ধর্ম ও জীবন

তাফসির

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-১০-২০১৯ ইং ০১:১৫:২৮ | সংবাদটি ১৫৭ বার পঠিত

হযরত ইবরাহিমের তৃতীয় দোয়া এই যে, এ শহরের অধিবাসীদের উপজীবিকা হিসাবে যেন ফল-মূল দান করা হয়। মক্কা-মুকাররমা ও পার্শ্ববর্তী ভূমি কোনরূপ বাগ-বাগিচার উপযোগী ছিলো না। দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ছিলো না পানির নাম নিশানা। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা ইবরাহিমের দোয়া কবুল করে নিয়ে মক্কার অদূরে ‘তায়েফ’ নামক একটি ভূখ- সৃষ্টি করে দিলেন। তায়েফে যাবতীয় ফলমূল প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয় যা মক্কার বাজারেই বেচা-কেনা হয়।
হযরত খলিলুল্লাহ (আ.) এর সাবধানতা : আলোচ্য আয়াতে মু’মিন ও কাফের নির্বিশেষে সমগ্র মক্কাবাসীর জন্যে শান্তি ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের দোয়া করা হয়েছে। ইতোপূর্বে এক দোয়ায় যখন হযরত খলীল স্বীয় বংশধরের মুমিন ও কাফের নির্বিশেষে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, তখন আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো যে, মু’মিনদের পক্ষে এ দোয়া কবুল হলো, জালেম ও মুশরিকদের জন্য নয়। সে দোয়াটি ছিলো নেতৃত্ব লাভের দোয়া। হযরত খলীল (আ.) ছিলেন আল্লাহর বন্ধুত্বের মহান মর্যাদায় উন্নীত ও খোদাভীতির প্রতীক। তাই এ ক্ষেত্রে সে কথাটি মনে পড়ে গেল এবং তিনি দোয়ার শর্তে যোগ করলেন যে, আর্থিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও শান্তির এ দোয়া শুধু মুমিনদের জন্য করছি।
আল্লাহর পক্ষ থেকে এ ভয় ও সাবধানতার মূল্য দিয়ে বলা হয়েছে : অর্থাৎ, পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আমি সমস্ত মক্কাবাসীকেই দান করবো, যদিও তারা কাফের, মুশরিক হয়। তবে মু’মিনদেরকে ইহকাল ও পরকল সর্বত্রই তা দান করবো, কিন্তু কাফেররা পরকালে শাস্তি ছাড়া আর কিছুই পাবে না।
স্বীয় সৎকর্মের উপর ভরসা না করা ও তুষ্ট না হওয়ার শিক্ষা : হযরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে সিরিয়ার সুজলা-সুফলা সুদর্শন ভূখ- ছেড়ে মক্কার বিশুষ্ক পাহাড়সমূহের মাঝখানে স্বীয় পরিবার-পরিজনকে এনে রাখেন এবং কা’বা গৃহের নির্মাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। এরূপ ক্ষেত্রে অন্য কোন আত্মত্যাগী সাধকের অন্তরে অহংকার দানা বাঁধতে পারতো এবং সে তাঁর ক্রিয়াকর্মকে অনেক মূল্যবান মনে করতে পারতো। কিন্তু এখানে ছিলেন আল্লাহর এমন এক বন্ধু যিনি আল্লাহর প্রতাপ ও মহিমা সম্পর্কে যথার্থভাবে অবহিত। তিনি জানতেন, আল্লাহর উপযুক্ত এবাদত ও আনুগত্য কোন মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। প্রত্যেকেই নিজ নিজ শক্তি সামর্থ অনুযায়ী কাজ করে। তাই আমল যতো বড়োই হোক সে জন্য অহংকার না করে কেঁদে কেঁদে এমনি দোয়া করা প্রয়োজন যে, হে পরওয়ারদেগার। আমার এ আমল কবুল হোক। কা’বা গৃহ নির্মাণের আমল প্রসঙ্গে হযরত ইবরাহিম তাই বলেছেন, হে পরওয়ারদেগার! আমাদের এ আমল কবুর করুন। কেননা, আপনি শ্রোতা, আপনি সর্বজ্ঞ।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT