পাঁচ মিশালী

লজিং জীবন

সৈয়দ আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-১০-২০১৯ ইং ০০:১৪:৫৯ | সংবাদটি ৯৭ বার পঠিত

আমার লজিং বাড়ির উপর-হাজরাই গ্রামটি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের একটি সুপরিচিত, সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। পূর্ব পশ্চিমে বিস্তৃত গ্রামটির দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে সিলেট-ছাতক রেল-লাইন রয়েছে এবং রেল লাইনের পাশ দিয়ে সিলেট রেল স্টেশন ও সিলেট ক্বিন ব্রীজ থেকে কামালবাজার পর্যন্ত পাকা সড়ক রয়েছে। গ্রামটির পূর্ব প্রান্ত সুরমা নদীর তীর পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি যে বাড়িতে লজিং ছিলাম সে বাড়িটি সুরমা নদীর তীরে নতুন বাজার হতে মাত্র ২/৩ মিনিটের রাস্তা। পাকিস্তান আমল থেকেই সিলেট ক্বিন ব্রীজ হতে সুরমা নদীর পাড় ঘেষে পুরাতন রেল স্টেশন, বরইকান্দি, সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, ঘোপশহর, মকন দোকান ও ঘোপশহর উচ্চ বিদ্যালয়ের নিকট উপর হাজরাই গ্রামের পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত রাস্তাটি পাকা রাস্তা ছিল। তাই উপর হাজরাই লজিং বাড়ি থেকে শহরে যাতায়াত করতে তেমন কোনো অসুবিধা ছিল না। আমার লজিং বাড়ির নিকটেই ঘোপশহর উচ্চ বিদ্যালয় এবং মখন মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় নামে পাশাপাশি দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমার ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ ঘোপশহর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। আমার লজিং বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বের উপর হাজরাই গ্রামের জামে মসজিদ সংলগ্ন হযরত শাহজালাল (র:) এর সঙ্গী একজন পীর শেখ সাহেবের মাজার রয়েছে। প্রতি বছর উক্ত মাজারে উরস ও ওয়াজ মাহফিল হয়ে থাকে। আমি যতদিন উক্ত লজিং বাড়িতে ছিলাম ততদিন উক্ত মাজার সংলগ্ন মসজিদেই নামাজ আদায় করতাম। আমরা যারা মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে লজিং থেকে পড়ালেখা করতাম আমরা সবাই নদীর পারস্থ নয়া বাজার ও মকন দোকানের নিকট থেকে রিক্সাযোগে ক্বিন ব্রীজ পর্যন্ত যাতায়াত করতাম। অথবা সেখান থেকে ক্বিন ব্রীজ পার হয়ে মদন মোহন কলেজ, এম.সি কলেজসহ শহরের অন্যান্য স্থানে যাতায়াত করা যেতো। তখনকার সময় স্থানীয় সিলেটীরা রিক্সা চালানো পছন্দ করতো না। তাছাড়া সিলেট অঞ্চলে অভাবী বা গরীবের সংখ্যা কম থাকায় এবং রিক্সা চালানো কঠিন পরিশ্রমের কাজ বিধায় সিলেটী রিক্সা চালক ছিল নগন্য, যারা অত্রাঞ্চলে রিক্সা চালাতো তাদের মধ্যে অধিকাংশ রিক্সা চালকই ছিল দেশের অন্যান্য জেলার বাসিন্দা, সে ঐতিহ্য অবশ্য এখনও বিদ্যমান। এখনো রিক্সা চালকের সংখ্যা সিলেটীর চেয়ে অন্যান্য জেলার রিক্সাচালকই বেশি।
তখনকার সময় রিক্সা ও বেবীট্যাক্সী ছাড়া অন্য কোনো হালকা যানবাহন ছিল না। তারপরও যানবাহনের সংখ্যাও ছিল নগণ্য। পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটেই শহরের বিভিন্ন স্থানে এবং ছাত্র-ছাত্রীকে স্কুল কলেজে যাতায়াত করতে হতো। সরু রাস্তাঘাট, অধিকাংশ কাঁচা রাস্তা ও যানবাহন স্বল্পতার কারণে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করা ছাড়া বিকল্প কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তাই আমরা বাধ্য হয়েই পায়ে হেঁটে কলেজগুলোতে যাতায়াত করতাম। মাঝে মধ্যে কলাপাড়াস্থ খেয়াঘাট দিয়ে সুরমা নদী পাড় হয়ে অথবা কাজিরবাজার খেয়াঘাট দিয়ে নদী পার হয়ে জিতু মিয়ার পয়েন্ট দিয়ে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির পাশ দিয়ে মদন মোহন কলেজে যাতায়াত করতাম। অথবা কলাপাড়া, ভাঙ্গাটিকর পাড়া, কুয়ারপার ও লামাবাজার হয়ে মদন মোহন কলেজে আসতাম। তখন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য ক্বিন ব্রীজই ছিল নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। তখনকার সময় বিশ্বনাথ উপজেলার কামালবাজার ইউনিয়নসহ মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন সকালে রেল লাইনের পাশের রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে ক্বিন ব্রীজ দিয়ে নদী পার হয়ে প্রয়োজনীয় কাজ কর্মের জন্য বন্দরবাজারসহ নগরীর অন্যান্য স্থানে যাতায়াত করতো। বর্তমান সময়ে দেশের প্রচুর উন্নয়ন ঘটেছে, উন্নয়নের কারণেই রাস্তাঘাট ও সুরমা নদীর উপর নতুন কয়েকটি সেতু হওয়ায় এবং সিএনজি সহ হালকা ও দ্রুতগামী যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়, মানুষ হেঁটে চলাচল করা ছেড়েই দিয়েছে। এখন আর কেউ কামালবাজার থেকে তো বটেই নদীর পারস্থ খালপার, ঘোপশহর, হাজরাই, মোল্লারগাঁও কিংবা সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত বরইকান্দি এলাকা থেকেও মানুষ পায়ে হেঁটে ক্বিন ব্রীজ বা অন্যান্য সেতু দিয়ে নদী পার হয়ে বন্দরবাজার, আম্বরখানা বা নগরীর অন্যান্য স্থানে যাতায়াত করতে দেখা যায় না বা ইচ্ছা করেও কেউ হেঁটে যাতায়াত করতে চায় না। এখন ঘরে ঘরে সিএনজি বা অটো রিক্সার কারণে মানুষ পায়ে হাঁটা ছেড়েই দিয়েছে বা হাঁটতে লজ্জাবোধ করছে। অথচ হাঁটাহাঁটি না করার কারণে নিজেই নিজের স্বাস্থ্যের যে কী ক্ষতি করছে, সে কথা ভাবনার যেন কারও সময় নেই। কেননা মানুষ এখন প্রয়োজনের কাছে, অর্থের কাছে, সর্বোপরি স্বার্থের কাছে সবাই বন্দী।
আমার ছাত্র জীবনের সর্বশেষ লজিংটিতে আমার প্রথম দিনের কথাটি যতটুকু স্মরণে আছে তা তুলে ধরতে চেষ্টা করছি। জনাব আব্দুল মন্নান বর্তমান লন্ডন প্রবাসী আমাকে লজিং বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে চলে গেলেন। ততক্ষণে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছিল তাই তাদের বাড়ির সন্নিকটে মাজার সংলগ্ন মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করে পুনরায় লজিং বাড়িতে ফিরে এসেছিলাম। সন্ধ্যায় আমার লজিং অভিভাবক অর্থাৎ আব্দুল মন্নান মজনু ভাইয়ের ‘মা’ আমার সাথে কথা বলার জন্য আমাকে ডাকলেন। আমি ঘরে ঢুকেই উনাকে সালাম দিলাম। উনি আমাকে চেয়ারে বসতে বলে তিনি নিজে টেবিলের অন্য প্রান্তের চেয়ারে বসলেন। তিনি আমার নাম ঠিকানা জানার পর আমি কেন খানুয়া গ্রামের লজিং থেকে চলে আসলাম তা জানতে চাইলেন। আমি যথারীতি তাদের অসুবিধার কারণে আমাকে লজিং থেকে চলে আসার কারণটুকু জানানোর পর তিনি আমাকে বলেছিলেন ‘আমাদের আর্থিক অবস্থাও ততটা ভালো নয়, তথাপি ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার স্বার্থেই তোমাকে গৃহশিক্ষক হিসাবে লজিং দিতে বাধ্য হলাম। আমার বড় ছেলে আব্দুল মন্নান মজনুকে পারিপার্শ্বিক নানা কারণে এবং পরিবার পরিচালনার দায়-দায়িত্ব তার উপর থাকায় তাকে লেখাপড়া করানো সম্ভব হলো না। এখন ছোট তিনটি ছেলে মেয়েকে মানুষ হিসাবে গড়তে হলে লেখাপড়া করানো প্রয়োজন তাই তোমাকে গৃহশিক্ষক হিসাবে লজিং দিলাম। আশা করি তুমি আমার সন্তানের ন্যায় তোমার ছোট ভাইবোন মনে করে তাদের লেখাপড়া করাতে চেষ্টা করবে। আর আমরা যেভাবে চলি ও যতটুকু জোগাড় করতে পারি তোমাকেও আমাদের সাথে তা খেতে ও চলতে হবে। তোমার বয়সী আমার বড় ছেলেই তোমাকে তোমার চলার পথে সহযোগিতা করবে। আজ থেকে তুমি আমাদের পরিবারের একজন সদস্য হিসাবে সবকিছু মানিয়ে চলতে চেষ্টা করবে। আর তোমার কোনো অসুবিধা হলে আমাকে অথবা আমার বড় ছেলেকে জানাবে আমরা তার ব্যবস্থা করে দিব।’
আমার ছাত্র-ছাত্রীদের মায়ের কথাগুলো আমি মন দিয়ে শুনে উত্তরে বল্লাম, ‘চাচি মা, আমি আপনার ছেলের মত, আপনার বড় ছেলে আব্দুল মন্নান আমার বড় ভাইয়ের মত, যদি আপনাদের আশির্বাদ থাকে তবে আমি অবশ্যই সব কিছু ম্যানেজ করে চলতে পারব। তারপরও যদি কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে যায় তবে আপনি আমাকে ছেলে মনে করে ভুল শোধরে দিবেন। প্রয়োজনে ছেলের ন্যায় শাস্তি দিলেও আমি মেনে নিব।’ আমার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হয়ে বলেছিলেন, ‘আজ প্রথম দিন তোমাকে পড়াতে হবে না। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে একটু কথাবার্তা বলে পরিচিত হও।’ তিনি চলে যাবার পর আমি আমার ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কাছে ডেকে, কে কোন ক্লাশে পড়ছে ও নাম পরিচয় জিজ্ঞেস করে জানলাম। মোনায়েম ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ছিল। তার বড় বোন ছালমা বেগমও ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী আর ছোট মেয়ে আছমা বেগম তখনও স্কুলে যায়নি। সে আমাকে দেখেই কাঁদছিল। তখন আমার ছাত্র আব্দুল মোনায়েমকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম সে লেখাপড়া করবে না বলেই কাঁদছে। আমার কাছে পড়তে আসতে হবে তাই সন্ধ্যায় আমাকে দেখেই সে কাঁদছিল। প্রথমদিন রাত্রি বেলা বিছানাপত্র গোছগাছ করতেই সময় চলে গেল।
পরদিন যথারীতি কলেজে চলে গেলাম বিকালে লজিং বাড়িতে এসে খাওয়া দাওয়া শেষে বিকালে একটু ঘুরাঘুরি করে সন্ধ্যায় লজিং এসে শুনি ছোট্ট মেয়ে আছমা বেগম আমাকে দেখেই কাঁদছিল। আমার কাছে পড়তে ভয় পাওয়ার কারণে বেশ কিছুদিন আমার কাছে পড়তে আসেনি। কয়েক দিন যাওয়ার পর তাকে আদর করে আমার কাছ ডেকে নিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। বারবার বুঝানোর পর ক্রমান্বয়ে তার ভয় কাটানোর পর সে নিয়মিত আমার কাছে পড়তে বসতো। মোনায়েম, ছালমা ও আছমা তিন ভাইবোন ছিল আমার ছাত্র-ছাত্রী।
আমাকে পুত্রবৎ ¯েœহ-মমতা করার কারণে আমার ছাত্র-ছাত্রীদের মা’কে আমি সবচে বেশি শ্রদ্ধা করতাম। আমি উনাকে যতটুকু সম্ভব মায়ের মতো শ্রদ্ধা ও মান্যগণ্য করতাম। তিনি আমার প্রতি যথেষ্ট যতœবান ছিলেন। প্রতিদিন তিনি আমাকে কলেজে যাওয়ার সময় খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতেন এবং বিকালে কলেজ থেকে ফিরলে সন্তানের ন্যায় আহার ও নাস্তার ব্যবস্থা করে দিতেন। তার সেই ভালোবাসার কথা আজও আমার মনকে নাড়া দেয়। ইতিমধ্যে তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। আমি উনার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি।
ইতিমধ্যে আমি আমার লজিং বাড়িতে ও আশেপাশের সকলের মধ্যে ভালো গৃহশিক্ষক হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলাম। আমার ছাত্র-ছাত্রী আমার প্রতি যথেষ্ট অনুরাগী হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে ছোট ছাত্রীটি আমার প্রতি বেশি ¯েœহাশীষ হয়ে উঠে। সে তখন ২য় শ্রেণীতে পড়ছিল। এরই মধ্যে একবার তাদের বড় ভাই আব্দুল মন্নান মজনু ভাইয়ের সাথে সামান্য বিষয় নিয়ে কিঞ্চিৎ মতবিরোধ দেখা দিলে আমি লজিং ছেড়ে বরইকান্দির একটি বাড়িতে লজিং ঠিক করে তাদের বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু যেদিন তাদের বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলাম সেই দিনই মজনু ভাই বরইকান্দিতে গিয়ে লজিং বাড়ির অভিভাবকের কাছ থেকে অনুরোধ করে আমাকে পুনরায় তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। আমি তাদের বাড়ি থেকে চলে যাওয়ায় আমার ছাত্র-ছাত্রী মজনু ভাইয়ের কাছে ভীষণ অনুরোধ ও কান্নাকাটি করায় তিনি বাধ্য হয়ে আমাকে পুনরায় তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে এনেছিলেন। আসলে একজন গৃহশিক্ষককে কতটুকু ¯েœহমমতা ও ভালোবাসলে তাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয় তা যারা যেখানে ভালোবাসার স্থান করে নিতে পারে শুধু তাদের বেলাতেই তা অনুভব করা সম্ভব। পরবর্তীতে আমার জীবনে যতদিন সিলেটে লজিং প্রয়োজন ছিল ততদিন অর্থাৎ ১৯৮১ সাল পর্যন্ত আমি এই লজিং বাড়িতেই লজিং জীবন শেষ করেছিলাম।
আমি যখন লজিং বাড়িতে ছিলাম তখন যতটুকু সম্ভব অতি সতর্কতার সাথে তাদেরকে সঠিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। আমার ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে মোঃ আব্দুল মুনায়েম বর্তমানে একজন ভালো শিক্ষক। নিজের প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সে শিক্ষকতা করছে। শিক্ষকতাই তার পেশা। তার বড় বোন ছালমা বেগম বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী। ছোট বোন ডাঃ আছমা বেগম বর্তমানে সুপরিচিত একজন মহিলা হোমিও ডাক্তার। হোমিও চিকিৎসক হিসাবে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। আমার সাথে মাঝে মধ্যে তাদের দেখা সাক্ষাৎ হয়ে থাকে। এখনও তারা আমাকে বড় ভাই ও তাদের গৃহশিক্ষক হিসাবে শ্রদ্ধা করে থাকে। যে শিক্ষা মানুষ অন্যের দুঃখ বুঝতে শিক্ষা দেয়, যে শিক্ষা শিক্ষার্থীকে বিনয়ী হতে শিক্ষা দেয় এবং যে শিক্ষা শিক্ষার্থীকে সৎ উপার্জন ও সৎ জীবন যাপন করতে শিক্ষা দেয়, এমন শিক্ষাই আমি দিতে পেরেছিলাম বলেই আজ তারা শিক্ষকতা ও চিকিৎসার মত জনকল্যাণমূলক পেশায় কাজ করছে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT