পাঁচ মিশালী

আপন প্রচেষ্টায় স্বাবলম্বী ফাহিমা

এখলাছুর রহমান প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-১০-২০১৯ ইং ০০:১৬:২৭ | সংবাদটি ১১৭ বার পঠিত

নারী ও পুরুষ দুজনই মানুষ। কিন্তু নারীকে তার অধিকার, মর্যাদা, সম্মান দিতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা নানাভাবে কুণ্ঠাবোধ করে এখনও। পুরুষশাসিত সমাজে নারীকে আজও বিপন্ন অবস্থায় দিন কাটাতে হয়, পদে পদে লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, বঞ্চনার শিকার হতে হয়। স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের সফলতা খুঁজতে গিয়ে জকিগঞ্জে পাওয়া গেছে আপন প্রচেষ্টায় স্বাবলম্বী হওয়া এক নারীর সন্ধান। তার জন্ম জকিগঞ্জের কাজলসার ইউনিয়নের কামালপুর নিভৃত পল্ল¬ীর দিনমজুর মৃত লাল মিয়ার ঘরে। নাম ফাতেমা বেগম ফাহিমা। ১৯৯৮ সালে বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের জামুরাইল গ্রামের দিনমজুর শিহাব উদ্দিনের সাথে।
বিয়ের ১৮ মাসের মাথায় স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ ঘটে ফাতিমা বেগম ফাহিমার। ফিরে আসেন বাবার বাড়ীতে। ৩ বোন ২ ভাইয়ের সংসার। চরম অভাব অনটন। ২০০৪ সালে মারা যান আশ্রয়দানকারী দিনমজুর পিতা লাল মিয়া। অন্ধকার নেমে আসে তাদের সংসারে। অনাহারে কাটে দিন। পরিবারে ভাঙন ধরে। বড় ভাই আলাদা দিনযাপন শুরু করেন। জীবন বাঁচানোর কোন পথ না পেয়ে ফাহিমা বেছে নেন নকশি কাঁথা, মূর্তা দিয়ে চাটি, পাটি, বাঁশ দিয়ে চাটাই, ডাম সামগ্রী তৈরীর কাজ। এতে কোন মতে আহার জুটে। এ কাজ করেই তিনি নিজের জীবন বাঁচাতে বিকল্প স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। চেষ্টা করেন টেইলারি কাজ শিখতে। কিন্তু প্রথমে টাকার অভাবে টেইলারি কাজ শিখতে পারেননি। পরে চাটি, পাটি, ডাম বিক্রির টাকা দিয়ে গোটারগ্রাম এলাকার এক মহিলার কাছে শিখতে যান টেইলারি। তখন কাচি কিনার মত তার হাতে টাকা ছিলো না। বাড়ীতে গিয়ে কাচির বদলে দা দিয়ে কাপড় কেটে টেইলারিং কাজ শিখেন। ২০১৫ সালে দরিদ্রতার অভিশাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে কর্মসংস্থানের সন্ধানে নিভৃত পল্ল¬ী কামালপুর থেকে জকিগঞ্জ শহরে আসেন ফাহিমা। সব দুঃখ মুছে ফেলে নতুন জীবন শুরু করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এই নারী। শহরে এসে তিনি সোনার বাংলা বহুমুখী সমবায় সমিতির সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রশিক্ষক হিসেবে চাকুরী পান। প্রতি তিনমাসের মাথায় তিনি ৪০ থেকে ৪৫ জন যুবতীকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। চাকুরীতে বেতনের সাথে অতিরিক্ত সম্মানিও পান। এতে তিনি পর্যায়ক্রমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। বিভীষিকার ছাপ নিয়ে বয়ে বেড়ানো সেই ফাতেমা এখন অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী একজন নারী। তিনি এখন নারীবান্ধব কর্মসূচীতে দিন কাটাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে ফাতেমার সাথে কথা বলতে গেলে তিনি তার সফলতার গল্প বলতে গিয়ে জানায়, ভিক্ষাবৃত্তি একটি অভিশাপ। আমি একটি সময় ভিক্ষা করে খাওয়া ছাড়া কোন পথ দেখি নাই। কিন্তু পরে পরিশ্রম করে নিজের ভাগ্য বদল করেছি। স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের কারণে আমার জীবনে বিচ্ছেদের আগুন জ্বলে উঠলেও আমি আমার পরিশ্রম দিয়ে তা নেভাতে সক্ষম হয়েছি। সৌভাগ্য নিয়েই পৃথিবীতে কোনো মানুষের জন্ম হয় না। কর্মের মাধ্যমে প্রত্যেক মানুষ তার ভাগ্য গড়ে নিতে হয়। নিপুণতা উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রেরণা থাকলে অবহেলিত নারী সমাজ পুরুষের চাইতে বেশী এগিয়ে যেতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT