সম্পাদকীয় যে আত্মাকে বিকশিত করতে পেরেছে সে-ই ভাগ্যবান এবং যে ব্যক্তি আত্মাকে কলুষিত করেছে সে-ই অপদস্থ। -আল হাদিস

নদীর তীর সংরক্ষণ ব্যয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-১১-২০১৯ ইং ০০:৫৩:০৭ | সংবাদটি ৯৬ বার পঠিত

ব্যয় বাড়ছে নদীর তীর সংরক্ষণ বা রক্ষা কাজে। খবরটি একটি জাতীয় দৈনিকের। নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ হয় সারা বছর। আর এতে ব্যয় হয় কোটি কোটি টাকা। আর সময়ে সময়ে বেড়ে যায় এর ব্যয়। কিন্তু ব্যয় বাড়লে কী হবে, এতে খুব একটা ভালো ফল আসছেনা। অর্থাৎ নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে নদীর তীররক্ষা হচ্ছে না স্থায়ীভাবে। বরাদ্দের বেশীরভাগ অর্থই গচ্ছা যাচ্ছে। বরং সরকারী অর্থের মোটা অংশই লুটপাট হচ্ছে। খবরে প্রকাশ নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। বছর ব্যবধানে এসব কাজে কিলোমিটার প্রতি খরচ বেড়েই চলেছে। ব্যয়ের ক্ষেত্রে নেই কোন সমন্বয়। সুরমা নদীর উভয় তীরের ভাঙ্গণরোধে নেয়া। প্রকল্পের সাথে চলমান প্রকল্পে কিলোমিটার ব্যয় ব্যবধান ১১ কোটি টাকার বেশী। সমাপ্ত প্রকল্পের চেয়েও এই ব্যয় অনেক বেশি। পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পুরনো। এই দুর্নীতি ও লুটপাটের মাত্রা বাড়ানোর জন্যই প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে বুদ্ধিজীবি মহলের ধারণা।
নদীভাঙ্গন একটি নিয়মিত ঘটনা এদেশে। ছোট বড় প্রায় সাড়ে সাতশ’ নদীতে ভাঙ্গন হয় সারা বছরই। এটা একটি প্রাচীন ও ভয়াবহ সমস্যা। নদী ভাঙ্গন এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা সারা বছরই নানা গতিতে অব্যাহত থাকে। আর এই নদী ভাঙ্গনে প্রতিবছর গৃহহীন হচ্ছে আড়াই লাখ মানুষ। বিগত পাঁচ বছরে নদী ভাঙ্গনে সারা দেশে ভূমি বিলীন হয়েছে সাত লাখ একরের বেশি। এ সময় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সোয়া কোটি মানুষ। অর্থনৈতিকভাবে দেশের ক্ষতি হয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
জানা যায়, দেশে ৮৫টি শহর ও বন্দরসহ দু’শ ৮৩টি স্থানে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে ভাঙ্গন দেখা দেয়। তবে এই ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণে সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী। দেখা গেছে, যে প্রক্রিয়ায় এবং যে ধরণের দ্রব্য ব্যবহার করে নদীর তীর সংরক্ষণ করতে বলা হয়, বাস্তবে সেটা করা হয় না। সংশ্লিষ্টরা বরাদ্দ অর্থ লুটপাট করার জন্য সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে না। এভাবে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের বেশিরভাগ অর্থই আত্মসাৎ হচ্ছে।
নদীভাঙ্গন রোধের নামে যে লুটপাটের মহোৎসব চলছে তা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু কীভাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। প্রকল্প গ্রহণ থেকে শুরু করে সবস্তরেই হচ্ছে দুর্নীতি। সরকারী কর্মচারী থেকে শুরু করে ঠিকাদার পর্যন্ত লুটপাটের চক্র তৈরী হয়েছে। এরা ইচ্ছে মতো প্রকল্পের ব্যয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে সরকার থেকে বরাদ্দ আনছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ পকেটস্থ করছে। সরকারের চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হবে বলেই আমরা আশা করছি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT