উপ সম্পাদকীয়

সব দুর্ভাবনার অবসান ঘটুক

ইনাম চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-১১-২০১৯ ইং ০০:৫৪:৩৩ | সংবাদটি ৬৮ বার পঠিত

বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে সাকিব আল হাসান একজন অগ্রগণ্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। আজ সেই সাকিব আল হাসানকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে হয়েছে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে। আমাদের দেশে বা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি একটি বড় আঘাত। আইন এবং প্রয়োগ যদি দুটো প্রক্রিয়াই যৌক্তিক হয় তখন সেটিকে হাজার কষ্ঠকর বা অসহনীয় হলেও মেনে নিতে হয়। সাকিব আল হাসানকে বোধ হয় সেই অবস্থানেই যেতে হবে। দেশের বা বিদেশের সকল ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য যেমন সাকিব আল হাসান এর অঘটনটি অনভিপ্রেত তেমনি আমাদের কাছেও এটি অনাকাংখিত। জানিনা আসল ঘটনাটি কি এবং কেনইবা এ জাতীয় বিনামেঘে বজ্রপাতের ঘটনা।
আমাদের দেশেও যেন এমনতরো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশ থেকে সবধরনের লুুটেরা, টগবাজ, কালোবাজারীদের ছেকে তুলতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকার বাহিনী সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজ দলীয় নেতা-কর্মীদের ব্যাপারে যেন খড়গহস্ত হয়ে উঠেছেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে এদের ছেকে তুলতে তিনি নির্দেশ জারি করেছেন। মনে রাখতে হবে তার নির্দেশটি তিনি কার্যকরী করবেনই এবং তা অক্ষরে অক্ষরে। যে বা যারা সরকার দলীয় আবহে অবস্থান করে নতুবা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিকে ব্যবহার করে অনর্থ ঘটিয়েছেন তারা ছাড় পাবেন বলে মনে হয় না। বিভিন্ন মাধ্যমে জনগণের টাকা নয়ছয় হয়েছে এ জাতীয় সংবাদ এখন প্রকাশিত হচ্ছে। সবকিছুই সরকারি কর্তৃস্থানীয়দের নজরদারিতে রয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে বা যাদেরকে সাধারণ মানুষ একেবারে পরিষ্কার চরিত্রের বলে জানতো এবং সেইমত বিবেচনা করতো তাদেরকেও এখন পাওয়া যায় নানা কর্মকান্ডে বিশেষত অর্থকড়ির নয়ছয়ের ব্যাপারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকান্ড আবার দলীয় শৃঙ্খলার বিধান সবকিছুই যাদের কাছে মূল্য হারিয়েছে এদেরকে কখনোই ক্ষমার আওতায় আনা উচিত নয় বলেই মনে করি।
বাংলাদেশের অর্থনীতির কার্যকারিতা যেন স্থবিরতার পর্যায়ে এসে পড়েছে কারণ ব্যাংক, বীমা জাতীয় অর্থকরী প্রতিষ্ঠানসমূহ যেন মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার বা দেউলিয়া হয়ে পড়ার জোগাড় হয়েছে। যে কোন ব্যাংকের নিজস্ব সিন্ধুকটি সবচাইতে বড় আমানত। সেটি যেমন ব্যাংকের কাছে তেমনি সেটি সরকারি দায় দায়িত্বের আওতাধীন অবস্থায়ও বটে। বেশ কিছুকাল ধরেই শোনা যাচ্ছিল এমনতরো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের জাকান্দানী অবস্থার কথা। এটিকে সামাল দিতে ব্যর্থতা ঢাকতে গিয়ে কর্তাব্যক্তিরা কোন সময় বলেছেন লোকসানী কয়েকটি ব্যাংককে একীভূত করে একই প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করবেন। অর্থাৎ ডুবন্ত সবাইকে এক তরীতে তুলে মারার ব্যবস্থা বলতে যা বুঝায়। বেশ কয়েক বছর ধরেই ঋণ খেলাপীদের নিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। কোন সময় বলা হয়েছে এদের নাম উল্লেখ করা যাবে না। আবার কোন সময় বলা হয়েছে এরা দুষ্টু প্রকৃতির লোক সকল, এদের বাগে আনতে বেশ বেগ পেতে হবে। বিশেষ কয়েকটি ব্যাংকের কর্ণধারদের বিস্তারিত দুর্নীতির কাহিনী সপ্রমাণপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নাই। একটি ব্যাংক এর উদ্যোক্তা এবং মালিক যিনি ছিলেন সাবেক একজন সরকারি কর্মকর্তা, পরবর্তীতে একজন মন্ত্রী এবং চূড়ান্তভাবে নীতি নির্ধারক মহলের একজন হর্তাকর্তা বিধাতা। সেই ব্যি ক্তটি পুরো একটি ব্যাংক সেটি ছিলো তার মালিকানায় ।বেং জিম্মায় তিনি সেটা একেবারে খালি করে দেন। বুক ফুলিয়ে এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং বিভিন্ন মহলে বলাবলি হচ্ছে তার ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা যেন না নেওয়া হয় এবং সেটাই হচ্ছে। অন্যদিকে কিছু ঋণখেলাপীকে চিহ্নিত করে বারবার এদের কথাই বলা হচ্ছে আর জনগণের দৃষ্টিকে যেমন বিভ্রান্ত করা হচ্ছে তেমনি জনগণের অর্থ লোপাটকরণ কার্যটিকে বৈধতা দিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রথম রাত্রিতে বিড়াল বধের ব্যবস্থাটি করতে পারলে অবশ্যই এ জাতীয় অঘটন এড়ানো যেতো বলে মনে হয়। একটি ব্যাংক এর প্রতিষ্ঠাকালীন যে বিরাট অংকের আমানত উদ্যোক্তাবৃন্দের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া হলো সেগুলির উৎস সন্ধান করা যেতে পারতো, নতুবা তাদের থেকে এ জাতীয় অর্থের সংস্থান সম্বন্ধে একটি ঘোষণাপত্র নেওয়া যেতে পারতো। বাস্তবে কোন কিছুই করা হয় নাই। সবাইকে ব্যাংক খুলতে ঢালাও অনুমতি দেওয়া হলো এবং পরবর্তীতে বলা হলো বাংলাদেশের অর্থনীতির মতো ছোট আকারের পরিধিতে এতোগুলি ব্যাংক এর কোন প্রয়োজন নাই। আমাদের ধরে নিতে দ্বিধা থাকার কথা নয় যে এ জাতীয় অপকর্মের সুযোগ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য নিয়েই লুটেরা ব্যাংকগুলির কার্যক্রম চালাতে অনুমতি দেয়া হয়েছিলো। আরো পরিষ্কার করে বললে বলতে হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে ম্লান করার মানসেও সেটা করা হতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়। যে মন্ত্রী (সাবেক) আমলা বা সরকারি দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিটি একটি ব্যাংককে খোকলা করে দিলেন তিনি এখন যেমন সদর্পে বিরাজমান তেমনি তাকে বাংলাদেশের সেরা দশজন সম্পদশালী ব্যক্তিত্বদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি একজন নমস্য ব্যক্তি।
আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন ভীতি বা হতাশায় পতিত না হয়ে বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছেন। তিনি একেবারে চিরুনী অভিযান চালাতে মনস্থ করেছেন। তিনি জানেন সরকারি বা উপর মহলের মদদ ছাড়া কখনো এমনতরো কান্ড ঘটতে পারে না। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো বেশ কয়েকদিন আগে আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর নিরাপত্তা ব্যবস্থার চূড়ান্ত অবস্থানে রক্ষিত অর্থ সম্পদ তছরূপ বা নয়ছয় হয়। এটিতে ব্যাংক সব ব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে শতশত কোটি টাকা বিদেশী ব্যাংক এ পাচার করা হয় এবং বিভিন্ন ক্যাসিনোতে সেগুলি হাওয়া করে দেয়া হয়। শোনা যায় সেই অর্থের কিয়দংশ নাকি ফেরত আনা সম্ভব হয়েছিল সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের সহযোগিতার ফলস্বরূপ।
গোদের উপর বিষফোড়ার মতো আমাদের দেশেও যে ক্যাসিনো জাতীয় অর্থ রাশি নিয়ে খেলা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সেটাও নাকি কেউ জানতেন না। এটি ছিল একটি এলাহী ব্যাপার। হাজার হাজার কোটি টাকা নাকি এহাত ঘুরে ওহাত হয়েছে। যে ব্যক্তিটি পিয়ন মর্যাদার চাকুরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছিলো সেও নাকি শত শত কোটি টাকা নির্দিষ্ট মেয়াদের আমানত রেখেছিলো। এদের ঘরে নাকি শত শত কোটি টাকা এমনিতেই রক্ষিত ছিলো একেবারে হেলাফেলায়। এ সকল সমাজ বিরোধীদের একজন নাকি একাধিক সশস্ত্র দেহরক্ষী পরিবেষ্টিত অবস্থায় চলাফেরা করে থাকে। যদিও তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিন্তু বাতাসে এখনও কতো কথা যে ঘুরে বেড়াচ্ছে তার ইয়ত্তা নাই। ইদানিং রাজনীতির অঙ্গনেও যেন টালমাটাল অবস্থা দেখা যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুদ্ধি অভিযান চালানো শুরু করেছেন এবং সেটি আপন রাজনৈতিক আলয় থেকেই। আসলে তিনি অনুধাবন করতে পেরেছেন তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে পূজি করে এ জাতীয় অপকর্ম সাধিত হচ্ছে। অপকর্ম বলতে নানাপ্রকার ফায়দা হাসিল, সরকারি নীতিমালার অবমাননা আবার রাষ্ট্রীয় নানা প্রকার বরাদ্দ হাতিয়ে নেওয়া জাতীয় গর্হিত কর্মসমূহ। এদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য করা হয়েছে কারণ সকল দুর্নীতিবাজ একাট্টা হয়ে সবকিছু লুটেপুটে খাওয়ার ব্যবস্থা প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছিলো। ক্যাসিনো সা¤্রাজ্যের স¤্রাট বলে খ্যাত ব্যক্তিটি মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যতিত আর সবাইকেই কেনা যায়। এই বক্তব্যটির সত্যতাটি এখন আমাদের কাছে প্রতিভাত হচ্ছে। তথাকথিত নীতি, আদর্শধারী ব্যক্তিবর্গের অপচ্ছায়াও আমরা দেখতে পাচ্ছি। তৃণমূল পর্যায়েও আজকে ঘুনপোকা ধরেছে। তাদের ভাষ্যটি পরিষ্কার আধপেটা খেয়েও রাজনীতির কঠিন পরীক্ষা উতরিয়ে এসেছি এখনতো আমাদের কিছু পেতে হবে আর না হলে উপর মহলে যে হরিলুট চলছে সেটিকেই সত্য বলে মেনে নিতে হবে। সিলেটের বিশ্বনাথের আতীকোনার আব্দুল গাফফার উমরা মিয়া যেমন বৃক্ষপ্রেমিক তথা প্রকৃতি প্রেমিক তেমনি ত্যাগী ও আদর্শবানদের জয় হোক। অকৃতি লভেতে লাঞ্চনা।
লেখক : কলামিস্ট।

 

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মধ্যপ্রাচ্যে নারীশ্রমিক প্রেরণ কেন বন্ধ হবে না?
  • ব্যবসার নামে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে
  • কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ
  • বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন
  • সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন ও কিছু কথা
  • শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ মুজাম্মিল আলী
  • আমরা কি সচেতন ভাবেই অচেতন হয়ে পড়ছি?
  • দ্রব্যমূল্যর উর্ধগতি রুখবে কে?
  • আগুনের পরশমনি ছোয়াও প্রাণে
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন
  • দেওয়ান ফরিদ গাজী
  • বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হালচাল
  • সিলেটের ছাত্র রাজনীতি : ঐতিহ্যের পুনরুত্থানের প্রত্যাশা
  • নাসায় মাহজাবীন হক
  • লেবানন : চলমান গণবিক্ষোভের লক্ষ্য ও পরিণতি
  • ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ বিতর্ক
  • ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিকথা
  • শিক্ষক পেটানোর ‘বিদ্যাচর্চা’
  • অভিযান যেন থেমে না যায়
  • পেঁয়াজ পরিস্থিতি হতাশার
  • Developed by: Sparkle IT