ধর্ম ও জীবন

আমার নামাজ আমার অনুভুতি

মুন্সি আব্দুল কাদির প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-১০-২০১৯ ইং ০১:১২:৫১ | সংবাদটি ৩০৫ বার পঠিত

নামাজ মুমিনের মিরাজ বা আল্লাহর দিদার। আসলে কি আমি যখন নামাজে দাঁড়াই, নামাজ শুরু করি তখন কি আমার মনে এই চিন্তা, এই আশা, এই চেষ্টা থাকে? আমি কি মনে করি আমার পরম প্রিয় আমার সামনে হাজির? আমি কি তার সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ব্যাকুল ছিলাম? এখন তিনি আমাকে ডেকে নিয়েছেন। তিনি আমাকে এত্তো ভালবাসেন যে প্রতিদিন পাঁচবার আমাকে সাক্ষাৎ দেওয়ার জন্য মধুর সুরে ডেকে নেন। আমি পবিত্র হয়ে সেজেগুজে তার সামনে হাজির হই। তার আশ্রয় ছাড়া আমি শয়তানের শত্রুতা থেকে বাঁচতে পারি না। শয়তান আমার এমন এক শত্রু যাকে প্রকাশ্য দুশমন হিসেবে আমার প্রিয় উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তাকে প্রতিরোধ করার, ধ্বংস করার, শেষ করে দেওয়ার কোন অস্ত্র আমার কাছে নেই। কেবল মাওলার সাহায্যই আমাকে তার আক্রমণ থেকে, যড়যন্ত্র থেকে বাচাঁতে পারে। এছাড়া আমার কোন বিকল্প নেই। আমি জানি সে আমার চরম দুশমন, সে আমাকে শেষ করে দিতে চায়। আমিও চাই তার আক্রমণ থেকে বেঁচে থাকি। সে আমাকে দেখে, আমি তাকে দেখতে পাইনা। শুধু অনুভবে তাকে আমি ধরতে পারি। নামাজ শুরু করে তাই মাওলার নিকট কাতর কণ্ঠে আশ্রয় চাই। সে ছিল মাওলার প্রিয়। আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে সে চরম লাঞ্চিত বঞ্চিত ও অপমানিত হয়েছে। সে চায় যে মানুষের কারণে তার এই পরিণতি সেই মানুষও যেন তার মত অপমানিত হয়। তাই সে সব দিক দিয়ে আমাকে আক্রমণ করে। সে চায় আমিও তারমত নাফরমান বান্দা হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেই। কিন্তু আমিতো চাই মাওলার প্রিয়পাত্র হতে। তাই যখনই মসজিদ থেকে আমাকে ডাকা হয় আমি দেরী না করে মসজিদে হাজিরা দেই। আমি তাকবীরে তাহরিমার পর আল্লাহ যে আমাকে তার দরবারে হাজিরা দেওয়ার তৌফিক দিয়েছেন তার জন্য ছানার মাধ্যমে তার প্রসংশা করে তায়াউউজ এর মাধ্যমে আশ্রয় চেয়ে তার রহমত কামনা করতে থাকি আমি পড়তে থাকি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আমার চিন্তায়, আমার ভাবনায় একটি বিষয়ই সামনে আসে আমার মাওলা পরম দয়াময় পরম দয়ালু তিনি আমাকে অবশ্যই দয়া করবেন। তাঁর দয়াতেই একমাত্র আমি বেঁচে আছি। আমার অপরাধ, আমার গাফলতি, আমার বেহায়াপনা, আমার অপারগতা সবকিছুই আমার ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু মাওলার দয়া সবকিছু থেকে আরোও অনেক অনেক বিস্তৃত। তার দয়া সব কিছুকে বেষ্টন করে আছে। তার দয়া ছাড়া প্রভাতের সূর্য উদিত হয় না এবং শান্তির নিদ্রার জন্য রাতের আঁধারও ঢেকে দেয় না। এযে এক মহা নেয়ামত। তাই নামাজের সকল কাজ কেবল তার নামেই শুরু করি।
আমি মনোনিবেশ করি সুরা ফাতিহার দিকে। যাতে তিনটি অংশ রয়েছে। প্রথমটি শুধু মাওলার জন্য খাস। আমার মাওলা যেহেতু আমাকে মধুর সুরে ডাক দিয়েছেন। আমি প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে হাজিরা দিতে পেরেছি। নামাজের জন্য তাকবীরে তাহরিমা বেঁধে তায়াউউজ তাসমিয়া পড়তে পেরেছি। এখন আমার একমাত্র কাজ তার প্রশংসা করা। তার প্রশংসার গুণাগুণ বর্ণনার পরই আমি তার কাছে আমার আকুতি কাকুতি পেশ করব। তাকে ছাড়াতো আমার আর চাওয়া পাওয়ার কোন জায়গা নেই। তিনি আমার একমাত্র মালিক। তিনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমার প্রয়োজন, উপকারিতা, আমার ক্ষতি তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। তিনি এমন স্রষ্টা যিনি সব কিছুকে সৃষ্টি করেছেন। সকল জাহানের তিনি একক মালিক। তবে তিনি পরম দয়ালু মালিক। আমি তার কথামত চলি অথবা অমান্য আর অবহেলা করি। তিনি শেষ বিচার দিনেরও মালিক। আমার সব চাওয়া পাওয়া তাকে কেন্দ্র করেই। আমি কেবল মাত্র তারই ইবাদত করি আর তাঁর নিকটই সাহায্য চাই। আমি ছাড়া তার কোটি কোটি বান্দা রয়েছে। কিন্তু তিনি ছাড়া আমারতো কোন মাবুদ নেই। আমার কাকুতি মিনতি বলার আরতো কোন জায়গা নেই। এই কথাগুলো বাহ্যিক অবয়ব ও আভ্যন্তরীন তাৎপর্য আমাকে ভাবুক করে তুলে। এই কালিমাগুলো পড়তে থাকি প্রতিদিন কমপেক্ষে ৩২ বার। কিন্তু আমার না থাকে কথাগুলোর সাথে কোন মনোযোগ কোনো মনোসংযোগ। আমি পড়তে থাকি আর আমার মন ঘুরতে থাকে এদিক ওদিক। অথচ আমি বলি মাওলা আমি তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। হ্যাঁ বাহ্যিকভাবে দাঁড়িয়ে আছি অন্তর ছুটাছুটি করছে কত দিক তার কোন হিসাব নেই। আমি আমার দেহটাকে পাকড়াও করতে পেরেছি। কিন্তু অন্তরের গলে রশি বাঁধতে পারিনি। এ নিয়ে কোন চিন্তা ফিকিরও নেই। তাইতো আমার নামাজ প্রাণহীন। আমি বারবার হোচট খাচ্ছি আবার সোজা হয়ে দাঁড়াতে চাই। সোজা হয়ে আবার বেখেয়ালে চলতে থাকি। আবারও পড়ে যাই। কারণ আল্লাহর বড়ত্ব, আল্লাহর মহিমা, আল্লাহর দয়া মায়া, আল্লাহর শাস্তির ভয় কোনটাই বদ্ধমূলভাবে আমার অন্তরে স্থান করে নিতে পারেনি। আমি আল্লাহ ভীতি নামক গাছের গোড়ায় সেচ, সার আর নিরানি দেই নি। তিনি রাব্বুল আলামিন, রাহমান রাহিম, শেষ দিবসের মালিক এই কথাগুলোর ভাব বুঝতে আজোও আমি চাইনি। তাই ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাই’ন এই কথা আমার মধ্যে কোন আবেদন সৃষ্টি করে না। মহান প্রভুর প্রেম ভালবাসায় আমি আপ্লুত হইনা। তাঁকে প্রিয় হিসেবে পাওয়ার আনন্দ বা চেষ্টা অথবা হারানোর কোন ব্যথা আমার মধ্যে অনুপস্থিত।
একজন রাষ্ট্র প্রধান কোন মন্ত্রি কোন এমপি বা বড় কোন কর্তার সামনে আমি হাজির হলে তার প্রশংসা করতে আমি যেভাবে অন্তর বিগলিত করে দেই। আবেগে আল্পুত হই। নামাজে এর পুরোটাই অনুপস্থিত। কারণ ঐ নেতার বা কর্তার চেয়ে আমার মাওলার স্থান অন্তরে খুব বেশী নেই। আমার মাওলার ভালবাসা ভয় কোনটাই আমার মনে কার্যকর নেই। কিন্তু যখন আমি অসুস্থ অথবা বিপদগ্রস্ত হই তখন ঠিকই মাওলার কাছে কাঁদতে থাকি। তাঁর কাছে নিবেদন পেশ করতে থাকি। কারণ মাওলা ছাড়া তখন আর কোন গতি থাকে না ।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT