সম্পাদকীয়

ঘুষের টাকা ফেরত

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-১০-২০১৯ ইং ০০:৩৯:০৪ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত


শুদ্ধি অভিযান চলছে পল্লী বিদ্যুতে। অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য এবং গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধের নতুন উদ্যোগ নিয়েছে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড-আরইবি। দেশের ৮০টি সমিতিতে গ্রাহকদের অভিযোগ শুনতে উঠান বৈঠক আয়োজনের পাশাপাশি ঘুষের টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরইবি। ইতোমধ্যেই এই কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে বিভিন্ন স্থানে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়-পল্লী বিদ্যুতের অধীন এলাকায় ৯৪ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করছে। ২০২০ সালের মধ্যেই বাকি গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়া হবে। এই অবস্থায় গ্রাহক হয়রানি মূল সমস্যা। গ্রাহকরা বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গিয়ে এক শ্রেণির দালালের কাছে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এই দালালদের সঙ্গে আরইবির কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে জড়িত রয়েছে আরইবির ঠিকাদারও। এই দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্তদের ‘আত্মশুদ্ধির’ লক্ষে সাম্প্রতিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আপাতদৃষ্টে এটিকে একটি সুসংবাদ হিসেবেই বিবেচনা করা যায়। তবে তার সঙ্গে একটি দুঃসংবাদও আছে। সেটা হলো বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে সরকার। অজুহাত সেই পুরনো-বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য থেকে বিক্রয়মূল্য কম; যে কারণে সরকার বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এই ভর্তুকি পোষাতেই বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হচ্ছে। আর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা হবে দুই বছরের মাথায় আরেকবার দামবৃদ্ধি; ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে সর্বশেষ দাম বাড়ানো হয় বিদ্যুতের। যা-ই হোক এই দাম বৃদ্ধির আতংকের মধ্যে আরইবি’র নতুন উদ্যোগটিকে ইতিবাচক বলেই ধরে নেয়া যায়। সবচেয়ে বড় খবর হচ্ছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয়া ঘুষের টাকা ফেরত দিচ্ছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী। সম্ভবত এটি একটি বিরল ঘটনা। সর্বোপরি এটি একটি উদাহরণও। এদেশে সরকারি অফিস আদালতে দুর্নীতিবাজ চাকরীজীবিরা নিরীহ জনগণের কাছ থেকে দেদার ঘুষ নিচ্ছে। নানাভাবে ফাঁদে ফেলে তারা সাধারণ মানুষের পকেট মেরে ফতুর করছে। কিন্তু সেই ঘুষের টাকা ফেরত দেয়ার কোন নজির নেই। তবে এবার ঘুষের টাকা ফেরত দেয়ার যুগান্তকারী ঘটনার প্রবক্তা হয়ে গেলো আরইবি।
সারা দেশের চারশ’ ৬১টি উপজেলার মধ্যে তিনশ’ ৪১টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে। বাকি একশ ২০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হবে আগামী বছরের মধ্যেই। এমনি এক মাহেন্দ্রক্ষণে ঘুষ বাণিজ্য বন্ধের ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন বিজ্ঞ মহল। তারপরেও এখানে নানান প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে। সব চেয়ে বড় প্রশ্নটি হচ্ছে-এতে ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজদের অপকর্ম কি আদৌ বন্ধ হবে? কারণ, এরা এই পর্যায়ে ঘুষের টাকা ফেরত দেবে ঠিকই; তবে পরবর্তীতে আবারও যে ঘুষ বাণিজ্য শুরু করবে না, সেই নিশ্চয়তা নেই। তাই চিহ্নিত ঘুষখোরদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। তারা যথাযথ শাস্তি ভোগ করলে পরবর্তীতে আর ঘুষ নেয়ার সাহস পাবে না।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT