বিশেষ সংখ্যা

রবীন্দ্রনাথের হাতে ১২শ’ টাকার চেক দিয়েছিলেন এক সিলেটি

সেলিম আউয়াল প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-১১-২০১৯ ইং ০০:৫৬:৫১ | সংবাদটি ৩৬ বার পঠিত

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের হাতে ১২শ’ টাকার একটি চেক তুলে দিয়েছিলেন এক সিলেটি। সেটি ছিলো রবীন্দ্রনাথের সিলেট সফরের এক যুগ পর, আজ থেকে প্রায় ৮৮ বছর আগে। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ‘বিচিত্রা' নামের বাড়ির দোতলায় রবীন্দ্রনাথের হাতে ‘দুর্গতদের দুঃখহরণের জন্য’ ১২শ টাকার চেকটি তুলে দিয়েছিলেন সিলেটের একজন কবি। তার নাম অশোক বিজয় রাহা। সেদিনের তরুণ কবি প্রচন্ড আবেগে নিজের লেখা একটি কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথকে। ‘নমস্কার’ নামের সেই কবিতাটি ছিলো রবীন্দ্রনাথকে নিবেদিত।
রবীন্দ্রনাথের সত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষে সিলেটে গঠিত হয়েছিলো ‘রবীন্দ্রজয়ন্তী পরিষদ’। এই পরিষদের পক্ষ থেকে চেকটি প্রণামী হিসেবে কবিকে নিবেদিত হয়। আর পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে অশোক বিজয় রাহা রবীন্দ্রনাথের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। তখন তরুণ এ কবির বয়স একুশ বছর। পোস্টাফিসের গোলযোগের জন্যে টাকা পাবার সংবাদ অশোক বিজয় রাহার কাছে না পৌছায় তাকে রবীন্দ্রনাথ দ্বিতীয়বার একটি টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন। টেলিগ্রামটি ছিলো-

Santiniketan

To Ashokebijoy Raha

khadimnagar

Sylhet.

Already Acknowledged donation

Letter follows, My repeated thanks.

__Rabindranath Tagore

অশোক বিজয় রাহা ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ নভেম্বর সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কিশোর বয়েস থেকে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি শিল্পসাহিত্য-কবিতার সাথে জড়িয়ে ছিলেন। প্রকাশিত হয়েছে তার ১০টি কবিতার বই। নির্বাচিত কবিতার সংকলন শ্রেষ্ঠ কবিতা ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে বেরিয়েছে। পত্রাষ্টক নামে আত্মজৈবনিক গদ্যগ্রন্থ এবং বাণীশিল্পী অবনীন্দ্রনাথ (১৯৭৩) নামে সমালোচনাগ্রন্থ বেরিয়েছে। কবি অশোক বিজয় রাহার কিশোর বয়সের কবিতা পড়ে রবীন্দ্রনাথ প্রশংসা করেছিলেন। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ আরো দুবার তার ভালো লাগার কথা লিখেছিলেন কবির কবিতা পড়ে।
অশোক বিজয় রাহা ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে এমসি কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্সসহ ¯œাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে সিলেটের প্যারীমোহন পাবলিক একাডেমি স্কুলে তার শিক্ষকতার সূচনা। শিক্ষকতার ধারাবাহিকতায় ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগে যোগ দেন এবং স্থায়ীভাবে শান্তিনিকেতনে বসবাস শুরু করেন। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বভারতী থেকে অবসর নেন। শান্তিনিকেতনে পূর্বপল্লীর ‘সুরাহা’ নামের নিজের বাাড়িতে স্ত্রী সুপ্রীতি রাহাকে নিয়ে বাকী জীবন কাটান। বাড়ির নামটি রেখেছিলেন তার স্ত্রীর নামের সাথে মিলিয়ে।
১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে কবি অশোক বিজয় রাহা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার খাদ্যনালীতে ক্যান্সার ধরা পড়ে। সেপ্টেম্বরে অবস্থার অবনতি হলে শান্তিনিকেতনের পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। এ হাসপাতালেই ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যে ৬টায় তার জীবনের অবসান হয়।

 

শেয়ার করুন
বিশেষ সংখ্যা এর আরো সংবাদ
  • সিলেট ও রবীন্দ্রনাথ
  • দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ
  • রবীন্দ্রনাথ ও মাছিমপুরের মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া
  • রবীন্দ্রনাথের হাতে ১২শ’ টাকার চেক দিয়েছিলেন এক সিলেটি
  • বাঙালির শোক ও বেদনার দিন
  • ইতিহাসের চোখে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড
  • দাবায়ে রাখতে পারবা না
  • কুরবানি : ইতিহাসের আলোকে
  • রক্তিম সূর্য
  • খুঁজে ফিরি সেই লেইছ ফিতা
  • কুরবানি ও কয়েকটি মাসআলা
  • সত্য ও ন্যায়ের পক্ষেই আমাদের দৃঢ় অবস্থান
  • আমার লেখকস্বত্তার অংশীদার
  • এই জনপদে ঐতিহ্যের ধারক সিলেটের ডাক
  • প্রিয় কাগজ, সাহসী কাগজ
  • পাঠকের প্রিয় সিলেটের ডাক
  • পাঠকনন্দিত সিলেটের ডাক
  • সিলেটের ডাকের তিন যুগ
  • সিলেটের ডাকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে
  • সিলেটের ডাক : আলোর দিশারী
  • Developed by: Sparkle IT