সম্পাদকীয়

জাতীয় সমবায় দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০২-১১-২০১৯ ইং ০০:৩৪:২০ | সংবাদটি ৭৩ বার পঠিত


জাতীয় সমবায় দিবস আজ। সমবায় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং সমবায় আন্দোলনে গতিশীলতা আনয়নের জন্য প্রতিবছর নভেম্বর মাসের প্রথম শনিবার দিবসটি সারাদেশে পালিত হয়। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এর একটি বিশ্বজনীন চরিত্রও রয়েছে। কারণ ১৯২০ সাল থেকে জুলাই মাসের প্রথম শনিবারকে আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। পরে ১৯৯৫ সাল থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব মোতাবেক ওই দিনটি বিশ্ব সমবায় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আর বাংলাদেশে স্বাধীনতার পরপরই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জাতীয়ভাবে এই দিবস পালন হয়ে আসছে। এবার ৪৮তম জাতীয় সমবায় দিবস পালন করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশে দিবসটি পালন করা হচ্ছে নভেম্বর মাসের প্রথম শনিবার। সমবায়ের মাধ্যমে কাজ করলে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ত্বরান্বিত হবে-এই প্রত্যাশাতেই পালিত হচ্ছে দিবসটি।
এদেশে কৃষকদের সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে সমবায় আন্দোলন শুরু হয় ১৯০৪ খৃস্টাব্দে। পরবর্তীতে এই আন্দোলন কৃষি, মৎস্য, দুগ্ধ উৎপাদন ও দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গেই বেশি সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়ে। সমবায় কথাটির সঙ্গেই সমতা, একতাবোধ, সমন্বয়, সামষ্টিক ইত্যাদি কিছু ধারণা সামনে চলে আসছে। বেশ কিছু জনপ্রিয় শ্লোগান তৈরি হয়েছে এই সমবায়ের চিন্তাকে মাথায় নিয়ে। যেমন-দশে মিলি করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ, একতাই বল, দশের লাঠি একের বোঝা ইত্যাদি। তবে কৃষিতেই সমবায়ের ধারণাটি বেশি কার্যকর। যুগে যুগে সমবায়ের ভিত্তিতে সংগঠিত হয়েছে কৃষক এবং কৃষির উন্নয়নে তা ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। সমবায়ের মূল প্রবক্তা হিসেবে ধরা যায় বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। তিনি পূর্ববঙ্গে তার জমিদারকালে কৃষি সমবায়ের উদ্দেশ্যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে চাপাইনবাবগঞ্জের না চোলে ইলামিত্র কৃষক সমবায়ের নামে তেভাগা আন্দোলন করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে কুমিল্লার কৃষকদের কল্যাণে কৃষক সমবায় কুমিল্লা মডেল চালু হয়। এটি পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। একই ধারনায় বগুড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় বিআরডিএ।
সব মিলিয়ে সমবায় দিবস উদযাপিত হয় দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতকে স্মরণে রেখে। কখনও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সমবায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।, আবার কখনও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারজাতকরণ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দরিদ্র নরনারী তথ্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির অন্যতম পন্থা হচ্ছে সমবায়। বর্তমানে দেশের কমপক্ষে দুই লাখ সমবায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় দুই কোটি মানুষ। এই আন্দোলনকে গতিশীল করতে আজকের এই জাতীয় সমবায় দিবস উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের জাতীয় সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় সমবায়ই হোক অন্যতম মাধ্যম।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT