উপ সম্পাদকীয় স্মরণ

স্যারের জন্য পংক্তিমালা!!

আমীরুল হোসেন খান প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-১১-২০১৯ ইং ০০:৪৫:৩৬ | সংবাদটি ১৪৮ বার পঠিত

পুরো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে ধীরেশ স্যারের ছবি! সেই হাসি চোখের কোণায় সেই দুষ্টুমি! অগ্রজ অনুজ সবার হাহাকারে প্রতিমুহূর্তে অনুভব করেছি স্যার কতটা আমাদের ছিলেন! সেলুলয়েড ফিতা হয়ে চোখের সামনে বার বার ফিরে আসে কত শত স্মৃতি। যার সব স্বপ্নময় কৈশোরের আনন্দমাখা! বাংলা ছবির পোকা নতুন ছবি আসামাত্র দলবেধে হলে। নায়ক জসীমের ছবি হলে...চল ধীরেশ স্যারকে দেখব! ক্লাস পালানোদের পালের গোদা! উপস্থিত বলেই জানালা দিয়ে ঝপাৎ! এই দলের সবাইকে স্যার চিনতেন! এমসি কলেজের ক্লাসগুলো দৌড়ে দৌড়ে করতে হত! এক ডিপার্টমেন্ট থেকে আরেক ডিপার্টমেন্টে। ছাত্ররা আসার আগেই স্যার ডায়েসে।মেয়েদের বেঞ্চের ঠিক সামনে দিয়ে নেচে গ্যালারীতে ঢুকার সময় শিপারকে পাকড়াও করলেন! ইয়েস স্যার বলেই তো লাফ দিবি! কি মনে করেছিস তোকে চিনি না? দড়াম করে পিঠে ঘুষি! ব্যথার চেয়ে মনে হয় ভয়ে কুঁজো হয়ে অজ্ঞানের মত হয়ে গেল। দলবেধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ করি! এভাবে আপনি মারতে পারেন না!
এমসি কলেজের কিংবদন্তী সম প্রিন্সিপাল হাসান ওয়াজেদ স্যারের সামনে স্যার কাঁচুমাচু হয়ে দাড়িয়ে আছেন! কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকা অপ্রস্তুত অসহায়। ও তো আমার ছাত্র সন্তানসম, আমি কি ওকে ব্যথা দিতে পারি! এরকম প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন মানুষকে এভাবে ভেঙ্গে পড়তে দেখে কেমন জানি খারাপ লাগা শুরু হল! উনাকে এভাবে মানায় না! স্যারের সামনে পড়লে কিছুটা অপরাধবোধে ভুগি। বন্ধুরা সবাই আসে তুই কেন মেথ পড়তে আসিস না। স্যার আমি অংকে ভাল না। চট করে সূত্র ধরালেন! কে বলছে তুই পারিস না, কাল থেকে আসবি টাকা পয়সা নিয়ে ভাবিস না! ফোর্থ সাবজেক্ট অংক কি হবে? ক্যাম্পাসে যখন তখন পাকড়াও! অংক যখন পড়বি না তাহলে আমার ক্লাশ থেকে পালাস না কেন? স্যার আপনার কথা শুনতে ভাল লাগে তাই ক্লাশ করি! স্যারের চোখে মুখে মোম গলে পড়ছে!! দেখি তোর সানগ্লাস। বাহ ভারী সুন্দর! রেবেন? এত দামী গ্লাস? স্যার আমার বন্ধু গিফট করেছে।পছন্দ হলে নিয়ে নেন! সাদা হাফ গেঞ্জীতে সুন্দর করে মুছে আবার চোখে পরিয়ে দিলেন! জিন্স হাফহাতা গেঞ্জি মিলিয়ে দেখলাম ঠিক আছে!কখনো ব্লেজার কখনো রংচটা জিন্স শার্ট হাত গুটানো! খুব ভোরে জগিংয়ে পিঠে আলতো চাপড় দিয়ে আমার চেয়ে আরো দ্রুত ধাবমান! তাড়া আছে রে গেলাম। জগিং পার্টনার! তখন একবারের জন্যও মনে হত না ছাত্র শিক্ষক। অসমবয়সী বন্ধু! মাঝে মাঝে মনে হত স্যারের মাঝে কোন না কোন সম্মোহনী শক্তি আছে, নাহলে কেমন করে সবাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন!
সবার জন্য সাগরের মত অতলস্পর্শী ভালোবাসা!দেখা যায় না শুধু অনুভব করা যায়! আমার চেয়ে বেশী ছাত্র রাজনীতি কেউ করেনি! দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে লেখাপড়া শেষ করে এখানে এসেছি! আগে লেখাপড়া, পরে ছাত্র রাজনীতি! নব্বুইয়ের উত্তাল সময়ে প্রতি মুহূর্তে খবর নিতেন তাঁর ছাত্রটি কেমন আছে। নিরাপদ আছে তো! তোর ছোটভাই এত ভাল লেখাপড়ায় তুই এমন কেন? তোর ইচ্ছে হয় না? ঠিক আছে তাহলে আপনি তাকেই মায়া করেন..আমাকে নয়! এই নে কানমলা খা। লেখাপড়া শেষে যখন যেখানে পেয়েছেন জড়িয়ে ধরেছেন! স্যার এমসি কলেজ ছাড়েন নি! সময় সুযোগ পেলেই এক চক্কর। এমসিয়ান দের যেকোন অনুষ্ঠান স্যার হাজির! হাসি আড্ডা মুখর প্রাণশক্তি তে ভরপুর বন্ধু! ম্যাসেঞ্জারে নক এত রাতে কি করিস? স্যার লিখছি। তোর শরীর খারাপ করবে! জগিংয়ে যাস না? বিকালে যাব স্যার, কবি লেখক মানুষ সকালটা অন্যরকম রে! তোর কাজে আসবে! সবাই লিখতে পারে না সিরিয়াসলি লেখালেখি কর। সত্যিই মেথ তোর জন্য ছিলনা! রাতদুপুরে আর কেউ জানতে চাইবে না কি করছিস? চলতি পথে আড্ডায় কান মলে দিবেন না! ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে! কাছে দূরের সবসময়ের অভিভাবক! বুকের মাঝে নিঃসীম শূন্যতা যা কখনো পূরণ হবার নয়! ওপারে ভাল থাকুন স্যার!!
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মধ্যপ্রাচ্যে নারীশ্রমিক প্রেরণ কেন বন্ধ হবে না?
  • ব্যবসার নামে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে
  • কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ
  • বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন
  • সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন ও কিছু কথা
  • শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ মুজাম্মিল আলী
  • আমরা কি সচেতন ভাবেই অচেতন হয়ে পড়ছি?
  • দ্রব্যমূল্যর উর্ধগতি রুখবে কে?
  • আগুনের পরশমনি ছোয়াও প্রাণে
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন
  • দেওয়ান ফরিদ গাজী
  • বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হালচাল
  • সিলেটের ছাত্র রাজনীতি : ঐতিহ্যের পুনরুত্থানের প্রত্যাশা
  • নাসায় মাহজাবীন হক
  • লেবানন : চলমান গণবিক্ষোভের লক্ষ্য ও পরিণতি
  • ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ বিতর্ক
  • ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিকথা
  • শিক্ষক পেটানোর ‘বিদ্যাচর্চা’
  • অভিযান যেন থেমে না যায়
  • পেঁয়াজ পরিস্থিতি হতাশার
  • Developed by: Sparkle IT