উপ সম্পাদকীয়

আফ্রিকা-চীনের দ্বিতীয় মহাদেশ

অ্যাডভোকেট আনসার খান প্রকাশিত হয়েছে: ২১-১০-২০১৯ ইং ০০:১৯:১১ | সংবাদটি ১৪৯ বার পঠিত

বিশ্বশক্তি হওয়ার আকাক্সক্ষার অংশ হিসেবেই চীন আফ্রিকা মহাদেশে তার প্রভাব প্রতিপত্তি এবং আধিপত্য স্থাপনের লক্ষ্যে আফ্রিকান দেশগুলোর সাথে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করে চলেছে কয়েক দশক ধরে।
‘ডার্ক কন্টিন্যান্ট’ খ্যাত আফ্রিকা মহাদেশের সর্বত্র গরিবী অবস্থা বিদ্যমান, নি¤œ আয়, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, অর্থনৈতিক দুরাবস্থা এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক সংকট এবং অস্থিরতার কারণে এ মহাদেশে সত্যিকার অর্থে আধুনিকতার ছোঁয়া পড়েনি তেমন একটা।
মোট ৫৪ রাষ্ট্র, ৯ টেরিটরি এবং ২ স্বাধীন রাষ্ট্র (স্বীকৃত নহে) নিয়ে গঠিত বৃহৎ এ মহাদেশ জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় জনসংখ্যা বহুল মহাদেশ। এর মোট জনসংখ্যা হলো ১.২ বিলিয়ন। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ মহাদেশে রয়েছে প্রচুর তেল, গ্যাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ। যেমন ঃ ডায়মন্ড, চিনি, লবণ, ইউরেনিয়াম, দুষ্প্রাপ্য খনিজ পদার্থ, বীনস, পেট্রোলিয়াম, কোবাল্ট, কপার, বকসাইট, সোনা-রূপার খনি ইত্যাদি নানা প্রকারের প্রাকৃতিক সম্পদ। বিশ্বের মোট হাইড্রোকার্বনের মজুদের মধ্যে ৩০% শতাংশই রয়েছে এ মহাদেশে।
আফ্রিকার মোট ১০ রাষ্ট্রে প্রচুর তেলের মজুদ রয়েছে। দেশগুলো হলো নাইজেরিয়া, এঙ্গোলা, কঙ্গো, গায়েনা, গ্যাবন, সাউথ সুদান, ঘানা, সুদান, চাদ এবং ক্যামেরন। এ সকল দেশ প্রতি বছর মোট ২৪৭৬০০ টন তেল উৎপাদন করে বলে পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের সংখ্যা, জনসংখ্যার বিশালত্ব, মহাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, এর তেল সম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য্যতার কারণে সার্বিক অর্থেই এ মহাদেশ একটা বৃহৎ বাজার। বৃহৎ এ বাজারই চীনকে আকৃষ্ট করেছে। ফলে চীন সরকার, চীনের সরকারী-বেসরকারী বহুজাতিক কোম্পানীগুলো আফ্রিকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও পুঁজি নিয়ে এগিয়ে এসেছে এবং কয়েক দশকে চীন আফ্রিকান দেশগুলোর ব্যবসায়িক এবং উন্নয়ন অংশীদারে পরিণত হয়েছে। এই উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের ফলে চীন যেমন লাভবান হচ্ছে তেমনি ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছে আফ্রিকার দেশগুলো।
আমেরিকাকে পেছনে ফেলে চীন এখন আফ্রিকার বৃহৎ বিনিয়োগকারী ও বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে এবং এর ফলে আফ্রিকার ভুরাজনীতিতেও ব্যাপক পরিবর্তন হওয়ার ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে এবং এটা চীনের অনুকূলেই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা এবং চীনারা মনে করেন আফ্রিকায় চীনের অব্যাহত উপস্থিতি, আর্থিক ও পুঁজি বিনিয়োগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের কারণে আফ্রিকা মহাদেশ ব্যাপকভাবে উন্নতি ও অগ্রগতি অর্জন করায় ভবিষ্যতে আফ্রিকা হবে বিশ্বের বৃহৎ বাজার ও ফ্যাক্টরী।
চীনা সরকারের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার কারণে চীনা সরকারী এবং বেসরকারী কোম্পানীগুলো আফ্রিকায় নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে এবং অব্যাহতভাবে এ চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে আফ্রিকাকে চীনা মহাদেশে রূপান্তর করা যায়। অর্থাৎ আফ্রিকা হবে কেবলই চীনের। এর ফলে আফ্রিকার গরিবী হঠানো যেমন সম্ভব হবে তেমনি চীনাদের গরিবীও হঠানো যাবে। আফ্রিকায় চীনের অর্থায়নে সম্পাদিত বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে চীনা নাগরিকদের কর্মসংস্থান হবে। আবার আফ্রিকান নাগরিকরাও চাকুরী লাভ করবে।
আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলো ও এর জনগণ যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে, নিজেরা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে সেজন্য চীন আফ্রিকার অবকাঠামোগত অর্থাৎ সড়ক, রেলপথ, ব্রিজ, বিমানবন্দর, তেল ক্ষেত্র এবং অন্যান্য মাইনিং প্রকল্পের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে অর্থ ও পুঁজি বিনিয়োগ করে চলেছে। এ সকল প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনা সরকারী-বেসরকারী কোম্পানী, ফার্ম ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলো ভূমিকা পালন করছে। সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশেই চীনা উদ্যোগে চলছে এসব উন্নয়ন কর্মকান্ড। ২০১৭ সালের জুনে এক প্রতিবেদনে মেকিনজে এন্ড কোম্পানী জানিয়েছে আফ্রিকায় মোট দশ হাজার টীনা ফার্ম অপারেশনাল কাজে নিয়োজিত আছে। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। চীনা ব্যাংকের সহায়তায় চীনা সরকারী-বেসরকারী ফার্মগুলো আফ্রিকা মহাদেশের সর্বত্র অবকাঠামোগত উন্নয়নে ও আধুনিকায়নে কাজ করছে এবং বর্তমান সময়ে চীনের ২২০০ ফার্ম আফ্রিকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে বলে দাবি চীনা কর্তৃপক্ষের।
আফ্রিকা হচ্ছে চীনের প্রধান অর্থনৈতিক এজেন্ডা। আফ্রিকায় চীনের অব্যাহত উপস্থিতি ও ব্যাপক অর্থনৈতিক বিনিয়োগের বিষয়টা বর্ণনা করতে গিয়ে আমেরিকান বিশেষজ্ঞ হাওয়ার্ড ডাব্লিউ ফ্রেস ‘আফ্রিকাকে চীনের দ্বিতীয় মহাদেশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন (নিউইয়র্ক আলফ্রেড এ কমপ্ট ২০১৫)। তাঁর মতে, বিশ্বায়নের লম্বা হাতের ছোঁয়া স্পর্শ করেছে গোটা আফ্রিকা মহাদেশকে। চীন এবং দ্বিতীয় মহাদেশের বাণিজ্য পৌঁছেছে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারে।
আফ্রিকায় চীনা অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০০ সালে চীন ও আফ্রিকার ৪০ রাষ্ট্রের মধ্যে বাইলেটারেল ট্রেড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো এবং গঠিত হয়েছিলো ‘ফোরাম অন চায়না-আফ্রিকা কো-অপারেশন (এফওসিএসি)। এর অধীনে ২০০০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে আফ্রিকায়-চীনের বিনিয়োগ ২২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।
এফওসিএসি হলো চীন ও আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রাথমিক প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালে চীন আফ্রিকান দেশগুলোর জন্য ৬০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিলো মূলতঃ তিনটা ক্ষেত্রে ১. শিল্পায়ন, ২. কৃষির আধুনিকায়ন এবং ৩. অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
২০১৮ সালে সুনির্দিষ্ট পাঁচটা খাতে এফওসিএসসি-এর মাধ্যমে ৬০ বিলিয়ন বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছিলো চীন। এ খাতগুলো হলো-১. ক্রেডিটলোন-২০ বিলিয়ন ডলার, ২. এইড ও ইন্টারেস্ট ফ্রি লোন-১৫ বিলিয়ন ডলার, ৩. উন্নয়ন খাতে পুঁজি বিনিয়োগ-১০ বিলিয়ন ডলার, ৪. বিনিয়োগ-১০ বিলিয়ন ডলার, ৫. পুঁজি আমদানী খাতে-৫ বিলিয়ন আমেরিকান ডলার।
