স্বাস্থ্য কুশল

৪ উপজেলায় বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ

আবু তালেব মুরাদ প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-১০-২০১৯ ইং ০১:০৫:৪৬ | সংবাদটি ৮০ বার পঠিত

বাংলাদেশে সংক্রামক ব্যাধি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে কিন্তু জীবন ধারার পরিবর্তনের সাথে সাথে খাদ্যাভ্যাস এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাবের ফলে অসংক্রামক ব্যাধি দিন দিন বেড়েই চলছে। ২০১৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বাংলাদেশে শতকরা ৬৭ জন অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে, তন্মধ্যে শতকরা ৩০ জন হৃদরোগের জন্য মৃতুবরণ করছে। এতে উচ্চ রক্তচাপের রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিসি প্রোগ্রাম, রিসোলভ টু সেইভ লাইভস ইউএসএ এর সাহায্য পৃষ্টপোশকতায়, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর সহায়তায় এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট এর মাধ্যমে সিলেটের ৪টি উপজেলা অর্থাৎ বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ এই প্রকল্পের আওতায় সরকার একটি সহজ চিকিৎসা প্রটোকলের মাধ্যমে জনসাধারণের নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ ও বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ করে যাচ্ছে। মুখ্য উদ্যেশ্যই হচ্ছে উক্ত রক্তচাপের রোগী সনাক্তকরণ,তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা এবং ফ্রি মেডিসিন বিতরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার লক্ষে সিলেট এর সিভিল সার্জন ও ৪টি উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাবৃন্দ এই প্রকল্পের পেছনে অত্যন্ত আন্তরিকতার সহিত কাজ করে যাচ্ছেন। প্রকল্পের আওতায় এই ৪ টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.)এ মালিক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল প্রফেসর ডাঃ এ এইচ এম এয়ায়েত হোসেন,ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের সভাপতি প্রফেসর ডাঃ এম এনায়েত উল্লা, রিসোলভ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্ক জ্যাফি, মার্গারেট ফ্যারেল, ড্যানিয়েল বারকা, এবং ডাঃ রীনা গুপ্তাসহ আরো অনেকে উক্ত ৪ টি উপজেলা সফর করেন। তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডিসি কর্ণার এবং উপজেলাগুলোর বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করেন।
কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় তাঁরা বলেন প্রাপ্ত বয়স্কদের শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর মধ্যে অধিকাংশই জানেনা যে তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে। এ জন্য উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় নিরব ঘাতক। যার কারণে অনেকের স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক, কিডনি সমস্যা বা অন্ধত্ব দেখা দেয়। তখন কিছু করার থাকেনা কাজেই উচ্চ রক্তচাপকে আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। গণসচেতনতা বাড়াতে হবে। যাতে করে তাদের এই সমস্যায় পড়তে না হয়। পাশাপাশি সময়মত চিকিৎসা নেয়ারও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই প্রত্যেকের খেয়াল রাখা উচিৎ যেমন লবণ কম খাওয়া, ওজন ঠিক রাখা, শাকসবজি ফলমূল খাওয়া, কায়িক পরিশ্রম এবং ধূমপান বা তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকলে অনেকাংশে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাঁরা বলেন তার পরও যদি উচ্চ রক্তচাপ হয়ে যায় তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ঔষধ সেবন করলে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করা সম্ভব হয়। কাজেই আমাদের সমাজের প্রত্যেক শ্রেণী পেশার জনগণকে সুস্থ্য রাখতে হলে সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রত্যেকেরই যে কোন রোগের কারণে ডাক্তারের স্বরণাপন্ন হলে রক্তচাপ মাপা এবং যাদের মা বাবার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের সময় সময় রক্তচাপ মাপা জরুরী।
তাঁরা উল্লেখ করেন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উচ্চ রক্তচাপের রোগী চিহ্নিত করা প্রয়োজন। কারণ অনেকেই জানেনা তার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। তিনি বলেন আমাদের জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেওয়া দরকার। হাইপারটেনশন কন্ট্রোল প্রোগ্রামের প্রজেক্ট ম্যানেজার ডাঃ মাহফুজুর রহমান ভুইয়া জানান গত জানুয়ারী ২০১৯ থেকে এই পর্যন্ত ২৭ হাজার জনকে উচ্চ রক্তচাপের পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রায় ৭ হাজার রোগীকে উচ্চ রক্তচাপের জন্য ফ্রি চিকিৎসা এবং ফ্রি মেডিসিন দেওয়া হয়। হাইপারটেনশন কন্ট্রোল প্রোগ্রামের প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করছেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর ইপিডিমোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডাঃ সোহেল রেজা চৌধুরী এছাড়াও উক্ত প্রকল্প আরো বেগবান করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডাঃ মোঃ আমিনুর রহমান লস্কর, পাবলিসিটি সেক্রেটারী ও সমন্বয়কারী আবু তালেব মুরাদ, সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের সিইও কর্ণেল (অবঃ) শাহ আবিদুর রহমান, প্রজেক্ট অফিসার ডাঃ শামীম জুবায়ের, মনিটরিং অফিসার এহসানুল আমিন ইমন এবং মনিটরিং অফিসার ডাঃ শাহিনুল ইসলাম।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT