ইতিহাস ও ঐতিহ্য

সিলেটে উর্দু চর্চা

আবদুল হামিদ মানিক প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-১১-২০১৯ ইং ০০:৫৩:০৪ | সংবাদটি ১০২ বার পঠিত


[পূর্ব প্রকাশের পর]
উর্দু ভাষায় লেখা কয়েকটি গ্রন্থ এবং গ্রন্থকারের নাম নমুনা স্বরূপ উল্লেখ করা হলো :
লেখক : মাওলানা আব্দুল কাদির, ১. খুলাসাতুল মাসায়েল (১৮৬৫), মাখুজুল আরেফান মান সানা, আস সুবহান (আগ্রা ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ)।
আশরফ হালী মস্ত্ ( প্রখ্যাত কবি)Ñ ১. আশরাফুল বয়ান ফি হিকমতে ঈমান (১৮৬৩ খ্রি.), ২. রিসালায়ে কুস্তি (১৮৫৭)। হাজী এলাহী বখশ মজুমদারÑ ১. দেওয়ানে হামিদ, ২. তুহফাতুল আহবাব (১৮৪৫), ৩. বুরহানুল মুযাহ হেদিন (১৮৫৩)। আব্দুর রহমান জিয়াÑ আহসানুল আকাইদ (১৩০০ হি. কানপুর)। আব্দুল্লা হানফী চৌধুরীÑ আরাকানে আওলাইন (লক্ষ্মৌ)। মৌলভী আব্দুল করিমÑ তাওয়ারিখে হিন্দ। মাওলানা আনজব আলী শওকÑ গুলদাস্তায়ে শওক (কাব্য)। সৈয়দ আব্দুল বারী সিংকাপনী- সিরাতে মুস্তাকিম, সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুস সমীÑ ছাওয়ানেহে সমী (আত্মজীবনী)। মাওলানা কুতুব উদ্দিন (তালবাড়ী, কানাইঘাট)Ñ ১. ক্বাতফুস সিয়র মিন হাদয়ীন নেসার (জীবনী) পৃ. ২১৬, ২. বাহারে উর্দু ৩ খ-, ৩. মজদুরৌকে হক ইসলাম কি নজর মে। মাওলানা মুহম্মদ মোশাহিদÑ ১. ফতহুল করিম ফি সিয়াসতিন নবিয়িল করিম, ২. আল ফুরকান, পৃ. ১৬০। মাওলানা নেসার আলী (ঝিঙ্গাবাড়ী)Ñ মিসবাহুর রাশাদ শরহে বানাত সুযাদ পৃ. ৬৪, ২. আওরাকে তাজবীদ। মাওলানা মুবাশ্বির আলী দবিরÑ তারিখে জালালী। মাওলানা মছদ্দর আলীÑ ১. মুনতাখাবুল আহাদীস, ২. হিফজে মুসলিম। মাওলানা হরমুজ উল্লা শায়দাÑ মজমুয়ায়ে কালাম (কাব্য)। মাওলানা আব্দুল হকÑ ১. তারিখে ইলমে তাফসির ঢাকা পৃ. ১৬০, ২. হায়াতে ইমাম বোখারী. প্রঃ ঢাকা। মাওলানা উবায়দুল হক (খতিব বায়তুল মোকাররম)) ১. আযহারুল আযহাব শরহে নূরুল আনোয়ার (উসুলে ফিকাহ), প্রঃ ঢাকা, পৃ. ৪৪৪, ২. নশরুল ফাওয়ায়েদ ঢাকা, পৃ. ২২৪, ৩. তারিখে ইসলাম ২ খ- ঢাকা-৯২৮ পৃ., ৪. ছেক্বায়া শরহে বেকায়া ঢাকা ফিক্বহ, পৃ. ৩৮০, ৫. শিয়া সুন্নী ইখতিলাফ পৃ. ৬৪। মাওলানা ইব্রাহিম আলী (ভার্থখলা)Ñ সহল উর্দু আমুজ (৪ খ-, পাঠ্য ছিলো)। মুফতি রহমতুল্লাহ (দরগা মাদরাসা)Ñ ১. হাদীয়াতুল মারজিয়া ঢাকা, পৃ. ২২৪ (আরবি ভাষা চর্চা), ২. জালালী শরহে সিরাজী ঢাকা পৃ. ৮৪, ফবায়েজ, ৩. এফায়াত শরহে মোকামাত ঢাকা ১২০। মাওলানা কমরুদ্দিন (দরগা মাদরাসা)Ñ বুদুরুল হাওয়াশী শরহে উসুলুস শাশী, ঢাকা, পৃ. ১৫৬। মাওলানা শফিকুল হক বুলবুল (দরগা মাদরাস)Ñ নাযলুল মুবাদ শরহে বা নাত সূযাদ, প্রকাশ লাহোর, পৃ. ৯০। মাওলানা শফিকুর রহমান (জকিগঞ্জ, মুহাদ্দিস কিশোরগঞ্জ জামেয়া এমদাদিয়া)Ñ ১. রিসালায়ে তাযকির ও তানীস, ঢাকা পৃ. ৩২, হায়াতে আতহার করাচী, জীবনী পৃ. ৪০০। মাওলানা কাজী ইব্রাহিমÑ আল বিদআত ফি জুইইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ ফিক্বাহ, পৃ. ১৯০। মাওলানা আব্দুল লতিফ ফুলতলীÑ ১. মুনতাখাবুস সিয়র, ২. আনওয়ারুল সালিকিন (১৯৮৪), ৩. আল কওলুল সদিদ, ৪. নালায়ে কলন্দর (কাব্য), মাওলানা ইসহাক (কাজির বাজার মাদরাসা)Ñ দরসে মিশকাত পৃ. ২০৪, ২. দরসে বোখারী, পৃ. ৪৬৪। মাওলানা সালেহ আহমদ সালিক (আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর মাদরাসা)Ñ আমানিউল হাজাহ শরহে ইবনে মাজাহ, পৃ. ১৭৬, ২. মুনিয়াতুল আদব ২ খ-, পৃ: ৩৪৪, ৩. তাসহিলুল মুশকিলাত শরহে সাবে মুআল্লাকাত পৃ. ১৯২। হাফেজ মাওলানা মাহমুদ হোসেন (বিশ্বনাথ মাদরাসা)Ñ বুলুগুল আমানী, শরহে মাকদ্দমা মুখতাসারুল মায়ানী অলংকার শাস্ত্র, পৃ. ৪৬। মাওলানা জালালুদ্দিন (মুফতি দেউলগ্রাম মাদরাসা) মিফতাহুল উলুম ওয়াল ফুনুন, পৃ. ১৬০। মাওলানা রিয়াজ উদ্দিন (কাজিরবাজার মাদরাসা)Ñ লামেউল মারজী, পৃ. ৯৬। মাওলানা শফিকুর রহমান (কাজিরবাজার মাদরাসা)Ñ তানকিহুল লাআলী ফি নজরে তাহাবী, পৃ. ২০০।
এছাড়া হাজী আব্দুল্লা আশুফতা, মাওলানা আব্দুল মুকিত, মাওলানা আব্দুর রশিদ, মৌলবী ইয়াকুব, মাওলানা জুবেদ আলী, মাওলানা মো. কামিল, মাওলানা নজাবত আলী, কাজী মোহাম্মদ হাসান, মৌলবী মোবারক আলী, শামসুল উলামা মুজাহেদ উদ্দিন চৌধুরী, মাওলানা মোহাম্মদ হোসেন, মাওলানা লুৎফুল হক চৌধুরী, মাওলানা সৈয়দ আব্দুল্লা, ফাজিল ফজলে হক, ইব্রাহিম তশ্না প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। আরবি ফারসি গ্রন্থকারদের অনেকের উর্দুতেও প্রকাশনা আছে।
এসব গ্রন্থের একটি বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়। গ্রন্থের ভাষা উর্দু। কিন্তু নামকরণে ফারসি বা আরবির আশ্রয় নেয়া হয়েছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। এর একটি কারণ হচ্ছে এই যে, অতীতে যারা উর্দু চর্চা করেছেন তাদের প্রায় সবাই আরবি ফারসি ভাষাও কমবেশি জানতেন। প্রাচীন গ্রন্থের বেশিরভাগই এখন দুষ্প্রাপ্য। কিছু গ্রন্থের প্রকাশকাল ও প্রকাশের স্থান মুদ্রিত হয়নি। প্রকাশকের নাম ঠিকানাও অনেক ক্ষেত্রে নেই। তবে মুদ্রিত গ্রন্থাদির রচনার মান উন্নত। ছাপার হরফে বই বের করার বিষয়টি অতীতে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হতো। তাই বক্তব্য, ভাষা ও নির্ভুল মুদ্রণ সম্পর্কে লেখকবৃন্দ কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতেন। এ ছাড়া এসব গ্রন্থের বিষয়বস্তুও অত্যন্ত গুরু-গম্ভীর এবং প্রধানত ইলমি বা জ্ঞাননির্ভর। লেখকের কল্পনা বা মনগড়া ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ জুড়ে দেয়ার সুযোগ তাতে নেই। প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে বিভিন্ন পাঠ্য গ্রন্থের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বা শরাহ-এর সংখ্যাধিক্য রয়েছে।
উর্দু ভাষার প্রবীণ লেখকদের অনুসরণে সিলেটে এখনো লেখালেখি হচ্ছে। তবে সৃজনশীল সাহিত্য অর্থাৎ গল্প উপন্যাস কবিতার নজীর প্রায় নেই। মৌলিক রচনার ক্ষেত্রে নব্বই দশকে সিলেট থেকে প্রকাশিত ওয়ারিস আখতার বাঙালির রুবাইয়াত-ই- আখতার বাংগালী উর্দু জানা মহলে সমাদর লাভ করে। জমশেদপুর, ভারতে জন্মগ্রহণকারী, সিলেট সদর গোয়ালগাউ নিবাসী ওয়ারিস আখতারের চুয়াল্লিশটি রুবাই একই সাথে উর্দু এবং বাংলা লিপিতে প্রকাশিত হয়েছে। সাথে আছে বাংলায় কাব্যানুবাদ। এটি ১৯৯১ খ্রি., প্রকাশিত।
রচনার নমুনা : আজ জো বাত হায় ওহ বাত কভি হো কে না হো/ তেরে হাতো মে মেরা হাত কাভি হো কে না হো/ ওয়াক্তে রুখসত তুমহে জী ভরকে দেখলো হামদম/ ফের খোদা জানে মোলাকাত কভি হো কে না হো।
অনুবাদ : নেই কো জানা রইবে কিনা সময়টুকু অদ্যকার।/ কিংবা তোমার হাতের মাঝে এই যে রাখা হাত আমার/ তাই তোমাকে দুচোখ ভরে আশ মিটিয়ে দেখতে দাও/ নেই তো জানা আর কখনো মিলবে কিনা এই দিদার।
উর্দু আরবি ফারসি চর্চার পাশাপাশি অনুবাদকর্ম অতীতে আশানুরূপ হয়নি। সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে বেশ কিছু প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। এ প্রসঙ্গে ঢাকায় বসবাসকারী মাওলানা আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী ও মাওলানা আবদুল মতীন জালালাবাদী জাতীয় পর্যায়ে সুপরিচিত। বিশিষ্ট লেখক ও অনুবাদক আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদীর অনূদিত কয়েকটি গ্রন্থ :
১. নবী চিরন্তন (লেখক : সুলাইমান নদভী, ভাষা- উর্দু, প্রকাশকাল- ১৯৭৫ খ্রি.) পৃ: ১৮৪। ২. জীবন সন্ধ্যায় মানবতা (লেখক : আবুল কালাম আজাদ, ভাষা- উর্দু, প্রকাশকাল- ১৯৭৭/ ১৯৮২, পৃ. ২০৮)। ৩. ভারত যখন স্বাধীন হচ্ছিল (লেখক : আবুল কালাম আজাদ, ভাষা- উর্দু প্রতিভাষ্য, রইস আহমদ জাফরী প্রকাশকাল- ১৯৭৯/ ৮৪, পৃ. ৩৮৮)। ৪. ফাযাইলে রমজান (লেখক : শায়খুল হাদিস মাওলানা যাকারিয়া, ভাষা : উর্দু)।
এছাড়া মাওলানা সাঈদ জালালাবাদীর অনুবাদকর্মের মধ্যে রয়েছে মাওলানা হাকীম আব্দুর রউফের আসাহ হুস সিয়র, সুকর্ণের পতন, ইন্দোনেশিয়ায় ইসলাম প্রচার (৬৫-৬৬), মাওলানা মনসুর নোমানীর মাআরিফুল হাদিস, মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরীর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের শিক্ষা প্রভৃতি।
বিশিষ্ট লেখক ও অনুবাদক মাওলানা আবদুল মতিন জালালাবাদী (জন্ম : ১৯৩৬, উপর ঝিংগাবাড়ী, কানাইঘাট) অনুদিত কয়েকটি গ্রন্থ :

১. ইসলাম মানবতার ধর্ম (লেখক : ড. মুস্তাফা আসসাবয়ী, ভাষা- আরবি, প্রকাশকাল- ১৯৮০ খ্রি.)। ২. ইসলামের অর্থনৈতিক মতাদর্শ ২ খন্ড (লেখক : ড. মুহাম্মদ ইউসুফুদ্দীন, ভাষা- ইংরেজি, প্রকাশকাল- ১৯৮০ খ্রি., ৩. বিশ্বনবীর রাজনৈতিক জীবন (লেখক : ড. মুহাম্মদ হামীদুল্লাহ, ভাষা- উর্দু, প্রকাশকাল- ১৯৮৫ খ্রি.)। ৪. আধুনিক চিন্তাধারা বনাম ধর্ম (ড. অহীদুদ্দিন খান, ভাষা- আরবি, ফার্সি, ইংরেজি, উর্দু মিশ্রিত, প্রকাশকাল- ১৯৮৮ খ্রি.)। ৫. কাসাসুল কুরআন ১ খ- (লেখক : মাওলানা হিফজুর রহমান, ভাষা- উর্দু, প্রকাশকাল- ১৯৯০)। ৬. কাবুল থেকে আম্মান (লেখক : সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী, ভাষা- উর্দু, প্রকাশকাল- ১৯৯৪)
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং-এর আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল হাই এর (কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন) অনূদিত কয়েকটি গ্রন্থ ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।
১. জীবন গড়ার পথে, (মূল : ইংরেজী-সি.ডি. ডোকান, উর্দু- কামাল আহমদ রেজভী, ভাষা-উর্দু, প্রকাশকাল- ১৯৮০ খ্রি., ইসঃ ফাউঃ)। ২. একত্বের নবী (লেখক : আল্লামা সুলায়মান নদভী, ভাষা- উর্দু, প্রকাশকাল- ১৯৮০ খ্রি., ইসঃ ফাউঃ)। ৩. ইসরাইল বনাম, খ্রিস্টান জগত (লেখক : উর্দু ডাইজেষ্ট থেকে, ভাষা- উর্দু, প্রকাশকাল- ১৯৭০ খ্রি.)। (বিএনআর)।
বর্ণিত সবগুলো গ্রন্থই ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকা থেকে প্রকাশিত। এ ছাড়া তাঁর অনূদিত অপ্রকাশিত পা-ুলিপির মধ্যে রয়েছে ‘নকশে দাওয়াম’, আররূহ, তারিখে ইসলাম, খুতবাতে নবভীসহ বিখ্যাত বেশ কিছু গ্রন্থ।
আলেম সমাজে তরুণ প্রজন্মের অন্যতম প্রতিনিধি মাওলানা শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্রন্থের অনুবাদ করেছেন। আল্লামা হোসাইন আহমদ মদনীর নেসাবে তালিম’ দ্বীনি শিক্ষার পথ ও পদ্ধতি নামে প্রকাশিত হয়েছে ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে। এ ছাড়া তাঁর অনুবাদ মাওলানা সাঈদ আহমদ খানের রাহে নাজাত ‘নারী মুক্তির পথ’ নামে ১৯৯৪ খ্রি. এবং তকি ওসমানীর ‘তকলিদ কী শরয়ী হাইছিয়ত ‘মাজহাব কি ও কেন’ (পৃ. ২০০), আল্লামা তকী উসমানীর ‘নূরানী দু’আ পুঞ্জ’ ও মাওলানা মুফতি আমীন পালনপুরীর ‘আযান ও ইকামত’ (২০০০) একই নামে প্রকাশিত হয়েছে।
বিশিষ্ট কলামিস্ট মুহাম্মদ আব্দুল হাকীম তাপাদার কুরআন শরীফের কয়েকটি সুরা ও আয়াতের কাব্যানুবাদ করেছেন যা ১৯৯৩ খ্রি., কাব্য কথায় কুরআনে করীম নামে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া বিখ্যাত কবি মীর্জা গালিবের কবিতার অনুবাদও তিনি করেছেন।
অনূদিত গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনায় দেখা যায় ধর্ম, দর্শন, অর্থনীতি, রাজনীতি, ভ্রমণ কাহিনী, জীবনী বিষয়ক গ্রন্থই বেশি প্রকাশিত হয়েছে। উর্দু গল্প উপন্যাস স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সত্তর দশকের মাঝামাঝি ঢাকা থেকে ব্যাপক হারে প্রকাশিত হতে থাকে। এর আগে উর্দুতে রচিত গ্রন্থাদির বাংলা অনুবাদ হয়েছে খুব কম। কৃষন চন্দর, সাদাত হাসান মান্টোসহ বিশিষ্ট উপন্যাসিক-গল্পকারদের অনুবাদ ঐ সময়ে গ্রন্থাকারে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এর আগে ও পরে সিলেটেও গল্প উপন্যাস প্রবন্ধ নিবন্ধের বাংলা অনুবাদ চর্চা লক্ষ্য করা যায়। অকাল প্রয়াত আব্দুস সোবহান আরিফ (মৃত্যু ২ জুলাই ১৯৮২) দত্ত ভারতীর ‘ইজ্জত’ উপন্যাস অনুবাদ করেন এবং তা প্রকাশিত হয় (১৯৭৪)। তাঁর দ্বিতীয় অনুবাদ প্রকাশনা ‘ইকবালের কবিতা’ মৃত্যুর পর পর ডিসেম্বর ১৯৮২ খ্রি., বের করেন জাগৃতি প্রকাশনীর পক্ষে রাগিব হোসেন চৌধুরী। এটি আল্লামা ইকবালের বহুল পঠিত শেকওয়া ও জওয়াবে শেকওয়ার কাব্যানুবাদ।
সত্তর দশকের মাঝামাঝি আবদুল হামিদ মানিক উর্দু গল্প, প্রবন্ধ নিবন্ধ অনুবাদ করেন যা ঢাকা ও সিলেটের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আশির দশকের মাঝামাঝি কামাল তৈয়ব আরবি কবিতা ও উর্দু গল্প প্রবন্ধের অনুবাদে হাত দেন। ঢাকার পত্র-পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়। কাব্য উপন্যাসের কোনো অনুবাদ গ্রন্থ বের না হলেও অনুবাদ চর্চা এখনো সিলেটে আছে।
তথ্য সূত্র : ১ ও ২ অধ্যাপক মুহম্মদ আসাদ্দর আলীর সংগৃহীত তথ্য। এ ছাড়া এ অধ্যায়ে তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছেন মাওলানা আব্দুল মালিক মোবারকপুরী, ইমাম নয়াসড়ক মসজিদ, দরগা মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আতাউল হক, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীর উপ-পরিচালক মাওলানা শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং এমদাদিয়া লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী মাওলানা নিজাম উদ্দিন।

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জল শতবর্ষ
  • পুরান পাথরের যুগ থেকে
  • সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ বছর
  • চৌধূরী শব্দ ও প্রথার ইতিবৃত্ত
  • ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ
  • ১৩৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী সিলেট স্টেশন ক্লাব
  • একাত্তরের শরণার্থী জীবন
  • সিলেটে উর্দু চর্চা
  • মণিপুরী সম্প্রদায় ও তাদের সংস্কৃতি
  • সিলেটে উর্দু চর্চা
  • মোকাম বাড়ি ও হযরত ইসমাইল শাহ (রহ.)
  • সিলেটে উর্দু চর্চা
  • হবিগঞ্জের লোকসাহিত্যে অধুয়া সুন্দরীর উপখ্যান
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • ঢাকা উত্তর মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়
  • সিলেটে ফারসি চর্চা
  • সিলেটের গণভোটের অগ্রনায়ক মৌলানা ছহুল উসমানী
  • আদিত্যপুরের গণহত্যা
  • জালালাবাদের ইতিহাস ঐতিহ্য
  • বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ
  • Developed by: Sparkle IT