পাঁচ মিশালী

ব্রিটেনে এমপি হচ্ছেন আরো তিন বাঙালি নারী!

মো. রহমত আলী প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-১০-২০১৯ ইং ০০:১৮:০১ | সংবাদটি ১৮৫ বার পঠিত

ব্রেক্সিট জ¦রে আক্রান্ত ব্রিটেনের রাজনীতি এখন টালমাটাল থাকলেও একটি সাধারণ নির্বাচনের সম্ভাবনার কথা বেশ জোরে-সুরে আলোচিত হচ্ছে। আর এ লক্ষ্যে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি তাদের দলের প্রার্থী নির্বাচনে খুবই তৎপর হয়ে উঠেছে। এ তৎপরতার অংশ হিসাবে বেশ কয়কজন বাঙালি প্রার্থীও রয়েছেন, যাদের এমপি হওয়ার সম্ভানা উজ্জল। তাই অনেকেই প্রত্যাশা করছেন যে, আগামীতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাঙালি এমপির সংখ্যা নিশ্চিতভাবে বৃদ্ধি পাবে। তবে এই সম্ভাবনার মধ্যে পূর্বের তিন নারী এমপির মত আরো তিনজন সম্ভানাময় নারী প্রার্থী রয়েছেন। এমতাবস্থায় যদি তারা বিজয়ী হতে পারেন তবে হাউজ অব কমন্সে বাঙালি এমপির সংখ্যা হবে ছয়জন।
এ পর্যন্ত যারা এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন তারা হচ্ছেন, ইস্ট লন্ডনের পপলার ও লাইম হাউজ আসনে আপসানা বেগম, ওয়েস্ট মিনিষ্টার আসন থেকে রাবিনা খান, চেলসি আসন থেকে ডা: আনোয়ারা আলী ও মিডল্যান্ডস ওয়েস্ট আসন থেকে খাজা শমসীর কুরেশী।
বৃটেনের রাজনৈতিক দলগুলি হঠাৎ করে প্রার্থী নির্বাচন করে না। দলের বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মনোনয়ন দেয়া হয়ে থাকে। আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে থেকে প্রথমে দরখাস্ত আহবানের পর সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি সাধারণ প্রার্থী তালিকা করা হয়। এই তালিকা থেকে যাচাই-বাচাই করে একটি লং লিস্ট করা হয়ে থাকে। আর এ লং লিস্ট থেকে পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটি (এনইসি) একটি শর্টলিস্ট করে। এই শর্টলিস্ট করার পর নির্ধারিত আসনের পার্টি কর্মীরা ভোট দিয়ে যাকে নির্বাচন করেন তিনিই হন সে আসনের প্রার্থী। জরুরী অবস্থায়ও এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বেশ কয়েকমাস সময় লাগে। আর এ জন্যই শুরু হয় আগাম তৎপরতা। স্বাভাবিক অবস্থায় কিন্তু এ প্রক্রিয়া কয়েক বছর পূর্বে করা হয়ে থাকে যাতে প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারণা চালানোর জন্য যতেষ্ঠ সময় পান। যেভাবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রথম বাঙালি এমপি ২০১০ সালে নির্বাচিত হলেও তাকে মনোনয়ন দেয়া হয় ২০০৭ সালে। অর্থাৎ প্রায় তিন বছর পূর্বে।
ব্রিটেনের বাঙালি অধ্যুর্ষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে রয়েছে, দুটি সংসদীয় আসন। এর একটি ‘বেথনালগ্রীণ ও বো’ আসনে রয়েছেন বর্তমান এমপি রুশনারা আলী। আর অন্য আসনটি হচ্ছে ‘পপলার ও লাইম হাউজ’। যেখানে বাঙালি প্রার্থী আপসানা বেগম লেবার পার্টি থেকে ইতিমধ্যেই নমিনেশন প্রক্রিয়ায় অনেক ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন। ২৭ অক্টোবর তিনি যদি শুধু স্থানীয় লেবার পার্টির মেম্বারদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারেন তবেই তার এমপি হওয়ার নিশ্চিত সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এ আসনটি লেবার পার্টির নির্ধারিত আসন হিসাবে স্বীকৃত। যেখানে বর্তমানে এমপি হিসাবে রয়েছেন, জিমফিজপ্যাট্রিক। কিন্তু আগামী নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন না। সম্ভাবনাময় বাঙালি রাজনীতিক আপসানা বেগম স্থানীয় লেবার পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পার্টি প্রধান জেরেমি করবিনের রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী। তিনি লেবার পার্টির সহযোগি হিসাবে কাজ করে এমন আরো সংগঠনের সাথেও জড়িত রয়েছেন। ইতোমধ্যে লেবার পার্টির ছায়া অর্থমন্ত্রি জন মেকডোনালসহ দলের অনেক উচ্চ পর্যায়ের নেতা তার ক্যাম্পেইনে শরীক হয়েছেন। আপসানার দেশের বাড়ী বৃহত্তর সিলেটের জগন্নাথপুর উপজেলার ইনাত নগর গ্রামে। তার পিতা মনির উদ্দিন ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক সিরিমনিয়াল মেয়র।
লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টি থেকে যিনি ইতিমধ্যেই লন্ডনের ওয়েষ্ট মিনিস্টার আসন থেকে নমিনেশন পেয়েছেন তিনি হচ্ছেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক মেয়রপ্রার্থী কাউন্সিলার রাবিনা খান। তিনি বর্তমানে এ কাউন্সিলের কাউন্সিলর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পরপর দুইবার মেয়র নির্বাচনে অংশ নেন। প্রথমবার খুব অল্প সংখ্যক ভোটের জন্য জয়লাভ করতে পারেন নি। তিনি বিগত ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের এমপি নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। তিনি একজন লেখিকাও বটে। তার লিখিত একটি বই ইউরোপের মধ্যে শ্রেষ্ট পুস্তক হিসাবে স্থানলাভ করেছে। তার দেশের বাড়ী সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায়।
ব্রিটেনের কনজারভেটিব পার্টি থেকে চেলসি আসনে এবার নমিনেশন পেয়েছেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক কাউন্সিলর ডা: আনোয়ারা আলী। তিনি ইতিপূর্বে অন্য একটি এলাকা থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। আনোয়ারা হচ্ছেন, একটি রাজনৈতিক পরিবারের মহিলা যিনি পেশায় একজন জিপি (জেনারেল প্রেক্টিশনার)। তিনি চ্যানেল আই ইউরোপের সাবেক এমডি রেজা আহমদ চৌধুরী সুয়েবের সহধর্মীনি। তার দেশের বাড়ী সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায়।
এদিকে পুরুষদের মধ্যে এ পর্যন্ত যিনি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে লেবার পার্টি লং লিস্টেড হয়েছেন তিনি হচ্ছেন খাজা শমশীর কোরেশী। তার আসন হচ্ছে বৃটেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঙালি অধ্যর্ষিত এলাকার ‘মিডল্যান্ডস আসন’। তিনি লেবার পার্টির একজন সক্রীয় কর্মী হিসাবে ১৯৮৩ সাল থেকে কাজ করে আসছেন। তার এই কাজের স্বীকৃতি হিসাবে দল তাকে এ আসনের লংলিস্ট ভুক্ত করেছে। উচ্চশিক্ষিত জনাব কুরেশী রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতিতে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি একজন গবেষক হিসাবে কাজ করছেন। ইমিগ্রেশন ও কমিউনিটি লিয়াজন অফিসার হিসাবেও রয়েছে তার বিশেষ দক্ষতা। তিনি বৃটেনের বর্ণবাদী আন্দোলনের সময় যুবনেতা হিসাবে কাজ করেছেন। তার দেশের বাড়ী বৃহত্তর সিলেটের জগন্নাথপুর উপজেলার আওরঙ্গবাদ গ্রামে।
এদিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বর্তমান তিন বাঙালি এমপি যথাক্রমে রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক ও রুপা হক আগামী নির্বাচনেও তাদের নিজ নিজ আসন থেকে আবারও নিশ্চিতভাবে প্রার্থী হচ্ছেন। সম্প্রতি তাদের আসনগুলিতে বাছাই প্রক্রিয়ায় তারা পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। তারা তিন জনই লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপি।
উল্লেখ্য, ব্রিটেনের বিগত সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারী। সে হিসাবে আগামী নির্বাচন ২০২২ সালের মার্চ মাসে হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে ব্রেক্সিট ইস্যুসহ অন্যান্য রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অস্থিতিশীল রাজনীতিকে স্থিতিশীল করতে আশু একটি সাধারণ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। বর্তমান ক্ষমতাশীল দলও একটি নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে আভাষ পাওয়া যাচ্ছে। তাই একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT