প্রথম পাতা

তাফসির

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-১১-২০১৯ ইং ০১:১৮:৫২ | সংবাদটি ১৩১ বার পঠিত
Image

প্রথম উদ্দেশ্য কুরআন তেলাওয়াত : এখানে সর্বপ্রথম প্রণিধানযোগ্য যে, তেলাওয়াতের সম্পর্ক শব্দের সাথে এবং শিক্ষাদানের সম্পর্ক অর্থের সাথে। তেলাওয়াত ও শিক্ষাদান পৃথক পৃথকভাবে বর্ণিত হওয়ায় মর্মার্থ এই যে, কুরআনের অর্থসম্ভার যেমন উদ্দেশ্য, শব্দসম্ভারও তেমনি একটি লক্ষ্য। এসব শব্দের তেলাওয়াত ও হেফাযত ফরয ও গুরুত্বপূর্ণ এবাদত। এখানে আরও একটি প্রণিধানযোগ্য বিষয় এই যে, যারা মহানবী (সা.) এর প্রত্যক্ষ শিষ্য ও সম্বোধিত ছিলেন তাঁরা শুধু আরবি ভাষা সম্পর্কেই ওয়াকিবহাল ছিলেন না, বরং অলংকারপূর্ণ আরবি ভাষার একেকজন বাগ্মী কবিও ছিলেন। তাদের সামনে কুরআন পাঠ করাই বাহ্যতঃ তাদের শিক্ষাদানের জন্য যথেষ্ট ছিলো, পৃথকভাবে অনুবাদ ও ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিলো না। এমতাবস্থায় কুরআন তেলাওয়াতকে পৃথক উদ্দেশ্য এবং গ্রন্থ শিক্ষাদানকে পৃথক উদ্দেশ্য সাব্যস্ত করার কি প্রয়োজন ছিলো? অথচ কার্যক্ষেত্রে উভয় উদ্দেশ্যই এক হয়ে যায়। চিন্তা করলে এ থেকে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উদ্ভব হয়। প্রথম এই যে, কুরআন অপরাপর গ্রন্থের মতো নয়Ñ যাতে শুধু অর্থসম্ভারের উপর আমল করাই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে এবং শব্দসম্ভার থাকে দ্বিতীয় পর্যায়ে; শব্দে সামান্য পরিবর্তন পরিবর্ধন হয়ে গেলেও ক্ষতির কারণ মনে হয় না। অর্থ না বুঝে এসব গ্রন্থের শব্দ পাঠ করা একেবারেই নিরর্থক, কিন্তু কুরআন এমন নয়। কুরআনের শব্দের সাথে বিশেষ বিশেষ বিধি-বিধান সম্পৃক্ত রয়েছে। ফেকাহশাস্ত্রের মূলনীতিসংক্রান্ত গ্রন্থসমূহে কুরআনের সংজ্ঞা এভাবে বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ, শব্দসম্ভার ও অর্থসম্ভার উভয়ের সমন্বিত গ্রন্থের নামই কুরআন। এতে বুঝা যায় যে, কুরআনের অর্থসম্ভারকে অন্য শব্দ অথবা অন্য ভাষায় লিপিবদ্ধ করা হলে তাকে কুরআন বলা যাবে না, যদিও বিষয়বস্তু একেবারে নির্ভুল ও ত্রুটিমুক্ত হয়। কুরআনের বিষয়বস্তুকে পরিবর্তিত শব্দের মাধ্যমে কেউ নামাযে পাঠ করলে তার নামায হবে না। এমনিভাবে কুরআন সম্পর্কিত অপরাপর বিধি-বিধানও এর প্রতি প্রযোজ্য হবে না। এ কারণেই ফেকাহশাস্ত্রবিদদের কুরআনের মূল শব্দ বাদ দিয়ে শুধু অনুবাদ লিখতে ও মুদ্রিত করতে নিষেধ করেছেন। সাধারণ পরিভাষায় এ জাতীয় অনুবাদকে ‘উর্দু কুরআন, বাংলা কুরআন অথবা ইংরেজি কুরআন’ বলা হয়। কারণ, ভাষান্তরিত কুরআন প্রকৃতপক্ষে কুরআন বলে কথিত হওয়ারই যোগ্য নয়।
অর্থ না বুঝে কুরআনের শব্দ পাঠ করা নিরর্থক নয়Ñ সওয়াবের কাজ : একথা বলা কিছুতেই সঙ্গত নয় যে, অর্থ না বুঝে তোতাপাখির মতো শব্দ পাঠ করা অর্থহীন। বিষয়টির প্রতি বিশেষ জোর দেয়ার কারণ এই যে, আজকাল অনেকেই কুরআনকে অন্যান্য গ্রন্থের সাথে তুলনা করে মনে করে যে, অর্থ না বুঝে কোনো গ্রন্থের শব্দাবলী পড়া ও পড়ানো বৃথা কালক্ষেপণ বৈ কিছুই নয়। কুরআন সম্পর্কে তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। কারণ, শব্দ ও অর্থ উভয়টির সমন্বিত আসমানী গ্রন্থের নামই কুরআন। কুরআনের অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা এবং তার বিধি-বিধান পালন করা যেমন ফরয ও উচ্চস্তরের এবাদত, তেমনিভাবে তার শব্দ তেলাওয়াত করাও একটি স্বতন্ত্র এবাদত ও সওয়াবের কাজ।
দ্বিতীয় উদ্দেশ্য গ্রন্থ শিক্ষাদান : রসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম কুরআনের অর্থ সম্পর্কে সমধিক জ্ঞাত ছিলেন। কিন্তু উপরোক্ত কারণেই তাঁরা শুধু অর্থ বোঝে ও তা বাস্তবায়ন করাকেই যথেষ্ট মনে করেননি। বোঝা এবং আমল করার জন্যে একবার পড়ে নেয়াই যথেষ্ট ছিলো, কিন্তু তাঁরা সারা জীবন কুরআন তেলাওয়াতকে ‘অন্ধের যষ্টি’ মনে করেছেন। কতক সহাবী দৈনিক একবার কুরআন খতম করতেন, কেউ দু’দিনে এবং কেউ তিন দিনে কুরআন খতমে অভ্যস্ত ছিলেন। প্রতি সপ্তাহে কুরআন খতম করার রীতি মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিলো। কুরআনের সাত মানযিল এই সাপ্তাহিক তেলাওয়াত রীতিরই চিহ্ন। রসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের এ কার্যধারাই প্রমাণ করে যে, কুরআনের অর্থ বোঝা এবং সে অনুযায়ী আমল করা যেমন এবাদত, তেমনিভাবে শব্দ তেলাওয়াত করাও স্বতন্ত্র দৃষ্টিতে একটি উচ্চস্তরের এবাদত এবং বরকত, সৌভাগ্য ও মুক্তির উপায়। এ কারণেই রসুলুল্লাহ (সা.) কর্তব্যসমূহের মধ্যে কুরআন তেলাওয়াতকে একটি স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছেন। উদ্দেশ্য এই যে, যে মুসলমান আপাততঃ কুরআনের অর্থ বোঝে না, শব্দের সাওয়াব থেকেও বঞ্চিত হওয়া তার পক্ষে উচিত নয়। বরং অর্থ বোঝার জন্যে চেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি, যাতে কুরআনের সত্যিকার নূর ও বরকত প্রত্যক্ষ করতে পারে এবং কুরআন অবতরণের প্রকৃত উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়। (মা’আযাল্লাহ), কুরআনকে তন্ত্র-মন্ত্র মনে করে শুধু ঝাড়-ফুঁকে ব্যবহার করা উচিত নয় আল্লামা ইকবালের ভাষায় ‘সুরা ইয়াসিন সম্পর্কে শুধু এরূপ ধারণা করা সঙ্গত নয় যে, এ সুরা পাঠ করলে মরণোন্মুখ ব্যক্তির আত্মা সহজে নির্গত হয়।’

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • করোনায় মারা যাওয়া সেই নার্সের ছেলের দায়িত্ব নিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনই খুলছে না : প্রধানমন্ত্রী
  • ভার্চুয়ালী শপথের পর সশরীরেও হাইকোর্টের ১৮ বিচারপতির শপথ
  • বাস ভাড়া বাড়লো ৬০ শতাংশ
  • দুই মাস পর ট্রেন চলাচল শুরু
  • সিলেটে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই
  • কতটা প্রস্তুত সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগ
  • ছাতকে লিচুর বাম্পার ফলন বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে পাকা লিচু
  • বিশ্বনাথে করোনা আক্রান্ত ৪৪ জনের মধ্যে ৩৬ জনই পুলিশ সদস্য
  • করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিয়ানীবাজারের ৭৫ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু
  • ‘সাদা পাথর’-এর পাথর লুটপাটে ফের সক্রিয় পাথরখেকো চক্র
  • পেঁয়াজ সর্বনিম্ন ২৮, সর্বোচ্চ ৪৫ সিলেটে নিত্যপণ্যের বিক্রি বেড়েছে
  • অব্যাহত সাফল্যে উদ্ভাসিত স্কলার্সহোম
  • ২০৭টি জিপিএ-৫ নিয়ে সাফল্যের অব্যাহত ধারায় কেন্ট : পাবলিক
  • সাফল্যের ধারায় অনন্য উচ্চতায় ক্যাডেট কলেজ
  • নীল পাখিদের গায়ে সাফল্যের নতুন পালক : ২১৪ জিপিএ-৫
  • পাসের হার ৭৮.৭৯ ভাগ এসএসসি’র ফল
  • ঘোষণা
  • বেড়েছে মাস্ক এবং গ্লাভসের ব্যবহার
  • বিশ্বনাথে ৩৬ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত
  • Image

    Developed by:Sparkle IT