ধর্ম ও জীবন

পরকালে বিশ্বাস

মোহাম্মদ ছয়েফ উদ্দিন প্রকাশিত হয়েছে: ০১-১১-২০১৯ ইং ০০:৫১:৪৫ | সংবাদটি ১২৪ বার পঠিত

এক বিশাল দীঘি। জল চক্চক্ করছে। দেখতে মনোরম। যে কোনো দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী এর বাসিন্দা। প্রাণীর মধ্যে রয়েছে মাছ, পোকা-মাকড়, কীটপতঙ্গ ইত্যাদি। তাছাড়া এমিফ্বিয়া ও র‌্যাপ্টাইলিয়া গোত্রের কিছু প্রাণীও এর বাসিন্দা। উল্লেখিত সবই বিশাল দীঘিটির বাসিন্দা। তাদের মধ্যে মৎস্যের মর্যাদা বেশী। কারণ এগুলো মানুষের খাবার।
এক মা মৎস্য তার বাচ্চাদের নিয়ে দীঘির জলে বিচরণ করছে। বাচ্চাগুলো বেশ বড় হয়েছে। খাদ্য সংগ্রহ ও ভক্ষণ করতে সক্ষম। তবুও বাচ্চাগুলো মায়ের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। বাচ্চাগুলো মায়ের সাথে চলে। সব বাচ্চা একই মেজাজের নয়। কোনোটা চঞ্চল আবার কোনোটা স্বাভাবিক মেজাজের।
জনৈক বড়শিওয়ালা মাছ শিকারের জন্য দীঘির জলে বড়শি পেতে দাঁড়িয়ে আছে। মাছের সুস্বাদু খাবার বড়শিওয়ালা সুকৌশলে বড়শিতে লাগিয়ে রেখেছে। আপাত দৃষ্টিতে বড়শিটাকে মৎস্যের উৎকৃষ্ট খাদ্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। মা মৎস্য বাচ্চাদের নিয়ে বড়শির কাছেই ছিল। খাদ্যের সু-ঘ্রাণ দীঘির জলের অন্যতম বাসিন্দা মৎস্যের নাসারন্দ্রে লেগে ঘ্রাণেন্দ্রিয়কে জাগ্রত করল; মৎস্যর বাচ্চা বড়শিটাকে খাদ্য মনে করে খাবারের জন্য উদ্যত হলো।
মা মৎস্য বাচ্চাকে ঐ খাবার গ্রহণ করতে বারণ করলো। মা বলল, এটা প্রকৃত খাবার নয়। অলিক খাবার। এর ভেতর লোহার তৈরী একটি আংটা রয়েছে। যার বাঁকানো অগ্রভাগ সূচের অগ্রভাগের মত সূক্ষè ও ধারালো। এর সাথে সুতো দ্বারা সংযুক্ত অপর প্রান্ত বড়শিওয়ালার হাতে রয়েছে। এ খাবার গ্রহণ করলে বড়শিওয়ালা সুতো ধরে টান দেবে। ফলে খাবারের ভেতর রক্ষিত বড়শিটি মাছের মুখ গহ্বরে গেঁথে যাবে। লোকটি মাছটিকে জল থেকে টেনে তুলবে। সেখানে রয়েছে অন্য জগৎ। বায়ু মন্ডল; দীঘির মত জল জগৎ নেই। রয়েছে বাতাস; লোকটি মাছটিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করবে। এর পর রান্না করে খেয়ে ফেলবে। তাই ফাদ পাতা খাবারটি খেতে নেই। মা মাছটি দীর্ঘ ওয়াজ করে বাচ্চাদের বুঝানোর চেষ্টা করল।
ঊদগ্রীব বাচ্চা মৎস্যটি মায়ের উক্ত দীর্ঘ বয়ান শুনলনা। মাকে তাচ্ছিল্ল করলো, সে বলল, এসব আজগুবি কথা। আষাঢ়েগল্প। কত সুন্দর সুস্বাদু খাবার। এটা হাত ছাড়া করা যায়না। এটা ভক্ষণ করলে কে টেনে নেবে? কাউকে যে দেখা যাচ্ছে না। যা দেখা যায় না তা বিশ্বাস করা হাস্যকর। আমি এসব অযৌক্তিক বক্তব্য শুনতে চাইনা। এই বলে মায়ের কথা অগ্রাহ্য করে বাচ্চা মৎস্যটি বড়শিটাকে গিলে ফেলল। বড়শিওয়ালা টের পেয়ে সুতোয় টান দিল। সাথে সাথে বড়শিটি মাছের মুখ গহ্বরের ভেতর দিয়ে গেঁথে চোখ ছিদ্র করে বের হল। বড়শিওয়ালা জল থেকে টেনে মাছটিকে তুলল। অতঃপর, হাত দিয়ে ধরল। জলজ প্রাণী বায়ুর স্পর্শে এসে অক্সিজেনের অভাবে ছট্ছট্ শুরু করল। লেজ নাড়তে লাগল। মুখ দ্বারা কট কট শব্দ শুরু করল। বাঁচার জন্য চেষ্টা করল। মায়ের কথা হুবহু ফলে গেল। মায়ের কথা অমান্য করায় আপসোস করতে লাগল। ইতোমধ্যে লোকটি মাছের মুখগহ্বর থেকে বড়শিটি টেনে বের করে আনল। মাছটি অক্সিজেন (ঙ২) এর অভাবে মৃতপ্রায়। গৃহে নিয়ে লোকটি জীবন্ত মৎসের দেহ থেকে আঁস পৃথক করল। তারপর মৎসের প্রাণবায়ু বেরিয়ে গেলে। লোকটি মাছটিকে তেলে ভেজে রান্না করে ভুড়িভোজ করল। মা মাছের সমস্ত ওয়াজ অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ হলো। অন্য বাচ্চাগুলো মায়ের কথা বিশ্বাস করায় বেঁচে গেল।
মানুষ সহ অন্যান্য উদ্ভিদ ও প্রাণী পৃথিবী নামক দীঘির বাসিন্দা। এ জগতের বাসিন্দাদের মধ্যে মানুষই উৎকৃষ্ট। মানুষ আল্লাহ পাকের খলিফা (প্রতিনিধি)। আল্লাহ পাক মানুষ ও জ্বীন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন কেবল তাঁর ইবাদত বন্দেগীর জন্য। জমিনে আল্লাহপাকের দ্বীন প্রচার ও পালন করার জন্য মানবজাতীকে প্রেরণ করা হয়েছে। বিনিময়ে পরকালে আল্লাহ পাক মানুষকে জান্নাত দান করবেন।
অনেকেই পরকাল বিশ্বাস করেন না। তাদের ধারণা, মরে গেলে দেহ পচে গলে বিনষ্ট হয়। পুনরায় দেহ গঠন করা যায় না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনের সূরা কেয়ামাহ’র ৩নং আয়াতে বলেন, ‘মানুষ কি মনে করে আমি তার অস্থি সমূহ একত্রিত করব না? ঐ সূরার ৪নং আয়াতে বলেন, “পরন্ত আমি তার আঙ্গুলগুলো পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম।’
জলের মৎসের জন্য বায়ু মন্ডল আরেক জগৎ। এটা সাধারণ মাছের বোধগম্য হওয়া কঠিন হলেও অভিজ্ঞ মাছ ঠিকই বুঝে। উল্লেখিত উদাহরণ থেকে এটা স্পষ্ট বুঝা যায়। ঠিক তেমনিভাবে পরকালে মানুষের আরেক জগৎ ও জীবন রয়েছে। সে জগতে মানুষ বেঁচে থাকবে অনন্তকাল। এই সত্যটুকু সাধারণ মানুষের পক্ষে বুঝা দুরূহ হলেও নবী-রাসুলগণ ও আলেম-ওলামা ঠিকই বুঝেন। সুতরাং তাদের বক্তব্য শুনে কিংবা তাদের সহবতে (কাছে) গিয়ে আমাদেরকে পরকালের প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় করতে হবে। পরকালে বিশ্বাস না থাকলে অনন্তকাল জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। সুতরাং আসুন, পরকালে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করি। জান্নাতে যাওয়ার ছামান তৈরিতে এ দীঘিময় পৃথিবীতে এখনই মনোনিবেশ করি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT