শেষের পাতা

হারে সিরিজে সমতা টাইগারদের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-১১-২০১৯ ইং ০৩:০৪:৪৫ | সংবাদটি ৫০ বার পঠিত

স্পোর্টস রিপোর্টার : জয় পেলেই হতো ইতিহাস। প্রথম ম্যাচের পর সেই আশাও করছিলেন টাইগার সমর্থকরা। তবে, স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে তাদেরই মাঠে জয় পাওয়া যে কঠিন, তা দ্বিতীয় ম্যাচে টের পেলো বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা পুরস্কার জেতা ভারতীয় অধিনায়ক রোহিতের ব্যাটিং তান্ডবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগাররা হেরেছে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। ৪৩ বলে রোহিত খেলেন ৮৫ রানের ইনিংস। তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ এ সমতা বিরাজ করছে। আগামী রোববার নাগপুরে অনুষ্ঠেয় সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি তাই পরিণত হয়েছে অলিখিত ফাইনালে।
ব্যাটিং-বোলিংয়ে নিজেদের ভুল-ত্রুটি তো ছিলই। ২ বার জীবন পেয়েও লিটন দাসের অমনযোগী ব্যাটিং, অপ্রয়োজনীয় শটে মুশফিকের আউট হওয়া এবং ইনিংসের শেষ দিকে চাহিদা মতো রান না তুলতে পারার আক্ষেপ। সাথে ছিল ভাগ্যের ফের।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি নিয়ে ছিল শংকা। ‘মাহা’ সাইক্লোনের প্রভাবে ম্যাচের আগের দিন বৃষ্টি নামে অঝোরে। কিন্তু আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে সত্যি গতকাল সকাল থেকেই দেখা মেলে হাস্যোজ্জ্বল রৌদ্রময় দিনের।
টস জিতে সুবিধা নিতে ভুল করেনি ভারত। কেননা, দ্বিতীয় ইনিংসে বোলারদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় ঘাসে জমা শিশির। রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট এসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে গতকাল টসে জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত। ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৩ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। জবাবে ২৬ বল হাতে রেখে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌছে যায় ভারত। রান তাড়ায় অধিনায়ক রোহিত খেলেন ৪৩ বলে ৮৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। ম্যাচসেরাও হন তিনি।
ফর্মে তাকা রোহিত ব্যাট চালালেও অন্য প্রান্তে শিখর ধাওয়ান খেলছিলেন ঠান্ডা মাথায়। পাওয়ারপ্লে’তে ভারতের করা ৬৩ রানের ৪৬ রানই ছিল রোহিতের ব্যাট থেকে।
এরপর আমিনুলের ওপর চড়াও হন ধাওয়ান। এ দুই ওপেনারকে কোনোভাবেই আটকাতে পারছিলেন না বাংলাদেশের বোলাররা। আফিফের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে অর্ধশতক পূরণ করেন রোহিত। সবচেয়ে বড় ঝড় যায় ইনিংসের দশম ওভার করতে আসা মোসাদ্দেক হোসেনের ওপর। তার প্রথম তিন বলে তিনটি ছক্কা মারেন রোহিত। প্রথম ১০ ওভারেই রান হয়ে যায় বিনা উইকেটে ১১৩। রোহিত-ধাওয়ানের ব্যাট থেকে আসে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চতুর্থবারের মতো শতরানের জুটি।
১১৮ রানের মাথায় আমিনুলের বলে বোল্ড হন ধাওয়ান। ২৭ বলে ৩১ রান করেন তিনি। নিজের পরের ওভার এসে রোহিতের উইকেট নেন আমিনুল। ৮৫ রান করে বিদায় নেন রোহিত। তার ইনিংসে ছিল ৬ চার আর ৬ ছক্কা। এরপর বাকি কাজ সারেন শ্রেয়াস আইয়ার এবং লোকেশ রাহুল। ২৬ বল হাতে রেখেই জিতে যায় ভারত।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগে বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস শুরু করেন লিটন দাস ও মোহাম্মদ নাইম। ইনিংসের প্রথম ওভারে ভারতের পেসার দীপক চাহারের প্রথম পাঁচ বল থেকে মাত্র ২ রান নেন লিটন-নাইম। তবে শেষ বলে লিটন বাউন্ডারি আদায় করলে প্রথম ওভারে ৬ রান পায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ওভারের শুরুতেই আগ্রাসী হন নাইম। বল হাতে ছিলেন ভারতের বাঁ-হাতি পেসার খলিল আহমেদ। প্রথম তিন বল থেকেই তিনটি চার মারেন নাইম। ঐ ওভার থেকে ১৪ রান আসে। তৃতীয় ওভার থেকে মাত্র ৪ রান পায় বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারে ১টি চারে ৭ রান তুলেন লিটন-নাইম। পঞ্চম ওভারে নাইমের দু’টি চারে ১০ রান পায় বাংলাদেশ। তবে ষষ্ঠ ওভারে জীবন পান লিটন। জীবন পেয়ে দু’টি চার আদায় করে নেন লিটন। ফলে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের স্কোরে জমা পড়ে বিনা উইকেটে ৫৪ রান। এসময় লিটন ৪টি চারে ১৭ বলে ২৬ ও নাইম ৫টি চারে ২০ বলে ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।
পাওয়ার প্লে’তে চার বোলার ব্যবহার করেও বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গতে পারেননি ভারতের অধিনায়ক রোহিত। অবশেষে অষ্টম ওভারে বিচ্ছিন্ন হন লিটন-নাইম। রান আউটের ফাঁদে পড়ে ফিরে যান লিটন। ২১ বলে ২৯ রান করেন তিনি। ভেঙে যায় লিটন-নাইমের ৪৪ বলে ৬০ রানের জুটি।
লিটন ফিরলে ক্রিজে নাইমের সঙ্গী হন সৌম্য সরকার। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় ছিলেন তারা। কিন্তু জুটিতে ১৯ বলে ২৩ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি নাইম-সৌম্য। ৩১ বলে ৩৬ রান করা নাইমকে বিদায় দেন ভারতের স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দর।
১১ তম ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় ৮৩ রানে আউট হন নাইম। এরপর ব্যাট হাতে নামেন আগের ম্যাচের হিরো মুশফিকুর রহিম। মুশফিককে সেট হবার সুযোগ দেননি ভারতের আরেক স্পিনার যুজবেন্দ্রা চাহাল। বাংলাদেশের স্কোর শতরানে পৌঁছানোর আগে মুশফিক নিজের নামের পাশে ৪ রান রেখে ফিরেন।
১৩তম ওভারের প্রথম বলে মুশফিককে তুলে নিয়ে ভারতকে খেলায় ফেরানোর পথ তৈরি করেন চাহাল। আর ঐ ওভারের শেষ বলে আবারো উইকেট তুলে নেন চাহাল। এবার চাহালের শিকার হন উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া সৌম্য। উইকেট ছেড়ে মারতে গিয়ে স্টাম্প হন সৌম্য। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২০ বলে ৩০ রান করেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। ফলে ১৩ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১০৩ দাঁড়ায় বাংলাদেশের স্কোর। তাই দুর্দান্ত শুরুর পর ইনিংসের মাঝপথে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
এ অবস্থায় ঘুড়ে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় ছিলো বাংলাদেশ। দলকে স্বপ্ন দেখান অধিনায়ক মাহমুদুুল্লাহ রিয়াদ ও আফিফ হোসেন। রয়েসয়ে এগোতে থাকেন তারা। ৪৩ রানের ব্যবধানে ৪ ব্যাটসম্যানকে হারানোর পথে রুখে দাঁড়ান মাহমুদুল্লাহ-আফিফ। ১৪ থেকে ১৬ ওভার পর্যন্ত কোনো উইকেটের পতন হতে দেননি তারা। তবে ১৭তম ওভারের তৃতীয় বলে বিদায় ঘটে আফিফের। ভারতের খলিলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ব্যাট-বলের সংযোগটা ভালোভাবে ঘটাতে পারেননি আফিফ। তাই কভারে সহজ ক্যাচ লুফে নেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত। ৮ বলে ৬ রান করেন আফিফ। মাহমুদুল্লাহ’র সাথে ২১ বলে ২৫ রান যোগ করেন তিনি।
দলীয় ১২৮ রানে আফিফের বিদায়ের পর ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছুঁড়ে দেয়ার প্রত্যাশায় ছিলো বাংলাদেশ। কারণ তখন উইকেটে ছিলেন মাহমুদুল্লাহ। অন্যপ্রান্তে ১৪ বলে ১৯ রানে ব্যাট করছিলেন তিনি। ইনিংসের শেষ ওভার পর্যন্ত মাহমুদুল্লাহ খেললে, চ্যালেঞ্জিং সম্ভব ছিলো বাংলাদেশের। কিন্তু ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ভুল শট খেলেই বিদায় নিতে হয় মাহমুদুল্লাহকে। ভারতের পেসার চাহারের বাউন্সার বলটি উইকেট ছেড়ে থার্ড ম্যান দিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন টাইগার দলপতি। ফলে ইনিংসের ৯ বল বাকি থাকতে দলীয় ১৪২ রানে মাহমুদুল্লাহকে হারায় বাংলাদেশ। ৪টি চারে ২১ বলে ৩০ রান করেন মাহমুদুল্লাহ।
এরপর শেষ ৯ বল থেকে মাত্র ১১ রান পায় টাইগাররা। ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৩ রান করে বাংলাদেশ। মোসাদ্দেক হোসেন ৯ বলে ৭ ও আমিনুল ইসলাম ৫ বলে ৫ রান নিয়ে ইনিংস শেষ করেন। ভারতের চাহাল ২টি, সুন্দর-খলিল-চাহার ১টি করে উইকেট নেন।

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • দোয়ারাবাজারে অগ্নিকান্ডে ৫ দোকান ভস্মিভূত : ক্ষয়ক্ষতি অর্ধকোটি টাকা
  • লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্যুরিস্ট ক্লাবের শিক্ষা সফর
  • ছাতকে জনপ্রতিনিধি ও সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময়
  • অতিরিক্ত সচিব শিশির রায়’র পরলোকগমণ
  • পোস্টমর্টেম রিপোর্ট স্পষ্ট অক্ষরে লিখতে হাইকোর্টের নির্দেশ
  • সংসদীয় তদন্ত কমিটির আহবায়ক এমপি মানিক
  • কানাইঘাটে সুরমা নদীর ভাঙ্গন পরিদর্শনে পাউবো’র প্রতিনিধি
  • ইমরান আহমদ কারিগরি কলেজ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে উন্নীত হবে --প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
  • তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে জেলা বিএনপি’র দোয়া মাহফিল
  • মিডওয়াইফরা মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমাতে ভূমিকা রাখছে --------------মো. কুতুব উদ্দিন
  • প্রতিবাদ মিছিল করতে গিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৫
  • ১০ দিন ধর্মঘটেও চালের বাজারে প্রভাব পড়বে না, গ্যারান্টি: খাদ্যমন্ত্রী
  • নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ ---বাম গণতান্ত্রিক জোট
  • বিয়ানীবাজারে আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি শিগগির
  • পদ্মা সেতুর ১৬তম স্প্যান স্থাপন
  • গৃহঋণের সর্বোচ্চ সীমা বেড়ে ২ কোটি টাকা
  • মীর নাছিরের ১৩, ছেলের ৩ বছরের সাজা হাই কোর্টে বহাল
  • গবেষণা ছাড়া কোন বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিকভাবে পরিপূর্ণ হয়না ---প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী
  • সরকারের ব্যর্থতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে ----------- নাসিম হোসাইন
  • তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে জেলা বিএনপির দোয়া মাহফিল আজ
  • Developed by: Sparkle IT