উপ সম্পাদকীয়

মহানবীর শুভাগমনের ভবিষ্যৎ বাণী

মোঃ আব্দুশ শহীদ নেগালী প্রকাশিত হয়েছে: ১০-১১-২০১৯ ইং ০০:২২:৩৪ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত

মহান আল্লাহ তায়ালা এ পৃথিবীতে মানব জাতির হেদায়েতের জন্য প্রেরণ করেছিলেন এক লক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গাম্বর। এবং তাদের উপর অবতীর্ণও করেছিলেন একশত চারখানা কিতাব। যে কিতাবগুলো মানব জাতির জীবন বিধান। এমন কোন কিতাব নেই, যে কিতাবে পরবর্তী কোন নবী বা রাসুলের জীবন বৃত্তান্ত আলোচনা করা হয়েছে। একমাত্র সকল কিতাব সমূহে আলোচনা করা হয়েছে ছরকারে কায়েনাত প্রিয় রাসুল (সা:) এর মহামূল্যবান জীবন বৃত্তান্ত ও চরিত্রের। এমন কি পবিত্র কুরআন মজিদেও রয়েছে মহানবী (সা:) এর উত্তম চরিত্রের, জন্মকালিন তথ্যাবলি ও বংশ মর্যাদার বিস্তারিত বিবরণ। তিনিই হচ্ছেন একমাত্র বিশ্ববাসীর জন্য ‘রহমত’। সাইয়্যিদুল মুরছালীন, ইমামুল মুরছালিন, ছাইয়্যিদুল কাওনাইনি ওয়াছ ছাক্বালাইন, এ সকল উপাধিতে যে নবী (সা:) কে ভূষিত করা হয়েছে, সে নবী ও রাসুল (সা:) সম্পর্কে পূর্ববর্তী নবী ও রাসুলদের সাথে এবং তাদের উপর নাযিলকৃত কিতাবাদীতে আলোচনা করে প্রিয় রাসুল (সা:) এর সুমহান মর্যাদাকে মহান আল্লাহতালা যথাস্থানেই বহাল রেখেছেন।
মহান রাব্বে কারীম রূহ জগতে সকল পয়গম্বর আলাইহিমুছ ছালামগণকে একত্রিত করে রাসুল (সা:) কে পৃথিবীতে প্রেরণের সুসংবাদ প্রদান করেছেন। যেমন-যখন আল্লাহ তায়ালা নবীগণের কাছ থেকে অঙ্গিকার গ্রহণ করলেন যে, আমি যা কিছু তোমাদেরকে দান করেছি, কিতাব এবং জ্ঞান, অতঃপর তোমাদের নিকট কোন রাসুল (মোহাম্মদ সা:) আসেন, তোমাদের কিতাবকে সত্যায়িত করার জন্য। তখন সে রাসুল (সা:) এর উপর ঈমান আনবে এবং তাঁর সাহায্য করবে। তিনি (আল্লাহ) বলেন, তোমরা কি অঙ্গিকার করছো? এবং এ শর্তে আমার ওয়াদা গ্রহণ করে নিয়েছো? তারা সকল নবীগণ বললেন আমরা অঙ্গীকার করেছি। আল্লাহ তায়ালা বললেন এবার সাক্ষী থাকো, আর আমিও তোমাদের সাক্ষী থাকলাম। (সূরা আল ইমরান ৮১)
এ আয়াতে দু’টি বিষয় স্পষ্ট যে, এদিকে মহান রাব্বুল আলামীন তার প্রিয় হাবীব রাহমাতুল লিল আলামীন রাসুল (সা:) এর আগমনের সুসংবাদ দিচ্ছেন পয়গাম্বরগণের কাছে। অপরদিকে তাঁর উপর ঈমান আনয়ন এবং সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছেন। হযরত ঈসা (আ:) এর সুসংবাদ, হযরত ঈসা রুহুল্লাহ (আ:) তার জাতির কাছে প্রিয় রাসুল (সা:)-এর আগমনের সুসংবাদ প্রদান করেছেন। যেমন-স্মরণ কর যখন মরিয়ম তনয় ঈসা (আ:) বললেন হে নবী ইসরাইল আমি তোমাদের কাছে প্রেরিত আল্লাহর রাসুল। আমার পূর্ববতী তাওরাত কিতাবের আমি সত্যায়নকারী। এবং এমন একজন রাসুলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন, তাঁর নাম আহমদ (সা:) (সূরা সফ ৬) তাওরাত ও ইঞ্জিল কিতাবে প্রিয় রাসুল (সা:) এর পরিচিতি এভাবে বিবৃত হয়েছে (অর্থ) তিনি (মুহাম্মদ সা:) কারো কাছে লেখাপড়া না শিখেও মহাজ্ঞানের অধিকারী হবেন। এটাই নবুয়তের প্রধান সাক্ষ্য। এবং তাঁর অনুসারিরা অর্জন করবেন এক মহান সফলতা। উক্ত বিবৃতির সাথে পবিত্র কালামের একটি আয়াতের সামঞ্জস্য রয়েছে; আয়াত হলো-যারা এই রাসুলে উম্মীর অনুসরণ করে চলে যা তারা তাদের কিতাবে তাওরাত ও ইঞ্জিলে এ রাসুল (সা:) সম্পর্কে লিখিত দেখতে পাচ্ছে। তিনি ভাল কাজের আদেশ দিবেন এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবেন। (সূরা আ’রাফ ১৫৭)
তাওরাত কিতাবে প্রিয় রাসুল (সা:) সম্পর্কে আরও বিবৃত হয়েছে যেমন-(অর্থ) নবী ইসমাইলের বংশ থেকে একজন নবী প্রেরিত হবেন, আল্লাহ তায়ালার বাণী তাঁর উপর নিক্ষেপ করা হবে, আল্লাহ তায়ালা যা কিছু বলবেন প্রচার করার জন্য, তা সবই তাঁর উম্মতের নিকট প্রচার করবেন নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলবেন না। উপরোক্ত বিবৃতির সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে কালামে পাকের দু’টি আয়াতের যেমন (অর্থ) তিনি মুহাম্মদ (সা:) নিজের প্রবৃত্তি হতে কিছুই বলবে না। যা কিছুই বলেন, আল্লাহ পাকের পক্ষ হতে ওহী প্রাপ্ত হয়ে বলেন। যা তার প্রতি ওহী করা হয়ে থাকে। (সুরা নজম ৩-৪)
কা’বে আহবার বলেন, পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব সমূহে রাসুল (সা:) সম্পর্কে বলা হয়েছে।
মুহাম্মদ (সা:) মাওলিদুহু বিমাক্কাতা, ওয়াহিজরাতহু ইয়াসরাব, ওয়ামুলকাহু বিস সাম। অর্থ : রাসুল (সা:) জন্মগ্রহণ করবেন পবিত্র মক্কা নগরীতে। হিজরত করবেন পবিত্র মদিনা শরীফে। এবং তাঁর রাজত্ব হবে সিরিয়া পর্যন্ত।
মহানবী (সা:) এর পূর্ব পুরুষদের ভবিষ্যত বাণী : ইমাম তিবরানী বলেন : রাসুল (সা:) এর একজন সম্মানিত পূর্ব পুরুষ ছিলেন সা’দ বিন আদনান নামে। তখনকার যুগে একজন নবী ছিলেন যার নাম ‘আরমিয়া ইবনে হালকিয়া’। মহান আল্লাহ তায়ালা ঐ নবীকে ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন, সা’দ বিন আদনানের বংশ থেকে জন্মগ্রহণ করবেন খাতামুন নাবিয়্যিন মুহাম্মদ মস্তফা (সা:)। আল্লাহ তায়ালা আরও বললেন যে, বাদশা ‘বখতে নছর’ যেন তার বাহনে করে সা’দবিন আদনানকে সিরিয়ায় নিয়ে যায়। বাদশা ‘বখতে নছর’ আদেশ প্রাপ্ত হয়ে তাই করেন, সা’দ বিন আদনান, সেখানে গিয়ে বসবাস আরম্ভ করেন। (সিরাতে মুস্তা)
নেযার নামে রাসুল (সা:) এর আরেকজন পূর্ব পুরুষ, তার জন্মের পর তার ললাট ছিল নূরে মুহাম্মদিতে উদ্ভাসিত। তার পিতা শুকরিয়া স্বরূপ বিরাট ভূজনের আয়োজন করেন। উপস্থিত অতিথিগণ শিশুকে দেখে মন্তব্য করেন যে, এ বংশ থেকে আগমন করবেন প্রিয় রাসুল (সা:)
কা’ব বিন লুয়াইর ভবিষ্যত বাণী : তিনি রাসুল (সা:) আরেকজন সম্মানিত পূর্ব পুরুষ। যিনি শুক্রবার জুমআর দিন সকল লোকদেরকে একত্রি করার রীতি চালু করেন। প্রত্যেক শুক্রবারে সমবেত লোকদের উদ্দেশ্যে তিনি ভাষণ দিতেন। একদা তিনি ভাষণে বললেন যে আমার বংশেই আগমন করবেন সৃষ্টির শ্রেষ্ট নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা:) যদি তোমরা তার সমকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকো; তাহলে অবশ্যই তোমরা তাঁর উপর ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে। তার ভাষণের শেষে নি¤েœাক্ত কবিতার দু’টি পংক্তি আবৃত্তি করলেন। অর্থ : হায়। যদি আমি জীবিত থাকতাম যখন প্রচার করতেন তার দাওয়াত। যখন কুরাইশরা সরিয়ে নিত তাঁর উপর থেকে সহানুভূতির হাত। হযরত আয়শা সিদ্দীকা (রা:) থেকে বর্ণিত একটি হাদীস যা সিরাতে মস্তফা কিতাবে হযরত ‘ইদ্রীছ কান্দুলুভী’ উল্লেখ করেছেন। এক ইহুদী ব্যক্তি সে তাওরাত ও ইঞ্জিল কিতাবে পারদর্শী ছিল। সে ব্যবসার জন্য পবিত্র মক্কা শরীফে চলে আসে এবং এখানেই বসবাস শুরু করেন। যে মোবারক রাতে রাসুল (সা:) মা আমেনার ঘরে তশরীফ আনেন, সে রাত পুহাতেই ঐ ইহুদী ব্যক্তি কুরাইশদের একটি মজলিসে গিয়ে জিজ্ঞেস করে যে, গত রাতে কুরাইশ বংশে কি কোন ছেলে সন্তান জন্ম গ্রহণ করেছে। তারা জবাব দিল আমরা জানিনা। লোকটি বললো একটু অনুসন্ধান করে দেখুন। লোকটির পেরেশানী দেখে তারা অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়লো। সংবাদ আসলো যে, সত্যিই গতরাতে খাজা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিবের ঘরে এক নবজাতকের আগমন ঘটেছে। সে বললো আমাকে সেখানে নিয়ে চলো। তারা ঐ ইহুদীকে নিয়ে গেল, সে শিশু মুহাম্মদ(সা:) এর কাঁধ মোবারকের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বেহুশ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। চেতনা ফিরে আসার পর তাকে এরকম পরিস্থিতির কারণ জিজ্ঞেস করলে, সে বলে যে আমি এ নবজাতকের কাঁধে ‘মহরে নবুয়ত’ দেখে বুঝতে পারলাম আমাদের ইহুদী বংশে আর কোন দিন নবী আসবেনা। আর এ নবজাতকই হচ্ছে শেষ নবী। আমি এ বেদনা সহ্য করতে না পারায় বেহুশ হয়ে যাই।
পাঠকগণ, মহানবী (সা:) এর মিলাদ, সিরাত, শান-মান আলোচনা করা আমি এক অধমের কাছে মহাসাগর থেকে ছোট্ট চামচ দিয়ে পানি উত্তোলনের মত। রহমত ও বরকতের আশায় এ মোবারক মাসে সংক্ষিপ্ত পরিসরে কিছু আলোচনা করলাম।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মধ্যপ্রাচ্যে নারীশ্রমিক প্রেরণ কেন বন্ধ হবে না?
  • ব্যবসার নামে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে
  • কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ
  • বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন
  • সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন ও কিছু কথা
  • শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ মুজাম্মিল আলী
  • আমরা কি সচেতন ভাবেই অচেতন হয়ে পড়ছি?
  • দ্রব্যমূল্যর উর্ধগতি রুখবে কে?
  • আগুনের পরশমনি ছোয়াও প্রাণে
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন
  • দেওয়ান ফরিদ গাজী
  • বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হালচাল
  • সিলেটের ছাত্র রাজনীতি : ঐতিহ্যের পুনরুত্থানের প্রত্যাশা
  • নাসায় মাহজাবীন হক
  • লেবানন : চলমান গণবিক্ষোভের লক্ষ্য ও পরিণতি
  • ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ বিতর্ক
  • ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিকথা
  • শিক্ষক পেটানোর ‘বিদ্যাচর্চা’
  • অভিযান যেন থেমে না যায়
  • পেঁয়াজ পরিস্থিতি হতাশার
  • Developed by: Sparkle IT