উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

এমন মৃত্যু কাম্য নয়

রফিকুর রহমান লজু প্রকাশিত হয়েছে: ২২-১০-২০১৯ ইং ০১:০৮:২৪ | সংবাদটি ৭৩ বার পঠিত

সব মৃত্যু কষ্ট ও বেদনাদায়ক হলেও সব মৃত্যু এক নয়। সব মৃত্যুর কষ্ট ও যন্ত্রণাও এক রকম নয়। এই মৃত্যু যদি কিশোর তরুণদের ধাওয়া করে, তা হলে এই দুঃখবোধ ভুলে যাওয়ার মতো নয়। কোনো কোনো মৃত্যু পরিবারকে পাড়া প্রতিবেশীকে শোকের যন্ত্রণায় ভাসিয়ে দেয়। যে মৃত্যু মৃত্যুর স্বাভাবিক কষ্টকে ছাড়িয়ে যায়, আপনজনকে উতলা করে তুলে, সে মৃত্যুর স্মৃতিতো দীর্ঘদিন কাঁদায়, জ্বালায়। তরুণ শিপনের এমন মৃত্যুই ঘটেছে গত এক অক্টোবর মঙ্গলবারে। মৃত্যুদানব ট্রাক শিপনের কোমর থেকে তার নি¤œাংশ থেতলে দিয়েছে, মিশমার করে দিয়েছে। ট্রাকের চাকা তার কোমরের উপর দিয়ে চলে গেছে।
ট্রাফিক পুলিশ আহত মৃত্যুপথযাত্রী শিপনকে অর্ধমৃত অবস্থায় উদ্ধার করে ওসমানীতে নিয়ে যায়। শিপনের মোবাইল থেকে পুলিশ ফোন করে তার ভাইকে হসপিটালে নিয়ে যায়। শিপন তার বড় ভাই মিজানের জন্য যেনো অপেক্ষায় ছিলো। এত কষ্ট ও যন্ত্রণার মধ্যেও দূর থেকে এক ঝিলিক মুচকি হেসে ইশারায় মিজানকে সালাম দেয় এবং তখনই লহমার মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। শিপলু অন্য জগতের বাসিন্দা হয়ে যায়, অবসান ঘটে তার কষ্টের, তার যন্ত্রণার।
এদিকে হাহাকার আর মাতম উঠে শিপনের বাসায় সোনারপাড়ায়। সারা এলাকায় এই হাহাকার শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঘটনায় শোকে মুহ্যমান হয় সোনারপাড়া এলাকা।
শিপলুর বয়স কুড়ির নিচে। তারা পাঁচ ভাই। মিজান সবার বড়। এক ভাই বুলেট নামে পরিচিত সে ৩ নম্বর। শিপলু ৪ নম্বর। বুলেটের সঙ্গে পিঠাপিঠি বেড়ে উঠা শিপলুর প্রতি তার মায়া-মমতা ছিলো বেশি। বড় ভাই মিজানও তাঁকে খুব ভালোবাসতো। অন্য ভাইরাও আদর করতো। মা-বাবার অত্যন্ত আদরের ধন ছিলো শিপলু। দেখতে এবং আচারে ব্যবহারে সে সেরা ছিলো। শিপলু’র পিতার আগের জীবন ছিলো হতদরিদ্র। শিপলুর পিতা মোঃ শাজাহান কঠোর পরিশ্রম করে শারীরিক শ্রম দিয়ে রোজগার করে সন্তানদের বড় করেছেন। ছেলেরা বড় হয়ে রোজগারে লেগেছে, সংসারের হাল ধরেছে। অবস্থা ফিরেছে।
শিপলু দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে সিলেট-তামাবিল রোডের বাইপাস নামক স্থানে। অমোঘ মৃত্যু তাকে টেনে নিয়েছিলো ওইখানে। শিপলু মিজানের কাপড়ের দোকানে সময় দিতো। মিজান ছোট ভাই শিপলুকে পকেট খরচ দিতো। পকেট খরচ থেকে সে একটু একটু সঞ্চয় করেছিলো। ওই সঞ্চিত অর্থ দিয়ে সে একটি পুরনো হোন্ডা কিনেছিলো বাইপাস থেকে। বিষয়টি সে গোপন রেখেছিলো। সে চেয়েছিলো হোন্ডা চালিয়ে বাসায় ফিরে সবাইকে চমকিয়ে দেবে। শিপন প্রিয়জনদের চমকিয়ে দিয়েছিলো ঠিকই, তবে হোন্ডা চালিয়ে নয়, প্রাণহীন দেহ উপহার দিয়ে। অন্য সময় এ রকম ঘুরাঘুরির সময় কোনো না কোনো বন্ধুকে সঙ্গে নিতো শিপন। ওই দিন কাউকে সঙ্গে নেয়নি সে।
মা-বাবার খুব আদরের সন্তান ছিলো শিপলু। শিপলুকে হারিয়ে মা তো পাগলপারা। খাওয়া-দাওয়ার, বিশ্রাম, ঘুমের খেয়াল নেই। ভেবাচ্যাকা অবস্থা। শিপলুর বাসায়, ঘরে, পরিবারে, প্রিয়জনদের মনে শান্তি নেই। স্বাভাবিকতা ফিরে আসেনি এখনো শিপলুর পরিবারে শিপলুর ঘরে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT