সম্পাদকীয় তিনটি সত্তা মানুষকে ধংস করে দেয়- লোভ, হিংসা ও অহংকার। -ইমাম গাজ্জালী (র.)

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মোবাইল টাওয়ার নয়

প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-১০-২০১৯ ইং ০১:১৫:৪৯ | সংবাদটি ১১৭ বার পঠিত

উচ্চতর আদালত সম্প্রতি এক যুগান্তকারী রায় প্রদান করেছেন। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাসহ সব স্পর্শকাতর এলাকা থেকে মোবাইল ফোনের টাওয়ার দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। স্পর্শকাতর এলাকা বলতে, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজকেই বিবেচনা করা হচ্ছে। একটি মানবাধিকার সংগঠনের রিটের প্রেক্ষিতে এই রায় দেয়া হয়। এই রিটে মোবাইল ফোন কোম্পানীর টাওয়ার থেকে নি:সৃত তেজষ্ক্রিয়তার মাত্রা এবং এর স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখতে ইতোপূর্বে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এর প্রেক্ষিতে মোবাইল ফোনের টাওয়ার থেকে নি:সৃত তেজষ্ক্রিয়তা বা রেডিয়েশন খুবই উচ্চ মাত্রার এবং তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর-মর্মে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে সব মোবাইল অপারেটর এবং বিটিআরসি এই তেজষ্ক্রিয়তার মাত্রা কমাতে ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলেও সুপারিশ করা হয়। এর পর দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১১ দফা নির্দেশনাও দেয়া হয়।
দেশের জনগোষ্ঠীর ৮০ ভাগই মোবাইল ফোন ব্যবহারে অভ্যস্থ। আর সময়ের বাস্তবতায় এই মোবাইল ফোন ছাড়া এখন মানুষের জীবন ধারণই যেন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কিন্তু এই মোবাইল ব্যবহারের নানা ধরণের নেতিবাচক দিক রয়েছে যা নিয়ে ভাবছেনা অনেকেই। বিশেষ করে মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে যেকোন ধরণের রেডিয়েশন বা রশ্মি মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। মোবাইল টাওয়ার থেকে সৃষ্ট রেডিয়েশন কিংবা ঘরে ওয়াইফাই থেকে সৃষ্ট রেডিয়েশন জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মোবাইল হেন্ডসেটগুলো থেকেও সরাসরি রেডিয়েশন যাচ্ছে মানবদেহে। অসংখ্য নি¤œমানের সেট রয়েছে বাজারে, যা ব্যবহার করছে সারাদেশের মানুষ। টাওয়ার রেডিয়েশনে সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়ে শিশুরা। তবে রেডিয়েশন সবার জন্যই ক্ষতিকর। মানুষের শরীরে সেলগুলো একে অন্যের সাথে যেভাবে যোগাযোগ করে তাকে দারুণভাবে বাধাগ্রস্থ করে এক্সটারনাল রেডিয়েশন। এর পরিণতিতে ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকিও তৈরী হতে পারে। তবে শিশুদের শরীরে ফ্লুইড বেশি থাকার কারণে, তারা বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া, জেনেটিক পরিবর্তন, অবসন্নতা, লিউকোমিয়া আরও অনেক শারিরীক সমস্যা হতে পারে রেডিয়েশনের কারণে।
সারাদেশে শহর, নগর, গ্রাম, গঞ্জে পাঁচটি মোবাইল অপারেটরের কমপক্ষে ৪০ হাজার টাওয়ার রয়েছে। এর বেশিরভাগই জনবসতি পূর্ণ এলাকায়। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে টাওয়ারগুলো নিরাপদ স্থানে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এর প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যেই টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা মোবাইল টাওয়ার থেকে কী মাত্রায় ক্ষতিকর বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ে, তা নিরূপনের কাজ শুরু করেছে। পর্যায়ক্রমে ‘ক্ষতিকর’ টাওয়ারগুলো অপসারণ করা হবে বলে বিটিআরসি সূত্রে বলা হচ্ছে। তাছাড়া, সব অপারেটর একই টাওয়ার ব্যবহার করবে বলেও জানানো হচ্ছে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে কার্যকর হবে বলেই আমরা আশাবাদী।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT