উপ সম্পাদকীয়

নৈতিক মূল্যবোধ আজ কোন পথে?

মো. মনজুর আলম প্রকাশিত হয়েছে: ০২-১১-২০১৯ ইং ০০:৩৩:৪৫ | সংবাদটি ১০৫ বার পঠিত

মানুষের মধ্যে নীতি নৈতিকতা অপরিহার্য। নৈতিকতা না থাকলে মানুষ অমানুষ হয়ে যায়। সে অপকর্ম করতে কুণ্ঠাবোধ করেনা। নৈতিকতা ছেড়ে মানুষ এমন হয় ক্ষেত্রে বিশেষে পশু কিংবা তারচেয়েও অধম হয়ে যায়। নৈতিকতা একটি মহৎ গুণ যার মধ্যে নীতি নৈতিকতা আছে সে অন্যকে ঠকতে পারেনা। অপরকে সে কখনো অত্যাচার করতে পারে না। সে কখনো ধর্ষক হতে পারেনা। সর্বদা সে আদর্শ নিয়ে চলে। অবশ্য মানব জীবনে ভুল মানুষ করতেই পারে তবে ভুল কেহ ধরে দিলে কিংবা নিজে নিজের ভুল বুঝতে পারলে তা সাথে সাথে ছেড়ে দেওয়াই বাঞ্ছনীয়। জেনে শুনে অনৈতিক কাজ করা মারাত্মক অপরাধ। আমাদের সব সময় খেয়াল রাখতে হবে আমার কোনো কাজের মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি হচ্ছে কি-না। আমাকে সব সময় নৈতিকতার মধ্যে থেকে সব কাজ করতে হবে। বিভিন্ন সময় আমরা শুনতে পাই মানুষই মানুষের দ্বারা আক্রান্ত, মানুষই মানুষের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত। যে মানুষ অন্য মানুষকে ক্ষতি করল বা ঠকল তার কি এতোটুকুও বাঁধল না যে, সেও তো একজন মানুষ। নিজে অন্যকে ঠকিয়ে টাকা কামালো আর এদিকে অন্যজন পথে পথে দ্বারে দ্বারে কাঁদল!
আসলে মানুষ আজকাল বড় পাষাণ হয়ে গেছে। মানুষের হৃদয়ে যে ভালোবাস, মমত্ববোধ, দেশাত্ববোধ থাকার কথা তা একদম বিষ্প্রভ হয়ে গেছে। মানুষের মন থেকে দরদ, মায়া কোথায় যেন উদাও হয়ে যাচ্ছে। না হলে কি নুসরাত জাহান রাকিকে এভাবে কেহ আগুনে পুড়িয়ে মারতে পারে। কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে এভাবে মেরে মেরে অন্যকে হত্যা করতে পারে? আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ড সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাও আবার বুয়েটের মতো মেধাবীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। আমরা দেখি আমাদের কাছে দূরে সব সময় মারামারি, রক্তারক্তি একে অন্যকে ঠকা, প্রতারণা, মিথ্যাচার। এসব থেকে আমাদের মুক্ত থাকতে হবে। দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। আমাদের নীতি নৈতিকতা ভালো হলে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে দেশ আরো এগিয়ে যাবার পথ মসৃণ হবে। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মিশিয়ে থাকে। তারা চিন্তাও করেনা এ ভেজাল মানুষের দেহে কত ক্ষতি করতে পারে। আবার মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রি করে ভোক্তাদের অনেক ক্ষতির সম্মুখীন করে থাকেন। মৎস্য ও ফল বিক্রেতারা ফরমালিন মিশিয়ে তাদের জিনিস তাজা রেখে ক্রেতাকে ধোকা দিয়ে বিক্রি করে ক্রেতার শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে থাকে। তারা চিন্তাও করেনা তাদের দ্রব্য বিক্রি করে টাকা কমাই করে অন্যের কত ক্ষতি করছে। বিভিন্ন ফল, সবজি, মাছ খেয়ে ক্রেতারা অসুস্থ হয়ে মেডিকেলে ভর্তি হতে শোনা যায়। নদীর তীর দখল করে আবাসন প্রকল্পের মালিক বনে অনেকে প্লট, ফ্ল্যাট বানিয়ে অনেক টাকা কামাই করেন, সাধারণত জনগণকে ঠকিয়ে। নদীর তীর উদ্ধারে যথাযথ কর্তৃপক্ষ এসব ফ্ল্যাট উচ্ছেদ করলে অনেকে হাউমাই করে কাঁদতে দেখা যায়! আবাসন প্রকল্পের এসব তথাকথিত মালিক কোন বলে কোন সাহসে এসব নিরীহ মানুষকে ঠকালেন। সাধারণ মানুষ যখন এসব প্রকল্পের বুকিং দেন তখন এসব দলিল রেজিষ্টারী হয় কিভাবে? তাহলে এসব অবৈধ ব্যবসার সাথে কি অন্যকেহ জড়িত? ঔষধ খেয়ে রোগী সুস্থতা অনুভব করার কথা।
ঔষধেও ভেজাল! মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি রোগীকে আরো খারাপ করছে। মাসোয়ারা বা চাঁদা আদায় করে অনেক বড় বড় বা পরিচিত ব্যক্তি রাস্তায়, ফুটপাতে অনেক স্থানে অবৈধভাবে দোকান খোলার সুযোগ দিয়ে থাকেন। এতে পথচারীদের ও যানবাহনের চলাফেরায় অসুবিধা হয়। শুধু টাকা কামানোর জন্য নীতি নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে এভাবে অন্যের অসুবিধা করা হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায় কিছু মানুষ অন্যের থেকে টাকা ধার নিয়ে আর ফেরত দিচ্ছেনা। এভাবে সমাজে অনেক অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। ধারকৃত টাকা ব্যাংকে চেকে ফেরত দেবার কথা করে যে চেক দেয়া হয় ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায় একাউন্টে টাকা নেই। পরে অনেক ঝগড়াঝাটির সৃষ্টি হয়। চাকুরী বাণিজ্য করতে গিয়ে অনেকে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেন। এতে যোগ্যরা বঞ্চিত হয় অযোগ্যরা টাকার বিনিময়ে চাকুরী পায়। তাতে দেশের ক্ষতি হয়। ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে খামখা মানুষের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি করা হয়। কখনো কখনো কারো কোন আপত্তিকর ছবি ছেড়ে দিয়ে কাউকে হেয় করা হয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে অনেক কিছু লিখা হয়।
এসবই নীতি ভ্রষ্ট কাজ। ফেসবুকে গুজব ছড়ানো কিংবা অশ্লীল ছবি দিয়ে কাউকে হেয় করা কিংবা কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য ফেসবুক নয়। আপনি নীতিভ্রষ্ট হয়ে কেন এসব ব্যবহার করবেন! কেন কারো ধর্মীয় ব্যাপারে আঘাত করবেন। এসব অনৈতিক কাজের জন্য সমাজের তথা দেশের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। সবাই একটু চিন্তা করুন দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য, কিভাবে দেশে শান্তিতে থাকা যায়, কিভাবে অন্যকে ভালো রাখা যায়। নীতি নৈতিকতাহীন মানুষ তো পশুর সমান আপনি কেন পশু হতে যাবেন। চরিত্রে আজই পরিবর্তন আনুন। দেখবেন সব ভালো লাগছে। গ্রাম্য সালিশে বা আদালতে মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে কেন অন্যকে ফাসিয়ে দিবেন। আপনার মিথ্যা সাক্ষীর কারণে কোনো ব্যক্তি বছরের পর বছর জেল খাটছে অহেতুক কষ্ট করছে এটা খুবই অন্যায়। আপনি যার উপর অন্যায় করলেন সে ক্ষিপ্ত হয়ে আপনার ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করবে। তবে কেন আপনি নীতিভ্রষ্ট হয় মিথ্যা সাক্ষী দেবেন। এতে সমাজে বিশৃঙ্খলা লেগে থাকার আশঙ্কা থাকে। মানুষের মত আমাদেরকে এ সমাজে বাস করতে হবে। মানুষের মধ্যে থাকতে হবে নীতি নৈতিকতা, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় আচার, সৌজন্যবোধ, কল্যাণবোধ, উদারতা, শিষ্টাচার, দেশপ্রেম ও পারস্পরিক মমত্ববোধ।
নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষার অভাবেই সমাজের আজ এমন অবস্থা, নৈতিকতার অভাবেই সামাজিক অপরাধ বেড়েছে। আমাদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা গেলে অন্যায় অবিচার বন্ধে সহায়ক হবে। প্রত্যেকে ঘর থেকে তথা পরিবার থেকে নৈতিক শিক্ষা শুরু করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রত্যেক পরিবারের মা বাবাকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আর স্কুলগুলোতে নৈতিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষা ও নৈতিকতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন। শিক্ষা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসে। কিন্তু শিক্ষিত ব্যক্তির মধ্যে যদি নৈতিকতা থাকে না তবে তার শিক্ষা মূল্যহীন। নৈতিকতা একজন মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তোলে। তাই বলা চলে শিক্ষা ও নৈতিকতা এ দুটির সমন্বয় হলে প্রত্যেক মানুষ সৎ, গুণী, দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে। তার দ্বারা সমাজে তথা রাষ্ট্রে কোন বিশৃঙ্খলা অন্যায় সৃষ্টি হবে না। সে দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে। সুতরাং বর্তমান সমাজে নৈতিক শিক্ষা গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবারে ও বিদ্যালয়ে সন্তান সন্ততিকে নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলেতে হবে। প্রত্যেকের ব্যক্তি জীবনে যদি নৈতিকতা থাকে তবে পরিবার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষাদান সার্থক হবে। নৈতিকতা প্রত্যেক ব্যক্তির একটি মৌলিক গুণ। এ মৌলিক গুণটি সবাইকে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী করে। মিষ্টি কথা, অন্যকে না ঠকা, প্রতারণা মুক্ত থাকা, সুন্দর স্বভাব, উন্নত চরিত্র, সততা, পরোপকার, সৌজন্যমূলক আচরণ এসব কিছুই নৈতিকতা। আমাদের প্রত্যেকের খেয়াল রাখা উচিত আমার কোনো কাজে যেন অপরের ক্ষতি না হয়। আমার কোন ইশারা কিংবা পদক্ষেপ অন্যকে যেন কোন বিপদে না ফেলে। মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়ে পশুর মতো কাজ কিন্তু মানুষের শোভা পায় না। নীতিহীন মানুষ পশুর সমান।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মধ্যপ্রাচ্যে নারীশ্রমিক প্রেরণ কেন বন্ধ হবে না?
  • ব্যবসার নামে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে
  • কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ
  • বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন
  • সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন ও কিছু কথা
  • শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ মুজাম্মিল আলী
  • আমরা কি সচেতন ভাবেই অচেতন হয়ে পড়ছি?
  • দ্রব্যমূল্যর উর্ধগতি রুখবে কে?
  • আগুনের পরশমনি ছোয়াও প্রাণে
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন
  • দেওয়ান ফরিদ গাজী
  • বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হালচাল
  • সিলেটের ছাত্র রাজনীতি : ঐতিহ্যের পুনরুত্থানের প্রত্যাশা
  • নাসায় মাহজাবীন হক
  • লেবানন : চলমান গণবিক্ষোভের লক্ষ্য ও পরিণতি
  • ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ বিতর্ক
  • ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিকথা
  • শিক্ষক পেটানোর ‘বিদ্যাচর্চা’
  • অভিযান যেন থেমে না যায়
  • পেঁয়াজ পরিস্থিতি হতাশার
  • Developed by: Sparkle IT