পাঁচ মিশালী

কৃষির অগ্রযাত্রার সারথী

খসরু মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-১১-২০১৯ ইং ০০:৪৮:১৫ | সংবাদটি ৫৯ বার পঠিত

বাংলাদেশের উত্তরপূর্ব কোণে অবস্থিত ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি, দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির দেশখ্যাত সিলেটে কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষাদান ও দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে ২ নভেম্বর ২০০৬ সনে তৎকালীন সিলেট সরকারি ভেটেরিনারি কলেজকে ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদে রূপান্তর করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর হতে ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে অপার সম্ভাবনার এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠার মাত্র একযুগেই ভেটেরিনারি, এনিম্যাল ও বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস, কৃষি, মাৎস্যবিজ্ঞান, কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি এবং বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সমন্বয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ¯œাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদ নামে একটি অনুষদও চালু রয়েছে। এই সকল অনুষদের মাধ্যমে কৃষি বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও কৃষিবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কযুক্ত আনুষাঙ্গিক বিষয়ে শিক্ষাদান ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। যুগোপযোগী শিক্ষাদান, পরিবর্তিত বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নব নব কৃষি-প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে তা মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৪৭টি বিভাগে ২৫৫ জন শিক্ষক, ১৫৪ জন কর্মকর্তা, ২১১ জন কর্মচারী এবং প্রায় ৩০০০ শিক্ষার্থী নিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র বাংলাদেশী নয়, বিদেশী শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষা ও গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে। মানসম্পন্ন উচ্চতর শিক্ষাব্যবস্থার নিশ্চয়তা, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বৃহত্তর সিলেটের অনাবাদি ভূমি ও জলাশয়ে খাদ্যশস্য, মাৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ উৎপাদন, স্থানীয় জাতসমূহ সংরক্ষণ এবং সহনশীল কৃষি উন্নয়নের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্র্থীগণ অত্যন্ত যতœ সহকারে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথাযথ উন্নয়নের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানসম্পন্ন বিশ্বমানের দক্ষ কৃষিবিদ, কৃষিবিজ্ঞানী ও জীবপ্রযুক্তিবিদ তৈরি করাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
আধ্যাত্মিক নগরী সিলেট বিভাগীয় শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে ছোট ছোট টিলাবেষ্টিত ৫০ একর এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদীয় ভবন, প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনসহ অন্যান্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। সিলেট-জাফলং-তামাবিল বাইপাস রাস্তার পাশে ১২.২৯ একর ভূমি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিঃস্থ ক্যাম্পাস ও গবেষণা মাঠ গড়ে তোলা হয়েছে।
ছোটবড় টিলা ৫০ একরের মূল ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ছোট্ট ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অক্ষুণœ রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন অনুষদের নিজস্ব ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্র এবং শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধার জন্য আবাসিক হল সমূহ। ছাত্রদের জন্য ৫টি এবং ছাত্রীদের জন্য ২টি আবাসিক হল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্র, রূপালী ব্যাংক, টিচার্স ক্লাব, অতিথি ভবন, ডরমিটরি ভবন, মিনি অডিটোরিয়াম এবং একটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন রয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রফেসর মছলেহ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল, কৃষি মাঠ গবেষণাগার ও একটি মৎস্য হ্যাচারী কমপ্লেক্স রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিন্দ্য সুন্দর স্থাপনাগুলোর মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি নয়নাভিরাম শহীদ মিনার ‘সূর্যালোকে বর্ণমালা’। একটি দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে যা ’বঙ্গবন্ধু কৃষিচত্বর’ নামে পরিচিত। বর্তমান কৃষি, শিক্ষা ও গবেষণা বান্ধব সরকারের গৃহিত বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলেছে যা আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ কৃষিবিদ তৈরিতে যথাযথ ভূমিকা রাখবে।
এখন পর্যন্ত সিকৃবির কৃষি অনুষদ এবং মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে ৮টি করে ১৬টি ব্যাচ বের হয়েছে। এদিকে ভেটেরিনারি, এনিম্যাল অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সস অনুষদ থেকে ইতোমধ্যে ২০টি ব্যাচ বেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে বেরোলো ৬টি ব্যাচ এবং কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ থেকে আরো ৪টি ব্যাচ।
উত্তরপূর্বাঞ্চলের তথা দেশের সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি আশার আলো। সিকৃবির রেজিস্ট্রার মোঃ বদরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানকার গ্র্যাজুয়েটরা শিক্ষা গবেষণার পাশাপাশি শিল্প সংস্কৃতিতে এগিয়ে রয়েছে এবং দেশ বিদেশে মেধার স্বাক্ষর রাখছে।’ সিকৃবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মতিয়ার রহমান হাওলাদার ২০ বছরের একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সকলের সহযোগিতা পেলে সিকৃবিকে সেন্টার অব এক্সসিলেন্স হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT