সম্পাদকীয়

বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-১১-২০১৯ ইং ০০:৪৪:০০ | সংবাদটি ১১৬ বার পঠিত


বাড়ছে বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার। দেশের সকল ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকা-ে বেড়ে চলেছে বৈধ এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। বিশেষ করে জঙ্গি তৎপরতা, সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি, টে-ারবাজি, জমি দখলসহ অন্যান্য অপকর্মে অস্ত্র প্রদর্শনের মহড়া বাড়ছে। প্রায়ই বুলেটের আঘাতে কেড়ে নেয়া হচ্ছে নিরীহ মানুষের প্রাণ। রাজনৈতিক অঙ্গণে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠায় ব্যবহৃত হচ্ছে অস্ত্র। এইসব অপকর্মে ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধ কিংবা বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। আর অবৈধ কাজে বৈধ লাইসেন্সধারী অস্ত্র ব্যবহৃত হলে এটা আর ‘বৈধ’ হিসেবে পরিগণিত হবে না। বৈধ-লাইসেন্সধারী অস্ত্র সন্ত্রাসীরা ভাড়ায় ব্যবহার করে বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। আর যদি এভাবে বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার হয়ে থাকে, তবে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার বিধান রাখার কোন মানে নেই। তাছাড়া দেশে বৈধ অস্ত্রের চেয়ে অবৈধ অস্ত্রের সংখ্যাই বেশি বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। সর্বোপরি দেশে বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দেশে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত পূরণের নিয়ম থাকলেও বৈসামরিক নাগরিকদের হাতে থাকা বৈধ অস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরকারের কোন দপ্তরে নেই। জেলা প্রশাসকদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় প্রায় দুই লাখ বৈধ অস্ত্রের তথ্য পাওয়া গেলেও এই তালিকাটি চূড়ান্ত নয় বলে জানা যায়। সাধারণত আবেদনকারীর বয়স আয়কর পরিশোধসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণের পর জেলা প্রশাসক বিভিন্ন ধরণের অস্ত্রের লাইসেন্স দিয়ে থাকেন। পিস্তল রিভলবারের লাইসেন্সের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রেরও প্রয়োজন হয়। লাইসেন্স দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাপারে গোয়েন্দা তদন্তও হয়। একজনকে ছোট বড় মিলিয়ে দু’টির বেশি অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয় না। অথচ এইসব শর্ত পূরণ না করেই অনেক সময় দেয়া হচ্ছে অস্ত্রের লাইসেন্স। আবার অনেক সময় রাজনৈতিক বিবেচনায়ও লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে; তাই অপরাধীরাও মালিক হয়ে যাচ্ছে বৈধ অস্ত্রের। আবার অতীতে বিভিন্ন সময় সরকার বদলের পর পূর্ববর্তী সরকারের দেয়া অনেক লাইসেন্স বাতিল হলেও অস্ত্রের কোন হিসাব রাখা হয়নি। সব মিলিয়ে দেশে বিপুল পরিমাণ বৈধ অস্ত্র যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অবৈধ অস্ত্র। আর অনেক বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রই ব্যবহৃত হচ্ছে নানা অপকর্মে।
দেশে বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা কতো এবং এগুলো কোথায়, কী কাজে ব্যবহৃত হয়- তার সঠিক বিবরণ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নেই। বিগত সাত বছরে কমপক্ষে দশ হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের খসড়া মতে দেশে বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা দুই লাখ। এর মধ্যে ২০ হাজারের কোন হদিস নেই। বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার হচ্ছে; মানে বৈধ অস্ত্র দিয়ে চলছে সন্ত্রাসী কর্মকা-। আবার অবৈধ অস্ত্র দিয়ে অপকর্মতো সংঘটিত হচ্ছেই। বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার বন্ধে তৎপর হতে হবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টদের। তাছাড়া, এতো অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে সন্ত্রাসীদের মধ্যে, সেটাও দেখার দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকদের। তারা সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করলে দেশের অপরাধ-অপকর্ম কমে আসবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT