উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

মা ইলিশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে হবে

সুধীর বরণ মাঝি প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-১০-২০১৯ ইং ০০:১৪:৪০ | সংবাদটি ৯১ বার পঠিত

চলছে মা ইলিশ রক্ষার অভিযান, কিন্তু থেমে নেই জেলেদের মাছ ধরা। গত ১২ তারিখের কোনো এক দৈনিকে দেখলাম ভোলার চরফ্যাশনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইলিশ কেনাবেচা। ১৪ তারিখে চাঁদপুরের একটি স্থানীয় পত্রিকায় দেখলাম গভীর রাতে মেঘনা থেকে ইলিশ ধরার খবর। এ রকম মাছ ধরার খবর প্রতিদিনই কোনো না কোনো দৈনিকে দেখতে পাওয়া যায় এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও পরিবেশিত হয়। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলেরা মেতে উঠেছে ইলিশ নিধনে। প্রশাসনের দুর্বলতায় জেলেরা ইলিশ ধরায় মেতে ওঠে। এক্ষেত্রে কঠোরতা এবং সচেতনতার বিকল্প নেই।
আমাদের নদীগুলো ইলিশের ডিম ছাড়ার জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত। আমাদের নদীগুলো মা ইলিশের বাচ্চা ফুটানোর জন্য নিরাপদ। তাই ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ এবং ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা যাবে না। বিগত বছরগুলোতে দেখেছি মা ইলিশ রক্ষার অভিযান চলাকালীন সময়ে জেলেদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলেও কিছু অসাধু এবং অতি লোভী জেলে বিশেষ করে ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, লক্ষীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মাওয়া, গজারিয়া, চাঁদপুরের মতলব, রাজরাজেশ্বর, হাইমচর, কাটাখালী, চরভৈরবী, ঈশানবালাসহ আরো কিছু এলাকায় দিনের আলোতে এবং রাতের আঁধারে অনেকটা প্রশাসনের নাকের ডগায় অবাধে নিধন করা হয় মা ইলিশ এবং ডিমওয়ালা ইলিশ। বর্তমান সময়েও এ দৃশ্য চোখে পড়ছে। এভাবে ইলিশ নিধন করতে থাকলে আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ অস্তিত্বের সংকটের মুখে পড়বে এবং ইলিশ হয়ে পড়বে দু®প্রাপ্য। ইলিশের যেমন আছে পুষ্টিগুণ তেমনি আছে অর্থনৈতিক গুরুত্ব। ইলিশ রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয়। ইলিশের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে দেশের এক শতাংশ মানুষ এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মা ইলিশ রক্ষার অভিযানকে সফল করতে হলে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে, মা ইলিশ রক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপের কঠোর হস্তে সফল বাস্তবায়ন করতে হবে। অভিযানে কেউ যেন কোনো প্রকার সুযোগ গ্রহণ করতে না পারে সেদিকে প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সেনাবাহিনীকেও ইলিশ রক্ষার অভিযানকে সফল করার জন্য কাজে নিয়োজিত করা যেতে পারে। মা ইলিশ রক্ষার অভিযানকে সফল করার জন্য আমাদের প্রিন্ট মিডিয়া এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। মা ইলিশ রক্ষার উপকারিতা মিডিয়ার মাধ্যমে জনসাধারণের মাঝে তুলে ধরতে হবে। এই অভিযানকে সফল করার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নাগরিককেও এগিয়ে আসতে হবে। লোক দেখানো অভিযান নয়, চাই মা ইলিশ রক্ষার সফল অভিযান। এর জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু করতে হবে বিনা বাধায়, বিনা সংকোচে। প্রশাসনের যথাযথ দায়িত্ব পালন এবং জনসচেতনতাই পারে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানকে সফল করে তুলতে। নিষিদ্ধ সময়ে যারা জেলেদের মা ইলিশ ধরার কাজে উৎসাহিত করে তারা দেশ ও জাতির শত্রু। তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে প্রশাসনের কোনো রকম অবহেলা পরিলক্ষিত হলে তাকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে মা ইলিশ রক্ষার গুরুত্ব।
একটি ডিমওয়ালা মা ইলিশকে নিধন করা মানে হচ্ছে আগামী দিনে তেইশ লাখ ইলিশকে হত্যা করা। তাদের বুঝাতে হবে এক ইলিশে তেইশ লাখ ডিম, মা ইলিশের যতœ নিন। মা ইলিশের যতœ করি, ইলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি করি। তাই অভিযানের মাধ্যমে একটি ডিমওয়ালা মা ইলিশকে রক্ষা করতে পারলে আগামী দিনের জন্য তেইশ লাখ ইলিশকে রক্ষা করা যাবে। আর ইলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে চক্রবৃদ্ধি হারে। সামাজিক আন্দোলন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও অবস্থান, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং সচেতনতার মাধ্যমে মা ইলিশ ও ডিমওয়ালা ইলিশ রক্ষার অভিযান সফল হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
লেখক : শিক্ষক।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT