উপ সম্পাদকীয়

আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে

মোঃ রফিকুল হক প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-১০-২০১৯ ইং ০০:৫৩:১৫ | সংবাদটি ৮৭ বার পঠিত

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল আগামী ২১ ও ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং। এই লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে সারাদেশ ব্যাপী জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের অসমাপ্ত সম্মেলন জাতীয় কাউন্সিলের পূর্বেই শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাতে করে বঞ্চিত ও অসমাপ্ত এরিয়ার তৃণমূল নেতাকর্মী নেত্রীর শুদ্ধি অভিযানে যারপর নাই খুশী। দীর্ঘ দশ বছর থেকে দুই যুগের বেশি সময় ধরে ত্রি-বার্ষিক কমিটিগুলো জগদ্দল পাথরের ন্যায় বসে আছে। নতুন নেতৃত্ব যে ওঠে আসবে তার কোন সুযোগ ছিল না। ত্যাগী ও তরুণ উজ্জীবিত দলের জন্য নিবেদিত কর্মীরা দলের মধ্যে নিস্তেজ হয়ে রয়েছে। কারণ হলো ‘যে লংকায় যায় সেই রাবণ বনে যায়’। কিন্তু বিগত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটিতে দলের সভানেত্রী ঘোষণা দেন যে, দলের ভিতর ঘাপটি মেরে বসে থাকা লোকজন নানা ধরনের অপকর্মে লিপ্ত। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকরী এ্যাকশন নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিলে শুরু হয়ে যায় ধড়-পাকড়। প্রথমেই ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অব্যাহতির মধ্য দিয়ে ক্লীন অভিযান শুরু হয়ে যায়।
পরবর্তীতে যুবলীগের দুর্দান্ত প্রতাপের কুকর্ম ও অপকর্মের বিরুদ্ধে এ্যাকশন শুরু হয়। বেরিয়ে আসে জুয়া ও ক্যাসিনোর লীলা। তাদের গুটি কয়েকজনের পাহাড় পরিমাণ অর্থ লুটের ঘটনায় পুরো জাতি স্তম্ভিত। শত হাজার কোটি টাকা পাচার সহ নানাবিধ অনৈতিক কাজ সহ টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজি ও রংবাজি করে যাচ্ছিল। তাতে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা, যুবলীগের শীর্ষরা ওদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে এত আত্মঅহংকারী করেছিলেন যে, তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করেছে। বিভিন্ন দপ্তরের কাজকর্ম তাদের ছাড়া অন্যরা পাওয়া কল্পনারও অতীত হয়েছিল। হাজার হাজার কোটি টাকার কাজে প্রায় ফিফটি পার্সেন্ট উৎকোচ দিয়ে প্রধান প্রকৌশলীদেরকে বাগিয়ে নিয়েছেন, তাতে শুধু ওরাই শেষ নয়, আস্তে আস্তে থলের বিড়ালদের নাম বেরিয়ে আসছে। টাকার জোরে বিভিন্ন দল থেকে এসে পদ পদবি কিনে নিয়েছে। শুধুমাত্র অর্থ বাণিজ্যের কারণে দলের ত্যাগী পরীক্ষিত, সময়ের রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনের নেতাদের বঞ্চিত করে নিজেরা পাহাড় পরিমাণ অর্থলুট করে তা আবার বিদেশে মানি লন্ডারিং এর মাধ্যমে পাচার করে থাকে। এমতাবস্থায় দেশরতœ শেখ হাসিনার সাহসী ও বলিষ্ট পদক্ষেপে পুরো জাতি খুশী হয়ে স্বাগত জানিয়েছে যাতে এই শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকে। দেশের সকল উন্নয়নের ধারাকে যাতে কোন অবস্থায় এই দুষ্কর্ম বাধাগ্রস্ত না করতে পারে, সেদিকে নজরদারী বাড়াতে হবে। লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা যাতে গুটি কয়েক গণদুশমনদের কারণে আঘাতপ্রাপ্ত না হয়, সেজন্য আপামর জনগণ তথা নেতা কর্মীদের অতন্ত্র প্রহরীর মত কাজ করতে হবে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আজীবন সংগ্রামের লালিত সোনার বাংলায় যাতে কোনো হানাদার অনুপ্রবেশকারী আত্মকলহ সৃষ্টিকারী আওয়ামী লীগ নামক শ্রেষ্ঠ সংগঠন ধ্বংস করতে না পারে। সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রায় প্রতি জেলায় উপজেলায় কর্মী সম্মেলন, বর্ধিত সভা সহ মত বিনিময় করে যাচ্ছেন। যাতে এতদিন যা ত্রুটি বিচ্যুতি ছিল তা সংশোধন করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সম্মেলন দ্রুত শেষ করতে পারে তার নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। দলের ভিতর থেকে যারা শেখ হাসিনার প্রতীক নৌকার বিরুদ্ধে নিজের মনমত প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন, তারা যাতে ভবিষ্যতে কোন পদ পদবিতে অংশ গ্রহণ করতে না পারে সেই জন্য জননেত্রীর কঠোর ঘোষণায় অনঢ় রয়েছেন। সুখের সময় নৌকার মাঝি, আর নৌকার দুর্দিনে কিংবা নেত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান-তাদের মত নেতা কর্মীর প্রয়োজন নেই বলে কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন প্রোগ্রামে এসে বারবার নেতাকর্মীকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। সিলেটের আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সর্বজন শ্রদ্ধেয় আ.ন.ম শফিকুল হক সাহেবের স্মরণ সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কঠিন ভাষায় বলেন’ ঐ নেতারা কোন সময় আর পদ পদবিতে নির্বাচন করতে পারবে না।’ নেত্রী বলেছেন, ঐসব চাঁদাবাজ টেন্ডারবাজ ও রংবাজদের কারণে আমার দুর্দিনের নেতা কর্মীরা স্বচ্ছলভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না আমি সেই সকল নেতা-কর্মীদের মূল্যায়নের জন্য তৃণমূলের কর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছি। কেন্দ্রীয় নেতারা নেত্রীর সেই অঙ্গিকার জেলায় জেলায় গিয়ে কর্মী সম্মেলনে প্রচার করছেন। সিলেটের বর্ধিত সভায় এসে সাবেক শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, মাহবুবুল আলম হানিফ ও সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত আহমদ হোসেন কঠোর ভাষায় সিলেটের সাংগঠনিক নড়বড় অবস্থানের জন্য ধিক্কার দিয়েছেন। ‘নেতা-কর্মীর মধ্যে মিল নেই, প্রতি উপজেলায় ১৪ বৎসর পরেও ইউনিয়ন সম্মেলন হয় নাই। কোনটির সভাপতি/সম্পাদক থাকলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি নাই। কোন কোনটির কমিটি থাকলেও সভাপতি আছে সম্পাদক নেই। সম্পাদক আছে সভাপতি নেই। এর জন্য বারবার আমরা সিলেট সিটি কর্পোরেশনে হেরে যাই।’ তাই দ্রুত এসব কঠিন সমস্যার সমাধান নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছেন।
দলে যাতে কোন অবস্থায় কোন রাজাকার সন্তান, জামাত শিবির অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ত্যাগী সৎ যোগ্য ও সুশিক্ষিতরা যাতে পদ পদবি অলংকৃত করতে পারে, তার জন্য কাজ করে যেতে হবে। চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, রংবাজ ও ফটকাবাজ যাতে টাকার বিনিময়ে যোগ্য প্রার্থীকে পরাজিত না করতে পারে এবং দলে কোন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে তার দিকেও সুদৃষ্টি রাখতে হবে। তৃণমূল নেতা কর্মীরা নেত্রীর ভাষায় প্রাণভ্রমরা। তাদেরকে মূল্যায়ন সম্মান ও শান্তি দেওয়া প্রতিটি দায়িত্বশীল নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ। তৃণমূল সুসংগটিত থাকলে দল সুসংগটিত থাকে। তাতে কোন আগাছা-পরগাছা ঢুকতে পারবে না। আগামী উপজেলা সম্মেলন যোগ্য প্রার্থী স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে বেরিয়ে এসে সঠিক ও সুন্দর নেতৃত্ব দিবে তাই প্রত্যাশা করি। ত্রিবার্ষিক কমিটি যাতে তিন বৎসরের আগেই সম্মেলন করে সেই প্রত্যাশাটুকু দলের সভানেত্রীর কাছে পেশ করলাম।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT