ধর্ম ও জীবন

তাফসির

প্রকাশিত হয়েছে: ০১-১১-২০১৯ ইং ০০:৪৫:২৭ | সংবাদটি ১২৬ বার পঠিত

এখন লক্ষ্য করা দরকার যে, আয়াতে হেকমতের কি অর্থ? তাফসিরকার সাহাবীগণ হুযুরে আকরাম (সা.) এর কাছ থেকে শিখে কুরআনের ব্যাখ্যা করতেন। এখানে হেকমত শব্দের অর্থে তাঁদের ভাষা ভিন্ন ভিন্ন হলেও সবগুলোর মর্মই এক। অর্থাৎ, রসুলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাহ। ইবনে কাসীর ও ইবনে জরীর কাতাদাহ, থেকে এ ব্যাখ্যাই উদ্বৃত করেছেন। হেকমতের অর্থ কেউ কুরআনের তাফসির, কেউ ধর্মে গভীর জ্ঞান, কেউ শরীয়তের বিধি-বিধানের জ্ঞান, কেউ এমন বিধি-বিধানের জ্ঞান অর্জন বলেছেন, যা শুধু রসুলুল্লাহ (সা.) এর বর্ণনা থেকেই জানা যায়। নিঃসন্দেহে এসব উক্তির সারমর্ম হলো রসুল (সা.) এর সুন্নাহ।
‘ওয়াইয়ুজাক্কিহিম’ -যাকাত শব্দ থেকে উদ্ভুত। এর অর্থ পবিত্রতা। বাহ্যিকও আত্মিক সর্বপ্রকার প্রবিত্রতার অর্থেই এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
উপরোক্ত ব্যাখ্যার দ্বারা আয়াতের মর্ম সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। হযরত ইবরাহিম (আ.) ভবিষ্যৎ বংশধরদের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মঙ্গলের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন যে, আমার বংশধরের মধ্যে একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুনÑ যিনি আপনার আয়াতসমূহ তাদের তেলাওয়াত করে শোনাবেন, কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা দিবেন এবং বাহ্যিক ও আত্মিক অপবিত্রতা থেকে তাদের পবিত্র করবেন। দোয়ায় নিজের বংশধরের মধ্যে থেকেই পয়গম্বর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর কারণ প্রথমতঃ এই যে, এটা তাঁর সন্তানদের জন্যে গৌরবের বিষয়। দ্বিতীয়তঃ এতে তাদের কল্যাণও নিহিত রয়েছে। কারণ, স্বগোত্র থেকে পয়গম্বর হলে তাঁর চাল-চলন ও অভ্যাস-আচরণ সম্পর্কে তারা উত্তমরূপে অবগত থাকবে। ধোঁকাবাজি ও প্রবঞ্চনার সম্ভাবনা থাকবে না। হাদিসে বলা হয়েছেÑ প্রত্যুত্তরে ইবরাহিম (আ.) কে আল্লাহর পক্ষ থেকে বলে দেয়া হয় যে, আপনার দোয়া কবুল হয়েছে এবং কাঙ্খিত পয়গম্বরকে শেষ যমানায় প্রেরণ করা হবে।’ Ñ(ইবনে-জরীর, ইবনে-কাসীর)
রসুলুল্লাহ (সা.) এর জন্মের বৈশিষ্ট্য : মুসনাদে আহমদ গ্রন্থে উদ্বৃত এক হাদিসে বর্ণিত আছে যে, মহানবী (সা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে তখনও পয়গাম্বর ছিলাম, যখন আদম (আ.) ও পয়দা হননি; বরং তাঁর সৃষ্টির জন্য উপাদান তৈরি হচ্ছিল মাত্র। আমি আমার সূচনা বলে দিচ্ছি ঃ আমি পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর দোয়া, ঈসা (আঃ)-এর সুসংবাদ এবং স্বীয় জননীর স্বপ্নের প্রতীক। ঈসা (আ.) এর সুসংবাদের অর্থ তাঁর এ উক্তিÑ আমি এমন এক পয়গাম্বরের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আসবেন। তাঁর নাম আহমদ। তাঁর জননী গর্ভাবস্থায় স্বপ্নে দেখেন যে, তাঁর পেট থেকে একটি নূর বের হয়ে সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আলোকোজ্জ্বল করে তুলেছে। কুরআনে হুযুর (সা.) এর আবির্ভাবের আলোচনা প্রসঙ্গে দু’জায়গায় সূরা আলে-ইমরানের ১৬৪তম আয়াতে এবং সুরা জুমা’আয় ইবরাহিমের দোয়ায় উল্লেখিত ভাষারই পুরনাবৃত্তি করা হয়েছে। এভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, হযরত ইবরাহিম (আ.) যে পয়গম্বরের জন্যে দোয়া করেছিলেন, তিনি হচ্ছেন হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (আ.)।
পয়গম্বর প্রেরণের অর্থ তিনটি : সূরা বাক্বারার আলোচ্য আয়াতে এবং সূরা আলে-ইমরান ও সূরা জুমু’আর বিভিন্ন আয়াতে হুযুর (সা.) সম্পর্কে একই বিষয়বস্তু অভিন্ন ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। এসব আয়াতে মহানবী (সা.) এর পৃথিবীতে পদার্পণ ও তাঁর রেসালতের তিনটি লক্ষ্য বর্ণিত হয়েছে। প্রথমতঃ কুরআন তেলাওয়াত, দ্বিতীয়তঃ আসমানী গ্রন্থ ও হেকমতের শিক্ষাদান এবং তৃতীয়তঃ মানুষের চরিত্রশুদ্ধি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT