উপ সম্পাদকীয়

বৃক্ষ নিধন রোধে চাই জনসচেতনতা

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ২১-১০-২০১৯ ইং ০০:২০:৫৫ | সংবাদটি ৩১৪ বার পঠিত
Image

জাতীয় অর্থনীতি ও পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে দেশের বনজ সম্পদ সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ ও বনজ সম্পদের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরী। আমাদের নগর জীবন থেকে যেন ছায়াশীতল ¯িœগ্ধতা একেবারেই হারিয়ে গেছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের পাশাপাশি নগরের সৌন্দর্যও হুমকির মুখে। এক্ষেত্রে পরিকল্পিত বনায়নের বিকল্প নেই। আর বাংলাদেশে রয়েছে বনায়নের বিপুল সম্ভাবনা। বৃক্ষ পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের অবদান অনস্বীকার্য। এক সময় প্রকৃতি ছিল বৃক্ষে পরিপূর্ণ। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার বিকাশ ঘটাতে গিয়ে মানুষ প্রকৃতির ওপর শুরু করে অত্যাচার। মানুষ প্রকৃতির নিয়মনীতি ভেঙ্গে নিজের আরাম আয়েশের জন্যে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বৃক্ষের যথেচ্ছ ব্যবহার শুরু করে। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের কারণে পৃথিবী আজ হুমকির সম্মুখিন। বৃক্ষ না থাকলে পৃথিবীর মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ত। তাই বৃক্ষ মানুষের পরম বন্ধু। সে আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উপকরণ সহ অক্সিজেন দিয়ে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
কিন্তু এটা খুবই পরিতাপের বিষয় যে, বৃক্ষের এতসব উপকারী দিক থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞতার কারণে এবং সচেতনতার অভাবে আমাদের দেশের মানুষ নিদ্বির্ধায় গাছপালা কেটে রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করছে। কখনো চাষাবাদের জন্যে গাছপালা কেটে সম্পূর্ণ বনকেই নিঃশেষিত করে ফেলছে।
তাই আমাদের বৃক্ষ নিধন রোধে সর্বাগ্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ইতিমধ্যে সরকার বৃক্ষনিধন রোধে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ফলপ্রসু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এর ফলশ্রুতিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশের সকল অঞ্চলে ব্যাপকভাবে বনায়ন শুরু করেছে।
বৃক্ষ নিধন রোধে প্রত্যেকটি মানুষকে সচেতন করতে দরকার জাতীয় পরিকল্পনার। একই সাথে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষনিধন রোধে চাই জনসচেতনতা এই শিরোনামে রেডিও টেলিভিশনে ব্যাপক প্রচারনা চালাতে হবে। পোস্টার, ব্যানার, স্লোগান দিয়ে জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে। একই সাথে বৃক্ষনিধন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং মানুষের মুখে স্লোগান তুলে দিতে হবে। ‘চলো সবাই গাছ লাগাই / নইলে জীবন রক্ষা নাই’।
প্রাণীর অস্তিত্ব ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছপালার কোনো বিকল্প নেই। গাছ প্রস্বেদন প্রক্রিয়া ও বাষ্পীভবনের মাধ্যমে আবহাওয়া বিশুদ্ধ রাখে। মাটির উর্বরতা বাড়ায়, মাটির ক্ষয়রোধ করে। ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে রক্ষা করে প্রকৃতিকে বন্যা প্রতিরোধ করে। অর্থাৎ মানুষের বসবাস উপযোগী ভারসাম্যপূর্ণ পৃথিবী বৃক্ষেরই অবদান। তাই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে দেশকে বাঁচানো ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনায়নের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর বনায়নের জন্যে প্রয়োজন জনগণের সচেতনতা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। পরিকল্পিত ও সঠিক বনায়নের মাধ্যমেই নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
লেখক : অবঃ শিক্ষক।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • করোনাকালের ঈদোৎসব
  • মহাপূণ্য ও করুণার রাত শবে-কদর
  • মাহে রামাজান: যাকাত আদায়ের উত্তম সময়
  • দারিদ্র দূরীকরণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
  • চীন-আমেরিকার শীতল যুদ্ধ
  • চাই আশার বাণী
  • কোভিড-১৯:সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • বিদ্যুৎসাশ্রয় এবং আমাদের করণীয়
  • বেঁচে থাকি প্রাণশক্তির জোরে
  • Image

    Developed by:Sparkle IT