পাঁচ মিশালী

পারিবারিক জীবনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক

আহমদ আসাদুজ্জামান দুলাল প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-১০-২০১৯ ইং ০০:১২:২৪ | সংবাদটি ৩০৯ বার পঠিত

পরিবার বলতে আমরা সাধারণত বুঝি, মা -বাবা ভাই-বোন নিয়ে গঠিত অংশকে। কিন্তু বাস্তব কথা হলো পরিবার এমন যেখানে মা-বাবা, ভাই-বোন এবং স্বামী স্ত্রী এবং তাদের সন্তান সন্তানাদিকে নিয়ে বসবাস করা হয়।
আমাদের সমাজের প্রতিটি পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক প্রতিটি ছেলে মেয়েদের নিজ নিজ ধর্মীয় মতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তাদেরকে প্রথমত যে নামে ডাকা হয় তা হলো স্বামী-স্ত্রী। বিয়ে হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যারা বিয়ে করে নাই। তারা এর প্রকৃত স্বাদ বা মর্ম বুঝতে পারে না বা পারবে না। একটি পরিবারে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কে কেমন হওয়া উচিৎ, যদি বলি তবে, স্বাভাবিকভাবেই কতগুলো প্রশ্ন মনের মধ্যে চলে আসবে যেমন প্রথমত- আপনি কি রকম পরিবারে অবস্থান করছেন? আপনার পরিবারের সদস্য সংখ্যা কতজন? বংশগত ভাবে আপনার পরিবারের স্ট্যাটাস কি? আপনার বা আপনাদের শিক্ষাগত মান কি ? তার পরেই স্বভাবই জানার আগ্রহ আগ্রহী যে পরিবারটি কি নিজ নিজ স্ব-ইচ্ছায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল? সর্বশেষ বিষয়টি হলো, একটি পরিবারের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কি রকম সম্পর্ক থাকার কথা এবং বাস্তব অর্থে বা চিত্রে আমরা কি দেখতে পাই। আসুন একটু আলোকপাত করি।
স্বামী এবং স্ত্রী দু’জনেই মিলে কিন্তু প্রকৃত অর্থে একজন। আরো সহজভাবে যদি বলি তবে, স্বামীস্ত্রী হচ্ছেন একজন আরেকজনের বন্ধুর মতো, ছায়ার মতো, একে অপরের পরিপূরক। যদি বলি অন্যভাবে তবে তা হবে, স্বামীতে সব আর স্ত্রী তে সার্বজনীন।
প্রতিটি পরিবারের স্বামী এবং স্ত্রী উভয়েই চায় তাদের পরিবার যেনো সুখী, সমৃদ্ধশালী এবং ভালোবাসায় ভরপুর, আদর্শ পরিবার হোক কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, আমাদের সমাজের মধ্যে বিদ্যমান পরিবারগুলোর অনেক সময় অনেক ধরণের বিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেমন ধরুন, একক পরিবারের চালচলন কথাবার্তা, আচার-ব্যবহার, শিক্ষার হার স্বাবলম্ভিতা এবং দারিদ্রতা ভিন্নতর হওয়ার দরুন অনেক সময় পরিবারের মধ্যে অনৈক্য বা মতাদ্বন্ধ বা মতবিরোধ চলে আসে খুব সহজেই। যার ফলশ্রুতিতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের ঘাটতি অনেক সময় পরিলক্ষিত হয়। এখানে একটি কথা না বললেই হয় না, স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে একটি মধুর সর্ম্পক থাকে হোক সেটা রাগ অভিমান, ক্ষোভ, জগড়া-বিবাধ কলহ সবকিছু কেই ছাপিয়ে কিন্তু তারা এক অর্থে স্ব-মহিমায় উজ্জল, এক বাক্যেই তাদের পরিচয় বহন করে, তা হলো, তারা উভয়েই স্বামী স্ত্রী।
একটি পরিবারের মধ্যে স্বামী স্ত্রী যখন মিলেমিশে একাকার থাকে সর্বাবস্থায়, তখন সেই পরিবারে সুঃখ না এসে পারে না। দুঃখগুলো তখন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে অবলোকন করতে থাকে, ভালোবাসার মেলবন্ধন বা সেতুবন্ধন। তবে শর্ত হলো, কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয় সেটিও মাথায় রাখতে হবে। অনেক সময় পরিবারে অনেক কিছু ঘটবে অনেক কিছু দেখবে অনেক কিছু জানবে কিন্তু সবকিছুতেই কান না দিয়ে বাস্তবতা অবলোকন করে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে যেতে পারলেই সুঃখি পরিবারের দেখা মিলবে। বলা হয়ে থাকে, সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে কথাটির মর্মগত এবং তাত্ত্বিক অনেক দিক রয়েছে।
যাই হোক, আমি বলবো ‘‘সংসার সুখের হয় স্বামী-স্ত্রী উভয়ের গুনে। আমাদের সমাজে প্রায়ই দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুলবুঝাবুঝির কারণে অনেক পরিবারই ভেঙ্গে যাচ্ছে। যার মূলে অন্যতম কারণ রয়েছে কয়েকটি যার মধ্যে, শিক্ষার হার কম থাকা, অজ্ঞতা, বয়সের তারতম্য, পারিবারিক বোঝাপাড়ার অভাব, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে না চলা ইত্যাদি।
একটি সংসারে স্বামীর যেমন কর্তৃত্ব থাকবে স্বভাবতই যেখানে স্ত্রীর ও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। স্বামী যেমন প্রত্যাহিক সকল কাজকর্ম সম্পাদন করবে সংসারের প্রয়োজনে সেখানে স্ত্রীর উচিৎ হবে স্বামীকে সর্বাত্মক সহায়তা করা। ঠিক তেমনিভাবে স্ত্রীর যাবতীয় সাংসারিক কাজে স্ত্রীকে সার্বিক সহায়তা করা ও একজন প্রকৃত স্বামীর কর্তব্য। মোটকথা হলো, স্বামী স্ত্রীর যৌথ প্রচেষ্টায়-ই কিন্তু একটি সুখী বা আদর্শ সংসার পরিবার গঠন করতে সহায়তা করে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT