উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

বিচারের রায় শেষে অপেক্ষা

রাজু আহমেদ প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-১১-২০১৯ ইং ০১:২৪:০৪ | সংবাদটি ৯৪ বার পঠিত

মাত্র সাত মাসের মাথায় একটি হত্যা মামলার রায় হওয়ায় পুরো জাতির মধ্যে একটা স্বস্তিবোধ লক্ষ্য করা গেল গত সপ্তাহে। বর্তমান সরকারের আমলে মনে হয় এই প্রথম এত দ্রুত সময়ের মধ্যে কোন হত্যা মামলার রায় হলো। হ্যা, বলছিলাম ফেনির সোনাগাজি উপজেলার মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার কথা। যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদের কারণে নিজ মাদ্রসার ছাদে গায়ে আগুন দিয়ে নির্মম আর নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয় এই মাদ্রাসা ছাত্রীকে। এমন নৃশংস ঘটনায় স্তম্ভিত হয়েছিলেন পুরো দেশবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি চাউর হলে সারা দেশের মানুষ প্রতিবাদ আর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। দেশের প্রধান মন্ত্রী নুসরাতের পিতা মাতা আর ভাইকে সান্তনা দিয়ে বলেছিলেন এই জঘন্য ঘটনার ন্যায় বিচার নিশ্চিত করবেন।
মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে টপ প্রশাসন পর্যন্ত খুব দ্রুত বিচার কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনাও দিয়েছিলেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী। যেই ঘোষণা সেই কাজ। প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ ভাবে ঘটনাটি তদন্ত করে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আর আদালত অতি অল্প সময়ের মধ্যে মাত্র কয়েক কার্য দিবসে মামলাটির শুনানি শেষ করে রায় ঘোষনা করেন। রায়ে আদালত সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মোল্লা সিরাজুদ্দোউলা সহ মোট ১৬ জন আসামীর মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন। দেশের ইতিহাসে এটা একটি যুগান্তকারী রায়। শুধু নুসরাত জাহান রাফির পরিবার নয়, এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন গোটা দেশের আপাময় জনসাধারণ। নুসরাত আর কোনদিন ফিরবেনা তার পরিবারের কাছে। তার পরেও নুসরাতের পিতামাতা আর দুই ভাইয়ের মনে কিছুটা হলেও সান্তনা যে, দোষীদের বিচার হয়েছে। আজ হোক অথবা আরো দুবছর পরেই হোক উচ্চ আদালতের মাধ্যমে যদি এই রায় কার্যকর হয় তবে সেটাই হবে এই পরিবারের বড় সান্তনা। নুসরাতের মতো এ রকম আরো বেশ কয়েকটি মর্মস্পর্শী হত্যাকান্ড সম্প্রতি এবং অতি সম্প্রতি দেশে সংঘঠিত হয়েছে। যেগুলোর বিচার হবে। আর এই পরিবার গুলো সান্তনা পাবে আর বলবে যে, না আমরাও ন্যায় বিচার পেয়েছি। এরকম একটি ঘটনা উল্লেখ করতে চাই।
বলছি নুসরাতের মতো আরো অধিকতর একটি সংগ্রামি পরিবারের কথা। যে পরিবারেও নেমে এসেছে সারা জীবনের কান্না। টিউশনি করে করে যে মেয়েটি এ বাসা ও বাসা ঘুরে তার সামান্য চাকুরিজীবি পিতাকে সংসার চালাতে সাহায্য করতো সেই মেয়েটিকে নির্মম আর নির্দয় ভাবে গলাটিপে হত্যা করে জঙ্গলে তার লাশ ফেলে পালালো দুর্বৃৃত্তরা। এই ঘটনাটিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়। সারা দেশের মানুষ প্রতিবাদ আর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। হ্যা, বলছিলাম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের এইচ এসসি পরীক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর কথা। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধায় টিউশনি থেকে বাসায় ফেরার পথে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সোহাগী জাহান তনুকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু খুব দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে এখনো এই মামলার কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। সেদিন একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় দেখলাম মামলার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ সিআইডি এই মামলাটির কোন কিনারা করতে পারেনি। নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়ের দিন সোহাগী জাহান তনুর পিতা মাতা আর একমাত্র ভাই নাকি সারা দিন কেদেঁছেন। তারা নুসরাতের খুনীদের শাস্তির সংবাদে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর বলেছেন, নিজেদের মেয়ে তনু হত্যার বিচার যেন তারা জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারেন। তনুর মা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সিআইডি আর তাদের সাথে যোগাযোগ করেনা। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তারা কুমিল্লা সি আইডি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখছেন বলে জানিয়েছেন তাদের। এভাবে গত সাড়ে তিন বছরে কতবার যে, সিআইডি কার্যালয়ে গেছেন সোহাগী জাহান তনুর অসহায় পিতামাতা তার কোন হিসেব নেই। সিআইডির তদন্ত যেন শেষ হয়না। আর শেষ হয়না তনুর পিতা মাতার অপেক্ষার প্রহর। এ রকম আরো একটি আলোচিত হত্যা কান্ডের ঘটনা আমাদেরকে বিচলিত করে। যেটির দীর্ঘ সাড়ে সাত বছরেও কোন কুল কিনারা করতে পারেনি আমাদের প্রশাসন। সেই আলোচিত হত্যাকান্ডটি হচ্ছে খোদ রাজধানীতে আমাদের প্রিয় সহকর্মী সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনি হত্যাকান্ড। এই দম্পতির পিতা মাতা ভাই বোন আর তাদের একমাত্র শিশু পুত্রটি ও এখনো অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। কবে তারা শুনবেন প্রিয় স্বজনের মামলার রায় হচ্ছে। আহারে এমন আরো কতনা হৃদয় বিদারক বিচারের বাণী নিরবে নিবৃত্তে কাদঁছে তার হিসেব কে রাখে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের আলোচিত হত্যা মামলা সমূহের প্রতি যদি সুনজর দেন। তবে আমাদের দৃঢ় বিশ^াস একটি বিচারের বাণীও আর নিরবে নিবৃত্তে কাদঁবেনা। একটি পরিবার ও ন্যায় বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবেনা। যেমন বঞ্চিত হয়নি মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের পরিবার।
লেখক : সিলেট প্রতিনিধি বার্তাসংস্থা রয়টার্স ।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মধ্যপ্রাচ্যে নারীশ্রমিক প্রেরণ কেন বন্ধ হবে না?
  • ব্যবসার নামে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে
  • কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ
  • বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন
  • সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন ও কিছু কথা
  • শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ মুজাম্মিল আলী
  • আমরা কি সচেতন ভাবেই অচেতন হয়ে পড়ছি?
  • দ্রব্যমূল্যর উর্ধগতি রুখবে কে?
  • আগুনের পরশমনি ছোয়াও প্রাণে
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন
  • দেওয়ান ফরিদ গাজী
  • বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হালচাল
  • সিলেটের ছাত্র রাজনীতি : ঐতিহ্যের পুনরুত্থানের প্রত্যাশা
  • নাসায় মাহজাবীন হক
  • লেবানন : চলমান গণবিক্ষোভের লক্ষ্য ও পরিণতি
  • ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ বিতর্ক
  • ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিকথা
  • শিক্ষক পেটানোর ‘বিদ্যাচর্চা’
  • অভিযান যেন থেমে না যায়
  • পেঁয়াজ পরিস্থিতি হতাশার
  • Developed by: Sparkle IT