চীন-আফ্রিকা দ্বিমুখী বাণিজ্য তথা আমদানী রপ্তানীর পরিমাণও প্রতিবছর বেড়ে চলেছে। চীনা স্টেটিসটিক্যাল ইয়ারবুক এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৭ সালে উভয়মুখি ট্রেডিং হয়েছিলো ১৪৮ বিলিয়ন ইউএস ডলারের পণ্যাদি এবং ২০১৮ সালে সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছিলো ২০৪ বিলিয়ন ডলারে। আর ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে বাণিজ্য হয়েছে ১০১.৮৬ বিলিয়ন ডলারের। থমসন রয়টারস এবং বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য মতে এ সময়কালে চীন-আফ্রিকান দেশগুলোতে রপ্তানী করেছে তার মোট রপ্তানীর ১৫ হতে ১৬% শতাংশ পণ্য। এসব পণ্যাদির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের মেশিনারিজ সামগ্রী, কৃষি যন্ত্রপাতি, পরিবহন এবং কমিউনিকেশনস কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। অন্যদিকে আফ্রিকান দেশসমূহ হতে চীন আমদানী করেছিলো ১৪ হতে ২১% শতাংশ পর্যন্ত সামগ্রী। চীনের আমদানীকৃত পণ্যদ্রব্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো মিনারেল, তেল-জ্বালানী, লুব্রিকেন্ট সম্পর্কিত মেটারিয়ালস।
আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউট (এ.ই.আই) চায়না গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ট্রেকার এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৫ সাল থেকে এখন অবধি আফ্রিকায়-চীনা বিনিয়োগের পরিমাণ হলো সর্বমোট ২ (দুই) ট্রিলিয়ন আমেরিকান ডলার। আফ্রিকা মহাদেশ হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের দ্রুত শহরায়ন-নগরায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বিকাশমান একটা মহাদেশ। ওখানটায় শিল্পায়ন, নগরায়ন, কৃষির আধুনিকীকরণ, সড়ক-মহাসড়ক, রেলপথ, বিমানবন্দর সহ নানা অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন এবং আফ্রিকান দেশগুলোর অর্থের চাহিদা পূরণের জন্য ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করে চলেছে চীন। চীন অব্যাহতভাবে আফ্রিকায় অর্থ দিচ্ছে, অর্থ নিয়ে চীনারা আফ্রিকানদের দরোজায় দাঁড়িয়ে থাকে বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকান আফ্রিকা বিষয়ক উচ্চপদস্থ কূটনীতিক টিযরনাগি। বিবিসির সাথে আলাপকালে তিনি বলেছিলেন-যখন কোনো বিনিয়োগকারী দরোজায় নক্্ড করে এবং আফ্রিকানসরা দরোজা ওপেনড করে তখন দেখতে পায় দাঁড়িয়ে আছে চীনারা। এ মন্তব্যই প্রমান করে চীনারা প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করে চলেছে আফ্রিকায়।
নানামুখী তহবিল থেকে চীন-আফ্রিকায় বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফ.ডি.আই) এবং বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)।
চায়না-আফ্রিকা রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ এট দ্য জন হপকিনস স্কুল অব এডভান্সড এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের পরিচালক ডিবোরাল বারুউটিগাম এর মতে আফ্রিকায় ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সূত্রই হলো চীন। এফ.ডি.আই ইনটেলিজেন্স এন্ড আই আফ্রিকা এটট্রাকটিভনেস প্রতিবেদন-২০১৯ এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ হতে ২০১৮ সময়কালে আফ্রিকায় চীনের ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের পুঁজির পরিমাণ ছিলো ৭২২৩৫ মিলিয়ন ডলার। মোট ২৫৯ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয় এ অর্থ। এ সকল প্রকল্পে কর্মসংস্থান হয় ১৩৭০২৮ জন লোকের। অন্যদিকে বিআরআই-এর মাধ্যমে অবকাঠামোগত প্রকল্পে চীন বিনিয়োগ করেছে ১ (এক) ট্রিলিয়ন আমেরিকান ডলার।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৩১০০ চীনা এন্টারপ্রাইজ আফ্রিকান দেশগুলোতে পরিবহন, বন্দর, হাইওয়েজ, রেলওয়ে, ইলেকট্রিক্যাল, টেলিকমিউনিকেশনস, শিল্পপার্কের বির্নিমাণ ও উন্নয়নে, কৃষি টেকনোলজির উন্নয়নে, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে, শিক্ষা ও হাসপাতাল সেবা খাতের উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করে ঐ সব ক্ষেত্রের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে চলেছে। ইতোমধ্যে ২০১৮ সালে চীনা অর্থায়নে নাইরোবী ও মোমবাসার মধ্যে সংযোগকারী ৪৮০ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্য রেললাইন নির্মাণসম্পন্ন করায় কেনিয়ার ঐ দুটি বৃহৎ শহরে যাতায়াতের জন্য পূর্বের চেয়ে অর্ধেক সময় কমে গেছে। আর এ প্রকল্পে ৪৬০০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
গ্লোবাল ডাটা পিএসি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী চীনের ৩১৩.১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নে আফ্রিকায় ২৪২ পাওয়ার প্রকল্পের কাজ চলছে। অন্যদিকে অবকাঠামো উন্নয়নে পাঁচ বৃহৎ প্রকল্পের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এগুলো হলো (১) ৩২০০ কিঃ মিঃ দৈর্ঘ্য ট্রান্স মেগরাব হাইওয়ে আফ্রিকার ৫৫ টা শহরকে সংযুক্ত করবে বৃহৎ এ হাইওয়ে এবং তা থেকে ৬০ মিলিয়ন মানুষ উপকৃত হবে। (২) মামবিলা পাওয়ার প্লান্ট যাতে ব্যয় হবে ৬ বিলিয়ন ডলার। (৩) ওয়ালবিস বে কন্টেইনার টার্মিনাল (৪) কাকুলা কাবাকা হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্ট ইন এঙ্গোলা ও (৫) নাইরোবী-নাইবাসা রেলওয়ে প্রকল্প। এ ছাড়াও চীনের অর্থায়নে ৪৬ বন্দর নির্মাণের কাজ চলছে-সমাপ্ত হয়েছে ১০ বন্দরের কাজ।
চীন তার বিনিয়োগকৃত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তার অজুহাতে আফ্রিকার সাথে সামরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ২৬ জুনে প্রতিষ্ঠা করেছে ‘চীন-আফ্রিকা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ফোরাম।’ আফ্রিকার ৫০ দেশ এ ফোরামের সদস্য। এ ফোরামের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে চারটা। তাহলো (১) চীন ও আফ্রিকার মধ্যে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক স্থাপন করা (২) চীনের সহায়তায় আফ্রিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ করা (৩) আফ্রিকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা (৪) এ ফোরামের মাধ্যমে আফ্রিকায় পিসকিপিং এ অংশ নেবে চীন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন-এ ফোরামের মূল লক্ষ্য হলো আফ্রিকায় চীনের সামরিক উপস্থিতি, চীনের সামরিক প্রভাব বৃদ্ধি করে আফ্রিকার ভূরাজনীতি, ভূকৌশলগত অবস্থানের ওপর চীনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং এ জন্য চীন ইতোমধ্যেই জিবুতিতে ৫৯০ মিলিয়ন ব্যয়ে সামরিক বেইছ নির্মাণ করেছে। সার্বিক অর্থে আফ্রিকাকে চীনের দ্বিতীয় মহাদেশে রূপান্তরকরণের লক্ষ্যেই চীন তার সকল কাজ করে যাচ্ছে।
লেখক : আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT