ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-১০-২০১৯ ইং ০১:৩০:৫৬ | সংবাদটি ১৬৭ বার পঠিত

‘রাব্বানা ওয়াজাআ’লনা মুসলিমাইনি লাকা’ এ দোয়াটিও হযরত ইবরাহিম (আ.) এর আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞান ও খোদাভীতিরই ফল, আনুগত্যের অদ্বিতীয় কীর্তি স্থাপন করার পরও তিনি এরূপ দোয়া করেন যে, আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ কর। কারণ, মা’রেফাত তথা আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞান যার যতো বৃদ্ধি পেতে থাকে সে ততোবেশি অনুভব করতে থাকে যে, যথার্থ আনুগত্য তার দ্বারা সম্ভব হচ্ছে না।
‘ওয়ামিন র্জুরিইয়াতিনা’ এ দোয়াতেও স্বীয় সন্তান-সন্তুতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এতে বোঝা যায় যে, তিনি আল্লাহর প্রেমিক, আল্লাহর পথে নিজের সন্তান-সন্তুতিকে বিসর্জন দিতেও এতোটুকু কুণ্ঠিত নন। তিনিও সন্তানদের প্রতি কতটুকু মহব্বত ও ভালবাসা রাখেন। কিন্তু এই ভালোবাসার দাবীসমূহ কয়জন পূর্ণ করতে পারে? সাধারণ লোক সন্তানদের শুধু শারীরিক সুস্থতা ও আরামের দিকেই খেয়াল রাখে। তাদের যাবতীয় ¯েœহ মমতা এ দিকটিকে কেন্দ্র করেই। কিন্তু আল্লাহর প্রিয় বান্দারা শারীরিকের চাইতে আত্মিক এবং জাগতিকের চাইতে পারলৌকিক আরামের জন্য চিন্তা করেন অধিক। এ কারণেই হযরত ইবরাহিম (আ.) দোয়া করলেন, ‘আমাদের সন্তানদের মধ্য থেকে একটি দলকে পূর্ণ আনুগত্যশীল কর।’ সন্তানদের জন্যে এ দোয়ার মধ্যে আরও একটি তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। অভিজ্ঞতা সাক্ষ্য দেয় যে, সমাজে যারা গণ্য মান্য, তাদের সন্তানরা পিতার পথ অনুসরণ করলে সমাজে তাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। তাদের যোগ্যতা জনগণের যোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। (বাহরে মুহীত)
হযরত খলিলুল্লাহ (আ.) এর এ দোয়াটিও কবুল হয়েছে। তাঁর বংশধরের মধ্যে কখনও সত্যধর্মের অনুসারী ও আল্লাহর আজ্ঞাবহ আদর্শ পুরুষের অভাব হয়নি। জাহেলিয়াত আমলে আরবে যখন সর্বত্র মুর্তিপূজার জয়-জয়কার, তখনও ইবরাহিমের বংশধরের মধ্যে কিছু লোক একত্ববাদ ও পরকালে বিশ্বাসী এবং আল্লাহর আনুগত্যশীল ছিলেন। যেমন যায়েদ ইবনে আমর, ইবনে নওফেল এবং কুস ইবনে সায়েদা প্রমুখ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর পিতামহ আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশেম সম্পর্কেও বর্ণিত আছে যে, মুর্তিপূজার প্রতি তাঁরও অশ্রদ্ধা ছিলো। (বাহরে মুহীত)
‘ইয়াতলু আলাইহিম আইয়াতিকা’ তেলাওয়াতের আসল অর্থ অনুসরণ করা। কুরআন ও হাদিসের পরিভাষায় এ শব্দটি কুরআন ও অন্যান্য আসমানী কিতাব পাঠ করার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কারণ, যে লোক এসব কালাম পাঠ করে, এর অনুসরণ করাও তার অবশ্য কর্তব্য। আসমানী গ্রন্থ ঠিক যেভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়, হুবহু তেমনিভাবে পাঠ করা জরুরি। নিজের পক্ষ থেকে তাতে কোনো শব্দ অথবা স্বরচিহ্নটিও পরিবর্তন পরিবর্ধন করার অনুমতি নেই। ইমাম রাগেব ইস্পাহানী ‘মুফরাদাতুল কুরআন’ গ্রন্থে বলেন, ‘আল্লাহর কালাম ছাড়া অন্য কোনো গ্রন্থ অথবা কালাম পাঠ করাকে সাধারণ পরিভাষায় তেলাওয়াত বলা যায় না।’
‘ওয়া য়ুআল্লিমাহুল কিতাবা ওয়ালহিকমাতা’ এখানে কিতাব বলে আল্লাহর কিতাব বোঝানো হয়েছে। ‘হেকমত’ শব্দটি আরবি অভিধানে একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যথাÑ সত্যে উপনীত হওয়া, ন্যায় ও সুবিচার, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ইত্যাদি। (কামুস)
ইমাম রাগেব ইস্পাহানী লেখেন : এ শব্দটি আল্লাহর জন্যে ব্যবহৃত হলে এর অর্থ হয় সকল বস্তুর পূর্ণজ্ঞান এবং সুদৃঢ় উদ্ভাবন। অন্যের জন্যে ব্যবহৃত হলে এর অর্থ হয়, বিদ্যমান বস্তুসমূহের বিশুদ্ধ জ্ঞান এবং সৎকর্ম। বিশুদ্ধ জ্ঞান, সৎকর্ম, ন্যায়, সুবিচার, সত্য কথা ইত্যাদি। (কামুস ও রাগেব)
[চলবে]

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT