সম্পাদকীয়

বজ্রপাতের স্থায়ীরূপ

প্রকাশিত হয়েছে: ২০-১০-২০১৯ ইং ০০:২০:৫৮ | সংবাদটি ৯৮ বার পঠিত


বর্ষার শুরু এবং শেষের দিকের দুর্যোগ হচ্ছে বজ্রপাত। কিন্তু এটি এখন সারা বছরের জন্য স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। বর্ষা বিদায় নিয়েছে। আসছে হেমন্ত-শীত ঋতু। কিন্তু রেহাই পাওয়া যচ্ছে না বজ্রপাতের হাত থেকে। সাধারণত মার্চের শেষ ভাগ থেকে জুন মাসের প্রথম ভাগ পর্যন্ত বজ্রপাত আঘাত হানে। বিগত সময়ে এমনই ছিলো। কিন্তু এবার অক্টোবরেও বজ্রপাতের আঘাতে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব ও বিকাশমান অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রেক্ষিতে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির বহুমাত্রিক ব্যবহারের কারণে দেশে ক্রমেই বজ্রপাতের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশংকাজনক হারে ঘটছে প্রাণহানি। অতীতে এই দুর্যোগের হার কম ছিলো। তখন তাই বন্যা, জলোচ্ছ্বাসকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে অভিহিত করা হলেও বজ্রপাত সেই তালিকায় ছিলো না। ২০১৬ সাল থেকে বজ্রপাতকেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের তালিকায় নিয়ে আসা হয়েছে।
গবেষণার তথ্য হচ্ছে ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর ৪০ ভাগ ঘটছে মে মাসে। সারা বিশ্বে বজ্রপাতে মৃত্যুর এক চতুর্থাংশই ঘটছে বাংলাদেশে। বিশেষ করে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে। আর এই বজ্রপাত প্রবণ এলাকার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে সুনামগঞ্জ। জানা গেছে, ভারতের খাসি পাহাড় ও মেঘালয় এলাকায় মে মাস পর্যন্ত ঘন ঘন মেঘ জমে। এই স্তরীভূত মেঘে মেঘে ঘর্ষণের ফলে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সুনামগঞ্জ অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে বেশি। আর হাওরে ধান কাটতে গিয়েই বেশির ভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। বজ্রপাতের ৯৪ ভাগই ঘটে গ্রামীণ জনপদে এবং ৮৬ ভাগ মৃত্যু হচ্ছে উন্মুক্ত স্থানে। এক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা নতুন একটি তথ্য দিয়েছেন। সেটা হলো কৃষক, শ্রমিক, জেলে পেশার লোকজনই বজ্রপাতের বেশি বলি হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে কৃষি কাজে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ভারী ধাতব কৃষি যন্ত্রাংশ। যা বজ্রপাত টেনে নেয়ার ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা রাখছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মওসুমী বায়ু এখন বিদায় নেয়ার পথে। এর পর থেকে শীতের আগমনী বার্তা শোনা যাবে। কিন্তু শীতে বৃষ্টি হলে বজ্রপাতের আশংকা থেকেই যাচ্ছে।
বজ্রপাতের প্রকৃত কারণ কী, সেটা এখনও অজানা। তবে বিজ্ঞানীগণ পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বজ্রপাতের অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন। তাছাড়া ব্রিটিশ আমলে সারাদেশে স্থাপিত বজ্রপাত নিরোধক পিলার চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনাতো আছেই। বজ্রপাত প্রতিরোধ করা যাবে না, এটা ঠিক; তবে কিছু কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে বজ্রপাতের ভয়াবহতা হ্রাস করা যায়। যেমন- খোলা জায়গা ও জলাশয় ভরাট না করা, বন জঙ্গল সংরক্ষণ, তাল, সুপারি ও নারিকেল গাছের মতো উঁচু গাছের পরিমাণ বাড়লে বজ্রপাত অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উঁচু গাছ বজ্রপাতকে নিজের দিকে টেনে নিতে পারে। ২০১৬ সালে সারাদেশে দশ লাখ তাল গাছ রোপণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগেও তাল, সুপারি, নারিকেল গাছ লাগানো যায়। এছাড়া বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য সরকার নির্ধারিত অন্যান্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT