু’ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
  • বাংলাদেশে আরব আমিরাতের আরও বড় আকারের বিনিয়োগ প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর
  • লবণ নিয়ে সিলেটজুড়ে গুজব !
  • জেলা ও মহানগর আ’লীগের সম্মেলন ৫ ডিসেম্বর
  • সিলেটে সড়কে প্রাণ গেল দুই শিশুর
  • দেওয়ান ফরিদ গাজীর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
  • দুর্ঘটনা রোধে ট্রেনে ও ট্র্যাকে ডিভাইস বসানোর সুপারিশ
  • প্রথম দিনে সড়ক আইনের ‘নরম’ প্রয়োগ
  • শ্রীলংকার নতুন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে
  • আরব আমিরাতের শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত
  • স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন হবে বোর্ডের বই থেকে
  • সিলেটসহ সারাদেশে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা শুরু
  • ৩ কিলোমিটারে ৩১ গতিরোধক
  • দ্রব্যমূল্যে উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সিলেট বিএনপির বিক্ষোভ আজ
  • Developed by: Sparkle IT