সম্পাদকীয়

বিপর্যয়ের শিকার শিশুরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-১১-২০১৯ ইং ০০:৪৮:১৪ | সংবাদটি ১১২ বার পঠিত



বিপর্যয়ের শিকার বাংলাদেশের প্রায় দুই কোটি শিশু। জলবায়ু পরিবর্তনে বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের এক কোটি ৯০ লাখ শিশু। তাদের চার ভাগের এক ভাগের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দেয়া হয়। এতে বলা হয়- জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশে শিশু পুষ্টির জন্যও হুমকি। তাছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে। বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে বহু পরিবার শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছে। আর এই বস্তির শিশুরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজেরাই নিজেদের সুরক্ষা করে থাকে। এই অঞ্চলের শিশুরা বাল্যবিবাহ, সহিংসতা ও নির্যাতনেরও শিকার হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যোগসূত্র থাকা সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর শিকার হচ্ছে শিশুরা।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশুদের নানা কারণে প্রাণ দিতে হচ্ছে। কখনও চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণেও অকাতরে শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। তার ওপর নতুন ঝুঁকি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন। দেশের দুর্যোগ প্রবণ এলাকায় বসবাসরত প্রায় দুই কোটি শিশুর ভবিষ্যৎ পড়েছে হুমকিতে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের আবাদযোগ্য জমিতে লবণাক্ততা, বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে জীবিকার জন্য অনেকেই গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে। ভরণ-পোষণ চালাতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক মেয়ে শিশুকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে পরিবার। ইতোপূর্বে সেভ দ্যা চিলড্রেন-এর দেয়া তথ্যে বলা হয়, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পানিবাহিত রোগ আর খাদ্যাভাবজনিত কারণে বছরে কমপক্ষে আড়াই লাখ শিশু প্রাণ হারাতে পারে। এই হার প্রতি বছর বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করে দেয় এই সংস্থাটি। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশের শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে এবং বাড়বে শিশুশ্রম। তাদের মতে ২১ শতকে বিশ্বে শিশুদের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন।
জলবায়ু পরিবর্তনের নানাবিধ বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য সমস্যার শিকার হচ্ছে তারা। বিশেষ করে, দরিদ্র পরিবারের শিশুদেরই বেশি শংকার মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে। সামর্থ্যরে অভাবে এইসব পরিবারের শিশুদের নানান প্রতিকূলতা থেকে সুরক্ষা করতে পারছে না তাদের অভিভাবকগণ। এই অবস্থায় সরকারকে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ ও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টির যোগান দেয়া। সর্বোপরি অসহায় সামর্থ্যহীন দরিদ্র পরিবারগুলোর আর্থিক দৈন্যতা দূরীকরণের উদ্যোগ নিতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT