সম্পাদকীয়

সরকারি সব সেবা একই প্লাটফর্মে

প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-১০-২০১৯ ইং ০০:৫৫:০৩ | সংবাদটি ১০০ বার পঠিত

সরকারি সব সেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার লক্ষে চালু হয়েছে তিনটি সেবা প্রদানকারী প্লাটফর্ম। সম্প্রতি চালু হওয়া সেবাগুলো হচ্ছে একসেবা, একপে এবং একশপ। প্রায় সব সেবা এক জায়গাতেই দেয়া হবে এসব প্লাটফর্মের মাধ্যমে। মূলত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের অবদান, এক জায়গায় সকল সমাধান’ এই লক্ষকে সামনে রেখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ওয়েবসাইট ও স্মার্টফোন ভিত্তিক অ্যাপসের মাধ্যমে এসব প্লাটফর্ম থেকে সেবা নিতে পারবেন নাগরিকেরা। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই একসেবা, একপে এবং একশপ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ এক সময় ছিলো স্বপ্ন, এখন তা বাস্তব। বরং পুরোপুরি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে ওঠার দ্বারপ্রান্তে। অর্থাৎ আগামী বছরের (২০২১) মধ্যেই ডিজিটাল বাংলাদেশ শতভাগ বাস্তবায়িত হবে বলেই সরকারের উদ্দেশ্য রয়েছে। সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের আরেকটি সিঁড়ি হলো একসেবা একপে একশপ সার্ভিস। এর মধ্যে ‘একসেবা’র কাজ হলো একটি প্লাটফর্ম থেকে সব সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া। এক ঠিকানায় সরকারি সেবার মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে একসেবা প্লাটফর্ম। পর্যায়ক্রমে সরকারের প্রায় তিন হাজার সেবা এই ডিজিটাল প্লাটফর্মে যুক্ত হবে। আর সরকারি এসব সেবার মূল্য পরিশোধসহ এক ঠিকানায় সব বিল পরিশোধের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে ‘একপে’ প্লাটফর্ম। যেকোন বিল সহজে পরিশোধ করার জন্য ওয়ানস্টপ পেমেন্ট প্লাটফর্ম এটি। এছাড়া, সহজে ও দ্রুত সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষে তৈরি করা হয়েছে রুরাল এসিস্টেড ই-কমার্স প্লাটফর্ম ‘একশপ’। এর মাধ্যমে গ্রামে কিংবা শহরে সহজেই পণ্য ক্রয় এবং বিক্রয় করা যাবে। একশপে দশ লাখের বেশি প্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি ওষুধ, বই, পোশাক ইত্যাদি দেশের যে কোন প্রান্তে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।
সরকার বলছে, মানুষ যাতে আঙ্গুলের ছোয়াতেই সরকারি সব সেবা পেয়ে যায় সেই ব্যবস্থাই করা হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের আদলে সরকারের এই পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সত্যি সেটা হবে আমাদের জন্য একটা যুগান্তকারী অর্জন। তবে সেটা অর্জনের নেপথ্যে এইসব কর্মযজ্ঞে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের আন্তরিকতা-দক্ষতা সবচেয়ে জরুরি। ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমেই অনেক সেবা পেতে হবে জনগণকে। এইসব কেন্দ্রের প্রতি গ্রামের সাধারণ মানুষদের আস্থা এখনও সেভাবে তৈরি হয়নি। সার্বিকভাবে জনগোষ্ঠীর বড় অংশই এখন পর্যন্ত ডিজিটালাইজেশনের সুবিধাগুলো গ্রহণে অভ্যস্থ হয়ে উঠতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদেরকে এইসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT