সম্পাদকীয়

গৃহকর্মী নির্যাতন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-১১-২০১৯ ইং ০০:৫৫:১৭ | সংবাদটি ১৩২ বার পঠিত

বছরে অর্ধশত গৃহকর্মী নিহত হয় নির্যাতনে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জরিপের তথ্যে এটি। অথচ সরকার ২০২১ সালের মধ্যে শিশুদের সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যে ২০২০ সালের মধ্যে এক লাখ শিশুকে পুনর্বাসন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গৃহকর্মী নির্যাতন বন্ধে সরকার আইন করেছে; অথচ সেটা কার্যকর নেই। তাই গৃহকর্মী নির্যাতন নিপীড়নের মাত্রা বেড়ে চলেছে। বাড়ছে নির্যাতনে মৃত্যুর হারও। দেখা গেছে ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৭ বছরের কর্মক্ষেত্রে পাঁচশ’ ১৮ গৃহকর্মী লাশ হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এই সময়ে এক হাজার তিনশ’ ৮৫ গৃহকর্মী কর্মক্ষেত্রে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনসহ হতাহত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে শিশু শ্রম রোধ না হওয়ার অন্যতম কারণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়া এবং সচেতনতার অভাব।
আমরা চাই গৃহকর্মী নির্যাতন, নিপীড়ন আর হত্যার ঘটনা বন্ধ হোক। এটাই সত্যি যে, সমাজের প্রভাবশালীরাই গৃহকর্মীদের নির্যাতন হত্যার জন্য দায়ী। আর এরা অর্থ, বিত্ত ও প্রভাব খাটিতে এই দায় থেকে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। তারা সাধারণত ভয়-ভীতি, হুমকি, আপসরফা ইত্যাদির জন্য চাপ দিতে থাকে নির্যাতিতদের। এভাবেই তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। সাধারণত অভাবের কারণেই গৃহকর্মী হিসেবে কমপক্ষে ২০ লাখ শিশু-তরুণী নিয়োজিত রয়েছে সারাদেশে। এর মধ্যে শিশু গৃহকর্মীর সংখ্যা চার লাখের ওপরে। গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয় খুব কমই; আর এতে সাজা হওয়ার ঘটনা আরও কম। জানা গেছে, গত দশ বছরে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচশ’ মামলা হয়েছে। কিন্তু এতে অপরাধীর সাজা হওয়ার ঘটনা নেই বললেই চলে। সরকার ২০১৫ সালে গৃহকর্মকে ‘শ্রম’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতির খসড়া অনুমোদন করে। এই নীতিতে গৃহকর্মীদের সুরক্ষা, কল্যাণ, অবকাশ বিনোদন, ছুটিসহ সুষ্ঠু ও মর্যাদাসম্পন্ন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই নীতির কোন প্রয়োগ নেই।
গৃহকর্মী হিসেবে শিশুদের নিয়োগ দেয়া যাবেনা। শ্রম আইন অনুযায়ী শিশুর বয়স ১৪ বছর হওয়ার আগে তাকে কোন ধরনের কাজে নিয়োগ দেয়া নিষিদ্ধ। অথচ দেশে আট থেকে ১৩ বছরের শিশু গৃহকর্মীর সংখ্যাই বেশি। তাছাড়া, এদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ শারীরিক আঘাতের শিকার হয়। আর ৩৫ দশমিক ৫১ শতাংশ মানসিক সমস্যায় ভোগে। এদের ৮২ দশমিক ৬৮ শতাংশ কখনও বিদ্যালয়ে যায়নি। গৃহকর্মী নির্যাতন বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরী। শিশু গৃহকর্মী নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে সবার জন্য বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা যায়। সর্বোপরি, সামাজিক সচেতনতা গৃহকর্মী সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT