উপ সম্পাদকীয়

পুলিশ জনগণের বন্ধু

আতিকুর রহমান নগরী প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-১১-২০১৯ ইং ০০:৪২:৫২ | সংবাদটি ৬৯ বার পঠিত

পুলিশ শব্দটি একসময় আমজনতার কাছে ভয়ের ছিল। গত একদশক থেকে বাংলাদেশ পুলিশের আন্তরিকতায় এই ভয় তারা জয় করে নিয়েছেন। বন্ধুর ভূমিকায় উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা সাধারণ জনতার পাশে দাঁড়াচ্ছেন। সদ্যসমাপ্তি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষার্থী-অভিভাবক সমাজ এ কথার সাক্ষী। তারা পূণ্যভূমি সিলেটে এসে সম্প্রীতির যে নিদর্শন দেখেছেন তা ইতিহাস হয়ে থাকবে।
শুধু তাই নয়, নগরবাসীর হাসিখুশি, আনন্দ-উৎসবে তারা নিজেদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে কাজ করে চলেছেন। জঙ্গি-মাদক, সন্ত্রাস তথা অপরাধমুক্ত সিলেট নগরী গড়া একা পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়, এর জন্য সমাজের নাগরকিদের দাঁড়াতে হবে। হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। এ জন্যই কমিউনিটি পুলিশিং এর ব্যবস্থা।
পাড়া-মহল্লায় এর কার্যক্রম দ্রুত বেগবান হচ্ছে। পুলিশ-জনতার এক্যবদ্ধ চেষ্টার ফলেই আজ পাড়া-মহল্লা থেকে অপরাধ দূরীভূত হতে চলেছে। সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় ২৯৮টি কমিটির মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং এর কার্যক্রম চলছে।
এবছরে দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে-‘পুলিশের সঙ্গে কাজ করি, মাদক-জঙ্গী, সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ি’।
মানুষের জীবনে ভাল বন্ধুর ভূমিকা অপরিসীম। একজন ভাল বন্ধুই পারে জীবনে চলার পথের বন্ধুর ভুলগুলো শুধরে দিয়ে আলোর পথের সন্ধান দিতে। জীবনে সেই পরম বন্ধু, যে কিনা বিপদে-আপদে সুখে-দুঃখে কাছে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়ায়। মানুষে মানুষে বিশ্বাস আর ভালবাসার সংমিশ্রণে বন্ধুত্বের পবিত্র বন্ধন তৈরি হয়। আর এ ভালবাসা কখনও জোর করে আদায় করা সম্ভব নয়। মানুষ মানুষকে নিজের মনের অজান্তেই ভালবাসে। ভালবাসার এ সুন্দর রসায়নটা শুধু মনের মধ্যে থেকেই সৃষ্টি হয়। যে কোন রকম বন্ধুত্ব থেকেই ভালবাসার উৎপত্তি! পুলিশ জন্মলগ্ন থেকেই জনগণকে বন্ধু ভাবছে, আর জনগণের ভালবাসা পাওয়ার জন্য প্রাণান্তর চেষ্টা করছে। প্রশিক্ষণ থেকে অবসর পর্যন্ত দাবি করছে, পুলিশ জনগণের বন্ধু।
পুলিশ ও জনগণের এ ভালবাসা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পুলিশ জনগণকে একতরফাই ভালবেসে চলছে। জনগণ পুলিশের এ গভীর প্রেমের আহ্বানে কবে সাড়া দেবে তা আল্লাহপাকই জানেন। পুলিশের সেবা নিয়ে সমাজে যতই বিতর্ক থাকুক না কেন তাদের সংশ্লিষ্ট কাজগুলো নিজেদেরই করতে হয়। মানুষের শেষ ভরসার আশ্রয়স্থল এখনও বাংলাদেশ পুলিশের দরজা। নাগরিক সভ্যতাকে সমুন্নত রেখে রাষ্ট্রে বসবাসরত শান্তিপ্রিয় জনগণের জন্য একটি সুরক্ষিত সভ্য সমাজ নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিরামহীনভাবে কাজ করতে হয়। পুলিশ বাহিনীর কর্মকান্ড পরিচালিত হয় বাহিনীর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাকে ভিত্তি করে। এই বাহিনীর প্রশিক্ষিত জ্ঞান আহরণ করেই পুলিশ সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করে। এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের কর্মপরিধি, পরিকল্পনা, কাজের যোগ্যতা, বিচক্ষণতা, অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ তেমন অবগত নন। পুলিশ মানুষের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পারবে, তাও মানুষ ভাল করে জানে না। সাধারণ শ্রমিকের সঙ্গে পুলিশের কর্মঘণ্টার কোন মিল নেই। প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, আগামী দিনে পুলিশ বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য অসহায় ও বিপন্ন মানুষের বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়াবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রেখে ২০২১-২০৪১ শান্তি রূপকল্প বাস্তবায়নে পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য বিশেষ অবদান রাখবে। পুলিশের হাজারো সীমাবদ্ধতা থাকার পরও সরকার ও জনগণ পুলিশের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। সবাই পুলিশের সেবার ওপর নির্ভর করার পরও রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রধান সহায়তাকারী সেবক এই পুলিশকে জনগণ কেন ভালবেসে বন্ধু ভাবতে পারছে না তার কারণ আজও অজানা। তবে কেন জনগণ পুলিশকে ভালবাসবেন তার দু-একটি বিবেচ্য বিষয় উল্লেখ করা হলো।
১. আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বপ্রথম পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাই দেশপ্রেমে আপ্লুত হয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মোৎসর্গ করেন।
২. জনগণের জানমাল তথা সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ২৪ ঘণ্টা দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।
৩. একমাত্র পুলিশই জনগণকে সরাসরি সেবা প্রদান করতে পারেন, যা কিনা অন্য কোন বাহিনীর পক্ষে সম্ভব নয়।
৪. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় মহামারী মোকাবেলায় সবার আগে পুলিশকেই পাওয়া যায়।
৫. পারিবারিক, সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব একইসঙ্গে শুধু পুলিশকেই পালন করতে হয়।
৬. রাস্তায় যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আপনি সবার আগে পুলিশকেই কাছে পাবেন।
অনেক কারণ রয়েছে যার জন্য জনগণ পুলিশকে ভালবাসতে পারে, বন্ধু ভাবতে পারে। সত্য কথা হলো পুলিশের দু’একজনের দু-একটি মন্দ কাজের জন্য পুরো পুলিশ বাহিনীকে ভুল বুঝে সাধারন জনগণ। যা গোটা বাহিনীর জন্য বড়ই অপ্রত্যাশিত ও কষ্টদায়ক। পুলিশের সদস্যরা যদি ভাবেন, জনগণ আমাদের ভালবাসুক কিংবা না বাসুক, আমরা জনগণের মঙ্গলের জন্য যে কাজ তা হাসিমুখে করে যাব। কারণ পুলিশই জনগণের বন্ধু।
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মধ্যপ্রাচ্যে নারীশ্রমিক প্রেরণ কেন বন্ধ হবে না?
  • ব্যবসার নামে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে
  • কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ
  • বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন
  • সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন ও কিছু কথা
  • শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ মুজাম্মিল আলী
  • আমরা কি সচেতন ভাবেই অচেতন হয়ে পড়ছি?
  • দ্রব্যমূল্যর উর্ধগতি রুখবে কে?
  • আগুনের পরশমনি ছোয়াও প্রাণে
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন
  • দেওয়ান ফরিদ গাজী
  • বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হালচাল
  • সিলেটের ছাত্র রাজনীতি : ঐতিহ্যের পুনরুত্থানের প্রত্যাশা
  • নাসায় মাহজাবীন হক
  • লেবানন : চলমান গণবিক্ষোভের লক্ষ্য ও পরিণতি
  • ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ বিতর্ক
  • ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিকথা
  • শিক্ষক পেটানোর ‘বিদ্যাচর্চা’
  • অভিযান যেন থেমে না যায়
  • পেঁয়াজ পরিস্থিতি হতাশার
  • Developed by: Sparkle IT