সম্পাদকীয় মাতৃভূমিকে যে ভালোবাসতে পারে না, তার পক্ষে অন্যকিছুকে ভালোবাসা সম্ভব নয়। -আল হাদিস

কমছে কৃষি পরিবার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-১১-২০১৯ ইং ০০:৩৯:৪৫ | সংবাদটি ১১৩ বার পঠিত

কৃষি প্রধান দেশে কমছে কৃষি পরিবারের সংখ্যা। গত দশ বছরে কৃষি পরিবারের সংখ্যা কমেছে দুই দশমিক নয় দুই শতাংশ। বর্তমানে দেশে কৃষি পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৫৯ লাখ ৪৫ হাজার। ২০০৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো এক কোটি ৪৩ লাখ ৮৭ হাজার। সাধারণত কোন পরিবারের আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ একর বা তার বেশি হলে সেই পরিবারকে কৃষি পরিবার হিসেবে ধরা হয়। শুধু তাই নয়, ধীরে ধীরে কৃষি শ্রমিক পরিবারের সংখ্যাও কমছে। বর্তমানে ৩০ দশমিক ২৯ শতাংশ রয়েছে কৃষি শ্রমিক পরিবার। এক দশক আগে যা ছিলো ৩৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। যে পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি কাজ, সেই পরিবারকে বলা হয় কৃষি শ্রমিক পরিবার। পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত কৃষি শুমারীর প্রাথমিক প্রতিবেদনে এইসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
খবরটি নিঃসন্দেহে সুখকর নয় আমাদের জন্য। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির এই দেশে কৃষক পরিবারের সংখ্যা দিন দিন বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নানা কারণে কৃষি পরিবারের সংখ্যা কমছে। একদিকে দিন দিন কমছে কৃষি জমি, অপরদিকে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। মূলত এইসব কারণে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এই পেশা থেকে। কিছুদিন আগে পরিচালিত এক জরিপে বলা হয় দিন দিন কৃষি পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে মানুষ। এর কারণ কৃষি কাজ করে এখন আর সংসার চলে না। গবেষণায় দেখা গেছে ৬৫ শতাংশের বেশি কৃষক নানা সময় অন্য পেশায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কৃষক পরিবারগুলোর মধ্যে ৮৩ শতাংশ বলেছে তাদের খামারের আয় তাদের পারিবারিক চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে ৮০ শতাংশের বেশি কৃষক নিজেদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে তারা বাজারে অভিগম্যতা এবং বাজারজাতকরণ সহজ মনে করেন না। যে কারণে আমাদের কৃষি, কৃষক, পারিবারিক কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
কৃষি হচ্ছে এই জনপদের আদি পেশা। সময়ের বিবর্তনে এই পেশায় এসেছে পরিবর্তন। এতে লেগেছে আধুনিকতার ছোয়া। বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় দিন দিন উন্নতি হচ্ছে কৃষির। বাড়ছে জমির উৎপাদন ক্ষমতা। ফলে ফসল উৎপাদনে রীতিমতো বিপ্লব সাধিত হয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি একটি সুসংবাদও রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষকেরা পূর্ব পুরুষের পেশা থেকে সরে যাচ্ছে। অন্যভাবে বললে তারা এই পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। অর্থাৎ বংশ পরম্পরায় যা ছিলো পারিবারিক পেশা তা এখন হুমকির মধ্যে। এই অবস্থায় দরকার কৃষি জমি সুরক্ষা, কৃষি জমিতে কৃষকের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, কৃষি প্রতিবেশ ভিত্তিক কৃষি সুরক্ষা করা এবং কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেয়া।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT