শেষের পাতা

ইতিহাসের সাক্ষী হাসান মার্কেটের শিরীষ গাছ

আহমাদ সেলিম প্রকাশিত হয়েছে: ২২-১০-২০১৯ ইং ০৩:৫৪:০০ | সংবাদটি ২৮৭ বার পঠিত

ইতিহাসের নিরব সাক্ষী হয়ে আছে নগরীর বন্দরবাজার হাসান মার্কেটের শিরিষ গাছগুলো। এই গাছের সাথে জড়িয়ে আছে গোবিন্দ পার্ক, রাজা জিসি স্কুল, এম.সি কলেজসহ ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্মৃতি। যেগুলোর অস্তিত্ব আজ নেই। কেবল সেই সময়ের কথা নতুন প্রজন্মকে কিছুটা স্মরণ করিয়ে দিতে এখনো বেচেঁ রয়েছে মাত্র তিনটি শিরিষ।
নগরীর বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৫৯ সালে সিলেটে হাসান মার্কেটের যাত্রা শুরু হয়। তৎকালিন সময়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক ছিলেন হাসান চৌধুরী। সিলেট পৌরসভার সহযোগিতায় তিনি জায়গাটিকে মার্কেট হিসেবে ঘোষণা দেন। আর সেই মার্কেটের অনুমোদন করে সিলেট পৌরসভা। তারপর থেকে আজকের হাসান মার্কেটের গোড়াপত্তন। হাসান মার্কেটের পূর্বে এই জায়গাটিতে ছিলো গোবিন্দ পার্ক। সিলেটের বিশিষ্ট লেখক রফিকুর রহমান লজু জানান, ‘বর্তমানে যে স্থানে সিটি কর্পোরেশন সেই সিটি কর্পোরেশনের মূল ফটকের সামনে আরেকটি শিরিষ গাছ ছিলো। সেই গাছটি নেই। শিরিষ গাছের পাশে ছিলো একটি পেট্রোল পাম্প। অন্যপাশে আজকের হাসান মার্কেট। সেখানে আমাদের আড্ডা হতো। তিনি বলেন, তখন এখানে অনেকগুলো গাছ ছিলো। সেগুলো এখন স্মৃতি। সেই সময়ের পরে দেখা যায় বর্তমান হাসান মার্কেটের শিরিষ গাছগুলো। এক সময় আজকের মতো সিলেট ব্যস্ত নগরী ছিলো না। যে কারণে বহু দূর থেকে সেই গাছগুলো চোখে ভাসতো। পাশের খালি জায়গা ছিলো ফাঁকা উদ্যান। সেই উদ্যানের নাম ছিলো গোবিন্দ পার্ক। সেই সোনালি দিনগুলো হারিয়ে গেলো।’
সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি, সিলেট স্টেশন ক্লাবের সভাপতি ই ইউ শহিদুল ইসলাম শাহিন জানান, গোবিন্দ পার্কের আগে এখানে প্রথম এম.সি কলেজ হয়। বাঁশের মাচাংয়ের (মাচাং সিলেটের আঞ্চলিক শব্দ) উপর ছিলো সেই কলেজ। সেই কলেজে আমার দাদা মোজাহিদ আলী চৌধুরীও পড়েছেন। তিনি ক্লাস করতে প্রতিদিন গ্রাম থেকে আসতেন। একই স্থানে ছিলো রাজা জিসি স্কুলও। পরবর্তীতে স্কুলটি বর্তমান স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। তারপর কলেজ থাকা অবস্থায় গোবিন্দ পার্ক হয়। তখন পার্কের চারপাশে সবুজের সমারোহ ছিলো। মানুষ বিকেল হলে সেই পার্কে সময় কাটাবার জন্য ছুটে আসতেন। অবশ্য সেই সময়ের পরে বর্তমানের শিরিষগুলো লাগানো হয়। তিনি আরো বলেন, ‘১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার ঐতিহাসিক সভাটি এই গোবিন্দ পার্কে হয়েছিলো। সেই সভায় এডভোকেট মনির উদ্দিন আহমেদ, পীর হবিবুর রহমান, কমরেড আছদ্দর আলীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তাই এই পার্ক, এই বৃক্ষের সাথে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনেরও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। পরবর্তীতে পার্ক হলে প্রচুর গাছ কেটে ফেলা হয়। নষ্ট করা হয় সবুজ প্রকৃতি। সেই ধারাবাহিকতায় এক সময় সিলেটে গাছ কেটে মার্কেট করার প্রবণতা দেখা যায়।’একজন তরুণ ব্যাংক কর্মকর্তা মো. রাফি। হাসান মার্কেটের গাছ প্রসঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ইতিহাসের নানা ঘটনার সাক্ষী গাছগুলো। এগুলো ধরে রাখা প্রয়োজন।
