উপ সম্পাদকীয়

দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ রোল মডেল

মোহাম্মদ নজাবত আলী প্রকাশিত হয়েছে: ২১-১০-২০১৯ ইং ০০:২৪:১৫ | সংবাদটি ১০৩ বার পঠিত

যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের কোনো হাত নেই। তবুও আগাম প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতি সরকার গ্রহণ করেছে। আমরা আশা করব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করায় সাধারণ জনগণের জানমাল যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি আগামী দিনে যেসব শিশু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে হুমকির মুখে পড়বে, তা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
বাঙালি জাতির অতীত গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। সে ঐতিহ্য সাহস ও সংগ্রামের। নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও জাতি হিসাবে বাঙালি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। অদম্য সাহসী এদেশের মানুষ। প্রতিনিয়ত তারা ঝড়-ঝঞ্ঝা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও টিকে আছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও বাঙালির মনোবল কখনো দুর্বল হয়নি। দৃঢ় মনোবলসম্পন্ন বাঙালি জাতি সবসময় এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে। কোনো কিছুতেই তারা হার মানতে জানে না। সাময়িকভাবে কিছুটা দুর্বল হলেও দ্রম্নতগতিতে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম বাঙালি জাতি। দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ রোল মডেল। অতি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০১৯-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিনির্বাপনের মতো দুর্যোগ ক্ষয়ক্ষতি যাতে হ্রাস পায় সে জন্য যা যা ব্যবস্থা নেয়ার ইতিমধ্যেই তা নেয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে এখন আমরা শুধু উন্নয়নের রোল মডেল নই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল সে সম্মান পেয়েছে। অনুষ্ঠানে নবনির্মিত ১০০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র এবং ১১৬০৪টি দুর্যোগকালিন বাড়ি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উলেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘূর্ণিঝড় থেকে জনগণের জান-মাল রক্ষায় ১৭২টি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে ৫৬ হাজার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। তাছাড়া ৩২ হাজার নগর স্বেচ্ছাসেবক, ২৪ লাখ আনসার ভিডিপি, ১৭ লাখ স্কাউট, ৪ লাখ বিএনসিসি, গার্লস গাইডের প্রায় ৪ লাখ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য রয়েছে। যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় তারা সদাপ্রস্তুত। তাছাড়া সমুদ্র উপকূলের ৩৮৬৮টি বহুমুখী সাইক্লোন সেন্টার বর্তমান সরকার নির্মাণ করেন। আরও ১৬৫৪টি নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেশি হয়। কারণ ভৌগোলিকগত অবস্থানের ওপর যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয় অনেকাংশে নির্ভরশীল। কখনও বন্যা, ঝড়-ঝঞ্ঝা, টর্নেডো, সাইক্লোন, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, কৃষি আবাদি জমি ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এমনিভাবে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ দেশবাসির সাজানো সংসার মুহূর্তের জন্য তছনছ করে ফেলে দিলেও অদম্য সাহসী এ দেশবাসী কখনো ভেঙে পড়েনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাময়িকভাবে এ দেশের মানুষকে বিপর্যস্থ করলেও দৃঢ় মনোবলসম্পন্ন মানুষ আবারও জীবনসংগ্রামে নেমে দুর্যোগের ভয়াবহতা কাটিয়ে ওঠে। জলবায়ুর পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু আর্থিক দিক থেকেই বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, শিশুরাও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।
তবে এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়-ঝঞ্ঝা, বন্যা, খরার ওপর মানুষের কোনো হাত নেই। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো- অতি বর্ষা, নদীভাঙন এবং দেশের উপকূলবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে সামদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। তবে নদীভাঙন রোধকল্পে এবং বন্যা প্রতিরোধে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষকে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস আগেই সরাসরি বেসরকারিভাবে রেডিও, টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়। ফলে ঘূর্ণিঝড় শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবং দুর্যোগ পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড়ে পুনর্বাসন প্রকল্প ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতার জন্য সরকারের একটি বিশেষ মন্ত্রণালয় রয়েছে যা দুর্যোগব্যবস্থপনা ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় নামে পরিচিত। আর্থিক সাহায্য ছাড়াও উপকূলবর্তী অঞ্চলে আশ্রয়ণ প্রকল্প খোলা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ শুধু কথায় নয় বাস্তব যে, নদীর একপাড় ভাঙে অন্যপাড় গড়ে ওঠে। জলস্রোত যেমন ধরে রাখা যায় না ঠিক তেমনি নদীর বহমান ধারাও। এপাড় ভেঙে অপার গড়া। নদীর এ ভাঙা-গড়া খেলা নিয়ে মরমি শিল্পী আব্দুল আলীমের মতো অনেক শিল্পী দরদ ভরা কণ্ঠে অনেক গানও গেয়েছেন। নদীর এ ভাঙনের খেলা মানুষের জীবনকে স্থবির করে দেয়। বন্যা, জলোচ্ছ্বাসে প্রতিবছর এ দেশের প্রচুর সম্পদ নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। দেশের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এ দেশের বহু মানুষ ঘর-বাড়ি বসত-ভিটা, ধন-সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টি, খরা, সাইক্লোন, সিডর, ঘূর্ণিঝড় এসবই প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আগেই উলেস্নখ করা হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের কোনো হাত নেই। কিন্তু সতর্কতা বলে একটি কথা আছে। ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের আগাম খবর পাওয়া আজকের বিজ্ঞানের যুগে কঠিন নয়। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি অভিশাপ। তবে এ বিপর্যয় থেকে কীভাবে রক্ষা পাওয়া যায় কীভাবে জানমালের ক্ষতি কমানো যায় এ ব্যাপারে সারা বিশ্বে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এ প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে আগাম সতর্ক বার্তা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রশমন, দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে পুনর্বাসন, পুনর্গঠন (আশ্রয়ণ প্রকল্প) দুর্যোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে দুর্যোগ কমানোর লক্ষ্যে সামাজিক বনায়ন ইতিমধ্যে সরকার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে একদিকে দেশবাসির অদম্য সাহস, অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা ধরনের উদ্যোগ প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনগণকে আরও সাহস জুগিয়েছে।
সুতরাং বন্যা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প এ সবই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে। এ সব প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত বেশ কয়েকবার প্রচন্ড বন্যায় আমাদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। বিশেষ করে সত্তর সালে ভয়াবহ বন্যায় লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিগত শতাব্দীতে ১৯৭৪ সালের বন্যায় দেশের জানমালের ক্ষতির পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয় ১৯৮৮ সালে। প্রাকৃতিক এ বিপর্যয়ে দেশের ঘর-বাড়ি, কৃষি জমির ফসলসহ বহু মানুষের প্রাণহানী ঘটে। উপরন্তু বন্যার পাশাপাশি সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়ে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় মানুষের জীবনকে দুর্বিসহ করে তোলে। আর এ সব প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিভিন্ন নামও রয়েছে। কখনো সাইক্লোন, কখনো হ্যারিকেন, কখনো ক্যাটরিনা, কখনো সিডর, কখনো নার্গিস, কখনো আইলা আবার কখনো রোয়ানু নামে প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড়ে আঘাত হানে বাংলাদেশে।
সুতরাং বলতে কোনো দ্বিধা নেই, বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। তবে এ দুর্যোগ সাধারণত দুই ধরনের মুনষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, সভ্যতার উচ্চ শিখরে আরোহণ করেও শুধুমাত্র ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য পাহাড় কাটা, নদীর তীরের মাটি খনন, বন উজাড় করা ইত্যাদি। প্রতি বছর পাহাড় ধসে বহু মানুষ মারা যায়। নদীর পাড় কাটার কারণে বন্যায় নদীভাঙনে মানুষের ঘরবাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বন উজাড় করার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জনজীবনে। তবে বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, সিডর, আইলা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেই এ দেশের মানুষকে বেঁচে থাকতে হয়। প্রায় ফি বছর ছোট-বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট নেমে আসে এ দেশের সুমদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেন দেশবাসির নিত্যসঙ্গী। সড়ক দুর্ঘটনার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের পিছু ছাড়ছে না। প্রতিটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এ দেশের মানুষ চরম ধৈর্য ও সাহস নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। উলেস্নখ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের হাত না থাকলেও সতর্কতা অবলম্বন করলে জান-মাল সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। নিকট অতীতে অনেক মানুষের প্রাণহানি হয়। সরকারের আগাম সতর্কবার্তা ও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে জানমালের ক্ষতির পরিমাণ কম। সরকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের মানুষের দৃঢ় মনোবল ও অদম্য সাহস আত্মবিশ্বাস বাড়লেও প্রতি বছর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে সবসময় একটি আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় যা অনেকটা কমেছে। এ অঞ্চলের মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষাকল্পে সরকারকে আরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা মৌসুমে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় খুব বেশি প্রবল হয় না। সতর্কমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে প্রাণহানি রোধ করা অনেকটা সম্ভব বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তা ছাড়া সচেতনতা বাড়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক প্রাণহানি এড়াতে উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়া বার্তা আধুনিকায়নের পাশপাশি সমুদ্র উপকূলের ৩৮৬৮টি বহুমুখী সাইক্লোন সেন্টার বর্তমান সরকার নির্মাণ করেন।
যুদ্ধ মানে ধ্বংস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানেই ক্ষতি। আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে যেমন সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষকে বাঁচাতে প্রয়োজন আগাম সতর্কবার্তা, সরকারের গৃহিত বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ। ১৯৯৩ সালে গঠিত হয়েছে দুর্যোগব্যবস্থাপনা ব্যুরো। দুর্যোগের কারণে প্রাণহানি, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিরসনসহ দুর্যোগ পরবর্তী সময় জাতীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারে স্বনির্ভরতা অর্জন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। উপরন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে জনগণের যানমাল রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষাকল্পে আগাম সতর্ক বার্তাব্যবস্থাকে সরকারও আরও জোরদার করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানেই ভয়াবহ ক্ষতি। ১৯৭০ সালে ঘূর্ণিঝড় গোর্কির আঘাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হয়। ১৯৯১ সালের ২৩ এপ্রিল ভয়াবহ ঝড়, জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম কক্সবাজারের ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। সাম্প্রতিক অতীতের সিডর আইলার রোয়ানোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সতর্কতা ও পূর্ব প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। দেশের দুর্যোগব্যবস্থাপনা বিভাগ বেশ সক্রিয়। সরকারও তৎপর। নদীভাঙন, বন্যা, ঝড়, পাহাড় ধস এক কথায় মনুষ্যসৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি আমাদের স্মরণ করে দেয় দুর্যোগের ভয়াবহতা। কিন্তু এত ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও এদেশবাসী ঘুরে দাঁড়িয়েছে সবসময়। অদম্য সাহসী এ দেশবাসী ভেঙে পড়েনি। বুকে সাহস নিয়ে জীবন সংগ্রামে টিকে রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রাকৃতিক দুযোগের আঘাতও তারা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের কোনো হাত নেই। তবুও আগাম প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতি সরকার গ্রহণ করেছে। আমরা আশা করব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করায় সাধারণ জনগণের জানমাল যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি আগামী দিনে যেসব শিশু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে হুমকির মুখে পড়বে, তা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
লেখক : শিক্ষক।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT