উপ সম্পাদকীয়

দায়িত্ব পালনে হতে হবে সৎ ও নিষ্ঠা

ইয়াছির আরাফাত প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-১১-২০১৯ ইং ০০:৫৬:১৬ | সংবাদটি ৯৯ বার পঠিত

মানুষের ব্যক্তি জীবনে প্রভাব বিস্তার করে থাকা বিশেষ কিছু উপাদানের ভেতর অন্যতম হলো দায়িত্ববোধ। দায়িত্ব হলো ব্যক্তির ওপর প্রাকৃতিক উপায়ে নির্ধারিত করণীয় বিষয়, যা আপনাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। ব্যক্তি ও কর্মজীবনের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে দায়িত্ব নামক অদৃশ্য এই বস্তুটির উপস্থিতি পাওয়া যায় না। দায়িত্ব নামক অদৃশ্য বস্তুটি জীবনচক্রের সঙ্গে পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত। একজন মানুষের ওপর আস্থা রাখা নির্ভর করে সে কতটা দায়িত্ববান তার ওপর। দায়িত্ববান মানুষ সহজেই সবার আস্থা অর্জন করে থাকে। ফলে সর্বস্তরে গৃহীত, সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়। ব্যক্তি জীবনে কে কতটা সুখী, সেটা নির্ভর করে তার দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার ওপর। মানুষ কর্মজীবনে কী পরিমাণ উন্নতি করবে, সেটা তার দায়িত্বশীল কর্মের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। তবে আমাদের দেশে কর্মক্ষেত্রের শ্রেণি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে বেশ তারতম্য লক্ষণীয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন, তারা নিজ দায়িত্বের প্রতি বেশি যতœশীল হয়ে থাকে। কারণ এখানে একদিকে যেমন জবাবদিহিতা থাকে অন্যদিকে থাকে পদোন্নতি ও ছাঁটাই ভীতি।
অপরদিকে সরকারি/ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা না থাকা ও চাকরিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকায় দায়িত্ব পালনে যে যার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ অবহেলা করছে, সাধ্যানুযায়ী দিচ্ছে ফাঁকি। গত ১০ অক্টোবর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এক শিশুর ভাঙা পা রেখে ভালো পায়ে প্লাস্টার করা হয়েছে। কারণ, হিসেবে জানা গেছে জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিত্সক না থাকায় ওয়ার্ড বয় ভুলবশত ভালো পায়ে প্লাস্টার করেছে। শুনতে খারাপ লাগলেও একথা সত্য যে, বর্তমানে বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা নিজ প্রতিষ্ঠানের ক্লাস বাদ দিয়ে প্রাইভেট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্লাস করাতে যাচ্ছেন বাড়তি ইনকামের জন্য। নৈতিকতার কতটা অবনতি হলে জনগণের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত পুলিশের কাছে জনগণ জিম্মি হতে পারে। আবার জনগণের সেবা করার ব্রত নিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের প্রতি দায়িত্ব ভুলে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি। দেশের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভেতরে বর্তমানে এই প্রবণতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এর সঙ্গে একটি বিষয় যুক্ত করতে চাই সেটি হলো, সরকারি বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা চাকরির পাশাপাশি নিজেরা আলাদা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে বসেছে। নিজ কর্মস্থলে সময় না দিয়ে ব্যবসাকে সমৃদ্ধ করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, কিছুদিন আগে একটি দরকারি কাজের জন্য সরকারি এক প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে জানলাম দায়িত্বরত প্রকৌশলী মাসে পাঁচ-ছয় দিন অফিসে আসেন কিন্তু কবে, কখন আসেন সেটা সেখানকার অধীনস্থরা বলতে পারেন না। কিন্তু উচিত ছিল আগে নিজের কর্মস্থলের যথাযথ দায়িত্ব পালনের পর যদি সম্ভব হয় তাহলে অন্য কোথাও সময় ব্যয় করা। তবে ব্যতিক্রমও যে কেউ নেই তা নয়, কিন্তু সংখ্যাটা খুব নগণ্যই হবে। আমরা একই ব্যক্তি কিন্তু ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন রূপ প্রদর্শন করছি। জবাবদিহিতা ও কর্ম হারানোর সম্ভাবনা থাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু বিপরীত চেহারা প্রদর্শন করছি যেখানে জবাবদিহিতা ও কর্ম হারানোর কোনো সম্ভাবনা নেই সেখানে। দেশের উচ্চস্তরের শ্রেণি পেশার মানুষেরা যদি এভাবে মুখোশ আবৃত হয়ে নিজ দায়িত্ব ভুলতে থাকে তাহলে এগিয়ে যাওয়ার যাত্রা সে াতের বিপরীতে যেতে থাকবে, যা কখনো কাম্য হতে পারে না। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা শুধু সরকারকে দায়ী করি এবং সরকারের সমালোচনা করি। কিন্তু দেশটা যে শুধু সরকারের না আমার আপনার সবার এবং সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যেতে পারি, সেটা কেউ ভাবি না। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হওয়ার পরও আমরা অন্যদের থেকে অনেক গুণ পিছিয়ে থাকার মূল কারণ হিসেবে সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনা না করে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ তথা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতায় গুরুত্বহীনতাকে দায়ী করব। দায়িত্ব হলো মানুষের জন্য একধরনের আমানত, সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দায়িত্বে অবহেলা করা কোনোভাবেই উচিত নয়। জাতি হিসেবে আমরা সমালোচনাপ্রিয়। কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাক বা না থাক, কোনো একটা ইস্যু পেলেই বিভিন্ন মোড়ের চায়ের দোকানে, ফেসবুকের নিউজ ফিডে গেলেই বুঝতে পারা যায় নিজের কাজ অপেক্ষা অন্যের সমালোচনা করতে কতটা বেশি উল্লাসিত আমরা।
যে বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো, আত্মসমালোচনা। আপনার প্রতি যে দায়িত্বগুলো রয়েছে, সেটা সঠিকভাবে পালন করছেন কি না যাচাই করুন। আপনার দায়িত্ববোধ দেখে অন্যরা যেন নিজের দায়িত্বও সঠিকভাবে পালনে অনুপ্রাণিত হয়। আপনি হয়ে উঠুন অগ্রপথিক। আপনার পুরস্কার আপনার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছে। দায়িত্বজ্ঞানহীন ও নীতি বিসর্জিত ব্যক্তিরা কখনোই বড়ো কিছু করতে পারেনি। আপনার দয়িত্বজ্ঞান আপনার পরবর্তী অনুসারীদেরও আরো সমৃদ্ধ করবে। আপনাকে নিয়ে যাবে অনন্য এক উচ্চতায়। যদি প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রত্যেকেই নৈতিকতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা হয় তাহলে ব্যক্তি উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে দেশের উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। সুতরাং দেশ এগিয়ে যাওয়ার এই যাত্রায় অংশ নিতে হবে সবাইকে, হতে হবে দায়িত্বপরায়ণ।
লেখক : শিক্ষার্থী

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মধ্যপ্রাচ্যে নারীশ্রমিক প্রেরণ কেন বন্ধ হবে না?
  • ব্যবসার নামে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে
  • কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ
  • বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন
  • সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন ও কিছু কথা
  • শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ মুজাম্মিল আলী
  • আমরা কি সচেতন ভাবেই অচেতন হয়ে পড়ছি?
  • দ্রব্যমূল্যর উর্ধগতি রুখবে কে?
  • আগুনের পরশমনি ছোয়াও প্রাণে
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন
  • দেওয়ান ফরিদ গাজী
  • বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হালচাল
  • সিলেটের ছাত্র রাজনীতি : ঐতিহ্যের পুনরুত্থানের প্রত্যাশা
  • নাসায় মাহজাবীন হক
  • লেবানন : চলমান গণবিক্ষোভের লক্ষ্য ও পরিণতি
  • ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ বিতর্ক
  • ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিকথা
  • শিক্ষক পেটানোর ‘বিদ্যাচর্চা’
  • অভিযান যেন থেমে না যায়
  • পেঁয়াজ পরিস্থিতি হতাশার
  • Developed by: Sparkle IT