নগরীর রায়নগর এলাকার রাজা শ্রী গিরিশ চন্দ্র রায় ১৮৮৬ সালে তার মাতামহ মুরারী চাঁদের নামে প্রতিষ্ঠা করেন মুরারী চাঁদ হাই স্কুল। প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পরেই স্কুলটিকে পাশেই স্থানান্তর করে নাম পরিবর্তন করে রাখেন রাজা জি সি হাই স্কুল। যা বর্তমান রাজা স্কুল। তারপর জায়গাটি আবার পার্ক হিসাবেই থেকে যায়। এর কিছুদিন পরেই ১৮৯২ সালে রাজা শ্রী গিরিশ চন্দ্র রায় (জি.সি) এখানেই আবার প্রতিষ্ঠা করেন একটি কলেজ। নামকরণ করেন মুরারী চাঁদ কলেজ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯০৮ সাল পর্যন্ত রাজা জি সি সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে কলেজটি পরিচালনা করেন। ১৮৯৭ সালে বড় ভূমিকম্পের ফলে রাজার বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি ঋণ গ্রহণ করে তা পুন:নির্মাণ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে আর্থিক অনটনে পড়েন। ১৯০৮ সালে রাজা জি সি মৃত্যুবরণ করলে কলেজটি আর্থিক বিপাকে পড়ে যায়। ফলশ্রুতিতে ১৯১২ সালে এম সি কলেজ সরকারি কলেজে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে খানবাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদ (কাপ্তান মিয়া)-এর প্রচেষ্টায় কলেজকে প্রথম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। ১৯২১ সালে কাপ্তান মিয়া আসামের প্রাদেশিক সরকারের শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন কলেজের জন্য টিলাগড়ে ১১২ একর (১১,২০০ ডেসিমাল) জায়গা হুকুম দখল করেন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার জন্য আমন্ত্রণ জানান আসামের তখনকার গভর্ণর স্যার উইলিয়াম মরিসকে। এরপর কলেজটি টিলাগড়ে স্থানান্তরিত হয়। এম সি কলেজ স্থানান্তরের পর জায়গাটি গোবিন্দ পার্ক হিসাবেই রয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে সিলেটের তৎকালিন জেলা প্রশাসক হাসান চৌধুরী জায়গাটিতে মার্কেট করার ঘোষণা দেন। সিলেট পৌরসভা তা অনুমোদন করে। মার্কেটের নাম দেওয়া হয় হাসান মার্কেট। সেই সময় অথবা তারও পরে হাসান মার্কেটের ভিতরে কয়েকটি প্রাচীন শিরিষ গাছ ছিলো। যেগুলো এখনো কালের সাক্ষী হয়ে আছে। যে গাছগুলো সিলেটবাসীকে গোবিন্দ পার্ক, রাজা জিসি স্কুল, এমসি কলেজ এবং ভাষা আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • হবিগঞ্জে ট্রেনের নিচে মাইক্রোবাস
  • কুলাউড়া উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন
  • দলের সভানেত্রীর নির্দেশ মোতাবেক সকল কমিটি গঠন করা হবে
  • কুলাউড়ায় আ’লীগের সম্মেলনে মনসুরকে এক হাত নিলেন মিসবাহ
  • লিডিং ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে আরসিসি ও স্টিল স্ট্রাকচার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
  • সিলেটে আয়কর মেলা ১৪-২০ নভেম্বর
  • মহারাসলীলা আজ
  • সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা আজ
  • উপজেলা ও পৌর নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জেলা বিএনপি’র পরামর্শ সভা আজ
  • বিমানেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে
  • শিক্ষার্থীদের উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর
  • জাউয়ায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৪০
  • ভারতের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি খেলতে নামছে বাংলাদেশ
  • সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কে চালু হলো বিআরটিসি’র দোতলা বাস সার্ভিস
  • ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে : মন্ত্রী ইমরান আহমদ
  • ২১১.৭২ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন
  • দুর্নীতিবাজ ও মাদকাসক্তদের আওয়ামী লীগে ঠাঁই দেয়া হবেনা ...আহমদ হোসেন
  • বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ব্যানারে বের করা মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ
  • নবীজির জীবনদর্শনে নিহিত ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের পরিপূর্ণ আদর্শ
  • শাবিতে ১২ নভেম্বর থেকে ভর্তি
  • Developed by: Sparkle IT