উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

হারিয়ে যাচ্ছে মমত্ববোধ

মো. মনজুর আলম প্রকাশিত হয়েছে: ১০-১১-২০১৯ ইং ০০:২৩:৪৪ | সংবাদটি ৯৩ বার পঠিত

মায়া, মমতা, ¯েœহ মানুষের মধ্যে থাকতেই হবে, মানুষের এই মানবীয় গুণ ছাড়া সমাজ চলে না। পরিবার তথা সমাজে পরস্পরের প্রতি মায়া, মমতা থাকা অপরিহার্য। মায়া মমতা থাকলে সমাজ সুন্দর হয়ে চলে। ঝগড়া বিদ্বেষ থেকে অনেক দূরে থাকা যায়। মায়া মমতা কমে গেলে বা এর বিপরীতটা হলে পরিবার তথা সমাজে রাগ গোস্বা, অভিমান লেগেই থাকে। ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে অবিচারও পরিলক্ষিত হয়।
বর্তমানে আমরা দেখি মা বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা বা মমত্ববোধ কমে গেছে, পরিবারে ভাই বোনের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। শিশুদের প্রতি সমাজে অনাচার, নির্যাতন নেমে এসেছে। গৃহের কাজের লোকের প্রতি মায়া দরদ কমে জুলুম নেমে এসেছে। সমাজের যে সামাজিক বন্ধন তা অনেক ক্ষেত্রে নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ এখন আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। সবাই যেন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত এবং নিজের সুখ সুবিধাটুকুই বেশি বুঝে।
পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক বন্ধন, আত্মীয়তা সব যেই ধ্বংস প্রায়। মায়া, মমতা, মিল-মহব্বত যেন উঠে যাচ্ছে। নিতান্তই এক স্বার্থপর সমাজের বা পরিবারের সদস্য যেন আমরা হয়ে যাচ্ছি। মা, বাবা তার সন্তানদের কত কষ্ট করে, কত আদর যতœ করে লালন পালন করেন। সন্তানের কোন আবদার মা-বাবা না মিটিয়ে থাকতে পারেন না। যদি কোন অসচ্ছল মা-বাবা সাথে সাথে আবদারটুকু না মেটাতে পারে না তবে পরে হলেও কষ্ট করে, শ্রম দিয়ে কিংবা ধার করে টাকা এনে সন্তানের আবদার পূর্ণ করে থাকেন।
কিন্তু এ সন্তানই মা বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়। মা বাবা সন্তানের সুখের জন্য, সন্তানকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য মায়া মমতা ভালোবাসা উজাড় করে দেন। সেই সন্তানই কিনা মা বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়! মা বাবার প্রতি বিরক্ত হয়ে, সন্তানের ঘুমের অসুবিধা দেখিয়ে কিংবা আর সহ্য হচ্ছেন। ইত্যাদি বলে বলে মা বাবাকে পাষাণ মনে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো হয়।
নিজে ভালো থাকার জন্য স্ত্রীকে ভালো রাখার জন্য স্বার্থপরের মতো বর্তমানে নিজের মা বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসেন মা-বাবার প্রতি আদরের সন্তানেরা। মা-বাবাকে যখন বলা হয় বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে সেখানে তাদের রাখা হবে, তখন মা বাবা অঝোর ধারায় কাঁদতে থাকেন, একা একা পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে থাকতে পারবেন না বলে জানান তবুও সন্তান বুঝেনা পাষাণ মনে তার কঠিন হৃদয়ের কথা সে জানিয়ে দেয়, না তোমাদের সেখানে যেতে হবে।
মা, বাবা নিরুপায় হয়ে বৃদ্ধাশ্রমে যেতেই হয়। সন্তানের জন্য বাবা গৃহের ব্যবস্থা করেন আগে থেকেই। সে গৃহের মালিক সন্তানের বাবা হওয়া সত্ত্বেও নিজ গৃহ পুত্র, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনি নিয়ে বৃদ্ধ বয়সে মা, বাবার ঠাঁই হয় না। বাবার গৃহে থেকে মা বাবাকে নিজ গৃহ থেকে বের করে দেওয়া কতখানি অমানসিক একটি বারও ভাবেনা সেও একদিন বৃদ্ধ হতে পারে। তার সন্তানরাও তার প্রতি যদি এমন আচরণ করে, মা বাবা কোন ব্যক্তিত্ব নিয়ে পৃথিবীতে থাকেন। সন্তান মা বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে ঠেলে দেওয়ার পরও তারা বলেন তোদের না দেখে থাকতে পারব না। তোমরা এসে দেখা দিও। কি হলো এ সমাজের! কি হলো আজ মানবিকতার! কোথায় গেল মায়া মমতা! সব থাকতেও মা বাবাকে ঘরের বাইরে রাখা হয়। শুধু নিজের নিজের পরিবারের কথাই মাথায় এলো। মা, বাবা এখন পর হলো।
আসলে মানুষের মধ্যে উপলব্দি জ্ঞান ও মনুষ্যত্ব হারিয়ে যাচ্ছে! শিশুরা কতই না হাসি আনন্দের উৎস। শিশুকে দেখে সবারই মনে আনন্দ জাগে। শিশুকে কোলে নিয়ে সবার একটু আদর করতে ইচ্ছে করে। শিশুতো প্রজাপতির মতো সুন্দর। যেন ফুল বাগানের মন আন্দলিত করা ফুল। এ শিশুর উপরও নেমে আসে পৈশাচিক নির্যাতন। আজকাল শিশুরাও যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। একটা ৮/৯ বছরের ছেলে বা মেয়ে যৌন কর্মের সাথে হয়ত পরিচিতও নয়। এসব ক্রিয়া কি বা কেমনে তারা জানার কথা নয় কিন্তু মানুষরূপী পশুরা শিশুকে কাছে টেনে নিয়ে আদরের অভিনয় করে শিশুর না জানা একটা কাজ যৌন পিপাষুরা সম্পাদন করে, নিষ্পাপ শিশু নির্যাতনের মাধ্যমে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে।
শিশুর প্রতিও মানুষের মায়া, মমতা কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে। পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ে শিশু হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন ইত্যাদি। মানুষের মনুষ্যত্ব লোপ পাওয়ার কারণে আমাদের অতি সাবধানে শিশুদের প্রতি খেয়াল রাখতে হচ্ছে।
শিশুকে কি ধরনের মায়া করা হচ্ছে? কেহ শিশুকে কোলে নিয়ে বসাচ্ছে কি না? তাও খেয়াল রাখতে হচ্ছে। আসলে শিশুকে তো মানুষ মায়া করবেই। কিন্তু এখন মায়ার অন্তরালে যৌনতা কাজ করছে বলে শিশুকে অপরের সাথে মিশতে বারণ করা হচ্ছে। শিশুদের সাথে যৌনাচার করে পরে তাকে হত্যা করতেও শোনা যায়। মায়া মমতার পরিবর্তে শিশুর উপর এখন নির্যাতন নেমে এসেছে।
আমাদের গৃহ কাজের লোক বা বুয়ারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত গৃহকর্তা/গৃহকর্তী কর্তৃক। প্রায়ই নির্যাতনের কথা শোনা যায়। নিজ গৃহে যাকে কাজে রাখা হয় সেতো কত কাজ করে থাকে। থালা বাসন ধোয়া, কাপড় ধোয়া, রান্না-বান্না, মাছ-তরকারি কুঠা, ঘরের মেঝে ঝাড়– দেয়া, মেঝে মুছা ইত্যাদি কাজ করে ঘর সুন্দর করে রাখে। গৃহ কাজের লোক থাকায় আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে আমাদের নিজের কাজ ব্যবসা বাণিজ্য অফিস আদালত করতে পারছি। কিন্তু একটু ব্যতিক্রম হলে কাজের লোককে মারধর, কিল, থাপ্পড় খেতে হয়। এমনকি গৃহ মালিক কর্র্তৃক অমানষিক নির্যাতন যেমন গায়ে আগুন দেয়া, লোহা গরম করে গায়ে ছেকা দেওয়ার মত ঘটনাও ঘটছে। যে কাজের লোক বা বুয়া আমাদের এতো উপকার করে তাকে এভাবে নির্যাতন। একবার ভাবা উচিত সেও মানুষ। সেও মায়া মমতা পেতে চায়।
কোনো কোনো পরিবারে ভাই-বোনের মধ্যে কথাবার্ত বন্ধ। মায়া মমতা ভুলে ভাই-বোন মুখ দেখাদেখি বন্ধ। ভাই তার বিবাহিত বোনের বাড়িতে যায় না। সমাজের এসব হৃদয়হীনতা বন্ধ হোক। মায়া মমতায় সমাজ পূর্ণ হোক।

 

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মধ্যপ্রাচ্যে নারীশ্রমিক প্রেরণ কেন বন্ধ হবে না?
  • ব্যবসার নামে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে
  • কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ
  • বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন
  • সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন ও কিছু কথা
  • শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ মুজাম্মিল আলী
  • আমরা কি সচেতন ভাবেই অচেতন হয়ে পড়ছি?
  • দ্রব্যমূল্যর উর্ধগতি রুখবে কে?
  • আগুনের পরশমনি ছোয়াও প্রাণে
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন
  • দেওয়ান ফরিদ গাজী
  • বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হালচাল
  • সিলেটের ছাত্র রাজনীতি : ঐতিহ্যের পুনরুত্থানের প্রত্যাশা
  • নাসায় মাহজাবীন হক
  • লেবানন : চলমান গণবিক্ষোভের লক্ষ্য ও পরিণতি
  • ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ বিতর্ক
  • ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিকথা
  • শিক্ষক পেটানোর ‘বিদ্যাচর্চা’
  • অভিযান যেন থেমে না যায়
  • পেঁয়াজ পরিস্থিতি হতাশার
  • Developed by: Sparkle IT